English
সব খবর      অর্থনীতি     আন্তর্জাতিক     ইচ্ছেঘুড়ি     কপ-১৭     খেলা     জাতীয়     জীববৈচিত্র্য     তথ্যপ্রযুক্তি     পিআইডি পরিক্রমা     প্রবাসের চিঠি     ফিচার     বাংলানিউজ স্পেশাল     বাংলানিউজএক্সক্লুসিভ     বিদ্যুৎ ও জ্বালানি     বিনোদন     মনোকথা     মুক্তমত     রাজনীতি     শিল্প-সাহিত্য     সত‌্যি বিচিত্র!     স্বপ্নযাত্রা     স্বাস্থ্য     

মিরসরাইয়ে ইটভাটার জ্বালানি সরকারি বনায়নের কাঠ!


মু. রিগান উদ্দিন, মিরসরাই প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
মিরসরাইয়ে ইটভাটার জ্বালানি সরকারি বনায়নের কাঠ!

মিরসরাই: মিরসরাইয়ের ১৪টি ইটভাটায় প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে পাহাড়ি ও সামাজিক বনায়নের কাঠ পুড়িয়ে দেদারসে চলছে ইট তৈরির কাজ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি বনায়নের গাছ কেটে, কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরির কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার বেশ কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সবকটি ইটভাটাতেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। দিনের বেলা প্রকাশ্যেই ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ভাটার পাশেই বিশাল স্তুপ করে রাখা হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত সরকারিভাবে সৃজনকৃত পাহাড়ি ও সামাজিক বনায়নের বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ।

এছাড়া মিরসরাইয়ের উপকূলীয় বনাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানের বন উজাড় করে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে ছোট থেকে বৃহৎ সব ধরনের গাছপালা। মিরসরাইয়ের গ্রামীণ সড়কগুলোর সামাজিক বনায়নের গাছপালাও দুর্বৃত্তরা কেটে ইটভাটার মালিকদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। এর ফলে, একদিকে যেমন বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে এই কাট পোড়ানোর ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯ অনুসারে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে পোড়ানোর উদ্দেশ্যে স্তুপ করে রাখা কাঠ সম্পর্কে ভাটায় কর্মরত কর্মচারীদের প্রশ্ন করা হলে কয়লা পোড়ানোর সহায়ক হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা হয় বলে তারা জানান। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

অপরদিকে, উপজেলার বেশিরভাগ ইটভাটা ড্রাম চিমনির নির্মিত। পরিবেশ অধিদপ্তরের জারি করা পরিপত্র (২০ অক্টোবর ২০০৩) অনুযায়ী, ইটভাটায় ১২০ ফুট উঁচু চিমনি স্থাপন করে ইট পোড়ানো কার্যক্রম চালানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মিরসরাইয়ের এসব ইটভাটাতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১০-১২ ফুট উচ্চতার ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে ইটভাটা তৈরি ও পোড়ানো হচ্ছে।

এদিকে অধিকাংশ ইটভাটা গড়ে উঠেছে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে। ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (৪ ধারার ৫ উপধারা) মতে, আবাসিক এলাকা, উপজেলা সদর, ফলের বাগানের আশপাশের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ও পাহাড়ের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে ব্রিকফিল্ড স্থাপন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু উপজেলার ইটভাটাগুলোর অধিকাংশ একেবারে আবাসিক এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে স্থাপন করা হয়েছে।

এতে করে ইটভাটার নির্গত ধোঁয়া অতি সহজেই লোকালয় ও ক্ষেতখামারে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে, বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। আবাসিক এলাকার পাশ ঘেঁষে ইটভাটা স্থাপন হওয়ায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে অনেক আবাসন। ইটভাটা থেকে ইট নেওয়ার সময় গাড়িগুলোর উপরিভাগ ঢাকা না থাকায় সেখানেও নানারকম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এক শ্রেণির অসাধু কর্তারা পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করেই এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

ইটভাটা মালিকদের কাছে সরকারি বনের গাছ বিক্রির ব্যাপারে স্থানীয়দের অভিযোগের সম্পর্কে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বনবিট কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, পাহাড়ি বনায়নের গাছ চুরি রোধ করতে সবকটি পথ বন্ধ করে দিয়েছি। তাই, আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি বা আমার অফিসের কেউই ইটভাটায় গাছ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত নই। এটি একটি চোরাকারবারী চক্রের কাজ।

চট্টগ্রাম বনবিভাগের মিরসরাইয়ের করেরহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লা বাংলানিউজকে বলেন, পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকার সরকারি ও সামাজিক বনায়ন ধ্বংস করে ইটভাটায় কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে জেনেছি। এর সঙ্গে মিরসরাই বনবিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আমরা শিগগিরই খোঁজখবর নিয়ে অভিযুক্ত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

মিরসরাই উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খোকার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান এবং ফোনের লাইন কেটে দেন । পরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৩ ঘন্টা, জুলাই ০৫, ২০১২
সম্পাদনা: শামীম হোসেন, নিউজরুম এডিটর

আগের পৃষ্ঠা
যোগাযোগ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান