![]() |
চট্টগ্রাম: ঈদের নামাজ আদায় করতে চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে সমবেত হয়েছিলেন চট্টগ্রামের অধিকাংশ রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
ঈদের মহামিলন চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কিছুক্ষণের জন্য ভুলিয়ে দিয়েছিল। পারস্পরিক অবস্থানগত বৈপরিত্যের কথা ভুলে সোমবার এক কাতারে দাঁড়িয়েছিলেন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আর ঈদের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চট্টগ্রামের দু’জন শীর্ষ রাজনীতিবিদ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান একই সুরে বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, বন্দরকে বাঁচাতে হবে।
দলগতভাবে ভিন্ন অবস্থানে থাকলেও রাজনীতিতে আবদুল্লাহ আল নোমান এবং মহিউদ্দিনের সখ্যতার বিষয় কারও অজানা নয়। তারা নিজেরাও সেটি রাখঢাক না রেখেই বলতেন, একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে হাজির হতেন। মেয়র মহিউদ্দিনের ডাকে অনুষ্ঠানে হাজির হতেন মন্ত্রী নোমান। আর মন্ত্রী নোমানের ডাকে ছুটে যেতেন মেয়র মহিউদ্দিন।
কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন বিষয়ে মতামতের ভিন্নতা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মামা-ভাগ্নে সম্পর্কের নোমান এবং মহিউদ্দিনের সখ্যতায় ফাটল ধরেছে। দু’জনের মধ্যে অতীতের মধুর সম্পর্কের রেশ এখনও না থাকলেও নামাজে নোমান-মহিউদ্দিনও পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলেন। ছিল দু’জনের মধ্যে হাসি, ঠাট্টা, হালকা আলাপচারিতাও।
নামাজ শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বন্দরকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার চক্রান্ত চলছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের নামে দুর্নীতি, লুটপাট চলছে। আর চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা দিনদিন বাড়ছে। চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রাণ। চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’’
চট্টগ্রামবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নোমান আরও বলেন, ‘‘আমি মন্ত্রী থাকার সময়ও কোনো দিন বঙ্গভবনে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে যাইনি। সব সময় আমি চট্টগ্রামেই ফিরে এসেছি। আমি সব সময় চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গেই ঈদ করি।’’
সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র চট্টগ্রামবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবেলা করতে হবে। এ বন্দরকে ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন শক্তি উঠেপড়ে লেগেছে। অতীতের মতো তাদের মোকাবেলা করতে হবে।’’
কিছুদিন আগেও সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছিলেন, পদ্মাসেতুর জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের ফান্ড থেকে টাকা নিয়ে যাবার চেষ্টা হচ্ছে। এটি কোনো ভাবেই উচিৎ হবে না বলেও তিনি মত দিয়েছিলেন।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সহ-সভাপতি ও সাংসদ নূরুল ইসলাম বিএসসি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমিনের বিরোধ কিছুদিন আগেও ছিল তুঙ্গে।
সম্প্রতি জাতীয় শোক দিবসে আলোচিত এ তিন নেতা ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় কর্মসূচি পালনের পর সোমবার ঈদের নামাজে আরেকবার এক কাতারে হয়েছিলেন। এমনকি মহিউদ্দিনের পাশেই ছিলেন বিএসসি। পরস্পরের সঙ্গে হাসি বিনিময়, হাল্কা কথাবার্তা আর নামাজ শেষে আলিঙ্গনও করেছেন এ তিন নেতা।
জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে নামাজে আরও শরিক হয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা এম মনজুর আলম, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মীর মো. নাছিরউদ্দিন, বিএনপি দলীয় সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোছলেম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সোলায়মান আলম শেঠসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতিবিদরা।
এর বাইরে নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নামাজ আদায় করেছেন নগরীর উত্তর কাট্টলীতে নিজের বাড়ির পাশের মসজিদে।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম নামাজ আদায় করেছেন হাটহাজারীর পূর্ব শিকারপুর গ্রামের বাড়ির মসজিদে।
অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার নামাজ পড়েছেন রাউজানের গহিরায় নিজ বাড়িতে।
চট্টগ্রামের অধিকাংশ সাংসদ নিজ এলাকায় নামাজ আদায় করেছেন। অনেক নেতা নগরে নামাজ পড়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন বাবা, মা আত্মীয়-স্বজনের কবর জেয়ারতের জন্য।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৮ ঘণ্টা, আগস্ট ২০, ২০১২
আরডিজি/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর