![]() |
কলকাতা: তখন ক্লাশ সেভেন-এইটে পড়ি। কলকাতার গড়ের মাঠের ফুটবল দেখতে যাই প্রায় দিনই স্কুল পালিয়ে। ইস্টবেঙ্গলের গোঁড়া সমর্থক। আর আমরা যারা ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক তারা আবার সবাই ঢাকার আবহানীর সমর্থক।
অকালে প্রয়াত মোনেম মুন্না আবহানী থেকে ইস্টবেঙ্গলে খেলতে এসে এই ভালোবাসা যেন আরও বাড়িয়ে তুললেন। তখন ইন্টারনেট নেই, টিভি নেই, আছে সংবাদপত্র তাতেও ঢাকা লীগের খবর নেই। একমাত্র সঙ্গী বাংলাদেশ বেতার। আবহনীর খেলা থাকলেই শুনি। জিতলে আনন্দ লাগে ,হারলে বিষাদ।
সেই সময় সুললিত কণ্ঠে ঢাকা বেতারে ধারাভাষ্য দিতেন একজন। নাম আবদুল হামিদ। তার ধারাভাষ্য শুনে মনে হতো কলকাতার ধারাভাষ্যকারদের থেকে কম যান না। সেই সময় কলকাতায় ছিলেন অজয় বসু, পুষ্পেন সরকারের মতো ধারাভাষ্যের লিজেন্ডরা।
এর অনেক পরে ঢাকায় আমাদের সময়ে কাজ করার সুবাদে সেই ছোটবেলার কণ্ঠ চেনা মানুষটির সাথে আলাপ। আবদুল হামিদ। প্রথম পরিচয়ে গভীর সখ্যতা। বর্ধমানে জন্ম, দেশভাগে জ্বলন্ত যন্ত্রনায় তিনি ও তার পরিবারের সবাই আজ ঢাকাবাসী।
বর্ধমান জেলায় স্কুল জীবনেই ক্রীড়াবিদের খ্যাতি পেয়েছিলেন। দেশভাগ না হলে তার গলা হয়তো আমরা শুনতে পারতাম আকাশবাণীতে। মনে হয়, একদিকে ভালোই হয়েছে, এদেশে থাকলে একুশে পদকের মতো কোনো সম্মান দিয়ে তাকে সম্মানিত করা হতো কিনা সন্দেহ। তার প্রতিভার হয়তো সঠিক বিচার হতো না।
আমার সঙ্গে দেখা হলেই জানতে চান, কলকাতা ফুটবল লীগ, পিকে ব্যানার্জি, চুনি গোস্বামীর কথা।
আমায় বলতেন, ক্রিকেট সব শেষ করল, আমাদের খেলা ফুটবল, কোনো খরচ নেই। শুধু পরিকাঠামো আর সরকারি সদিচ্ছা না থাকার কারণে উঠে গেল।
সব ধরণের খেলার প্রতি তার জ্ঞান আমায় বিস্মিত করেছে বার বার। হকি, তীরন্দাজি, কুস্তি, বক্সিং থেকে তাইকোন্ডো তার নখ দর্পনে। আদ্যপান্ত একজন অজাতশত্রু মানুষ হামিদ ভাই। সব সময় নিচু গলায় কথা বলেন। যতই পরিচিত হোক না কেন বয়সে ছোটদের ‘আপনি’ করে বলেন।
আজ একটি সংবাদপত্রের অনলাইনে পড়লাম, মাস দুয়েক ধরে তিনি অসুস্থ। গত সপ্তাহে তার মেরুদণ্ডের স্পাইনাল কর্ডে টিউমার অপসারণ করা হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তিনি তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
সংবাদটির পড়ার পর পুরানো কথা মনে পড়ে গেল। হামিদ ভাই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। ফিরে আসুন আবার ধারাভাষ্যে। আপনার প্রতীক্ষায় আছি আমরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ০৩, ২০১২
আরডি/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর