![]() |
ঢাকা: সংসদ সদস্যদের জন্য ২ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ল্যাপটপ কেনা হচ্ছে। ল্যাপটপের সঙ্গে দেওয়া হবে ইন্টারনেট মডেমও। আগামী মাসেই এ প্রকল্পে টাকা ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে অর্থ প্রকল্প।
জাতীয় সংসদের কাজে গতিশীলতা আনতে কানেকটিভিটি ও ইন্ট্রানেট অ্যাপ্লিকেশন (আন্ত:সংযোগ) তৈরির কর্মসূচির আওতায় এসব ল্যাপটপ কেনা হবে। আগামী মাসেই এ লক্ষ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সংসদ সচিবালয় ‘সংসদ সদস্যদের কানেকটিভিটি সৃজন ও জাতীয় সংসদে ইন্ট্রানেট অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, আগামী মাস থেকে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারিত আছে। দশ মাস মেয়াদের এ কর্মসূচি শেষ হবে আগামী বছরের জুন মাসে। সংসদ সদস্যদের ই-মেইল অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি এবার জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটে নিজস্ব ওয়েবপেজ তৈরি করা হবে। ওই ওয়েবপেজের মাধ্যমে জনসাধারণ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের টাকা ছাড় দেওয়া বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট খান মো. ইলিয়াস বাংলানিউজকে বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছে, ঈদের পরেই এ প্রকল্পে টাকা ছাড় দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা ছাড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ল্যাপটপ কেনার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে।”
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় জাতীয় সংসদে ইন্ট্রানেট চালু করা হবে। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিল উত্থাপনসহ বিভিন্ন কাগজ-পত্রের সফট কপি পাবেন। ৫টি স্থায়ী কমিটির জন্য পৃথক ওয়েবসাইট তৈরি করা হবে। এর ফলে স্থায়ী কমিটিগুলো তাদের কার্যক্রম সবার জন্য সরাসরি প্রকাশ করতে পারবে এবং যে কোনো বিষয়ে মতামত নিতে পারবে।
জানা গেছে, রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্রথম দফায় প্রকল্প প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তা কিছুটা কাটছাঁট করা হয়। এবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বাজেটই বহাল রাখা হচ্ছে। ওই বাজেটের ওপর নতুন করে আবার কর্মসূচি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
কর্মসূচির প্রস্তাব থেকে জানা গেছে, সংরক্ষিত ৫০ জন নারী আসনের সংসদ সদস্যসহ মোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের জন্য ল্যাপটপ কেনা হবে। মোট ব্যয় করা হবে ২ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩৫০টি ল্যাপটপের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিটি ল্যাপটপের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা।
এছাড়াও সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজে একটি লেজার প্রিন্টার, একটি মাল্টিমিয়া প্রজেক্টর স্ক্রিন, একটি নেটওয়ার্ক সুইচ, একটি ইউপিএস, ৩৫০টি ইন্টারনেট মডেম কেনা হবে। এছাড়া পাঁচটি কমিটির জন্য তৈরি করা হবে ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশনস।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ই-পার্লামেন্টে রূপান্তর করার অংশ হিসেবে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ডিজিট্যাল সংসদ বলতে বোঝাবে, সংসদের সব কর্মকাণ্ডে ডিজিট্যাল প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রতিটি সংসদীয় আসনের বিপরীতে একটি ওয়েবপেজ থাকবে যাতে ওই আসনের পরিচিতি, উন্নয়নের বিবরণ, সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত প্রকল্প এবং এগুলোর অগ্রগতিসহ বিভিন্ন তথ্য রাখা হবে। আর তা সময়ে সময়ে আপডেট করা হবে। এতে সহজেই যে কেউ ওই ওয়েবপেজে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রয়োজনে তা ডাউনলোড করতে পারবেন।
বাংলাদেশ সময় : ১৫৪৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০১২
এআর/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর