English
সব খবর      অর্থনীতি     আন্তর্জাতিক     ইচ্ছেঘুড়ি     কপ-১৭     খেলা     জাতীয়     জীববৈচিত্র্য     তথ্যপ্রযুক্তি     পিআইডি পরিক্রমা     প্রবাসের চিঠি     ফিচার     বাংলানিউজ স্পেশাল     বাংলানিউজএক্সক্লুসিভ     বিদ্যুৎ ও জ্বালানি     বিনোদন     মনোকথা     মুক্তমত     রাজনীতি     শিল্প-সাহিত্য     সত‌্যি বিচিত্র!     স্বপ্নযাত্রা     স্বাস্থ্য     

হাড় কাঁপানো শীতে নাঈমের বস্তাবন্দি জীবন!


মহিউদ্দিন মাহমুদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
হাড় কাঁপানো শীতে নাঈমের বস্তাবন্দি জীবন!
ছবি : রাজিব/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: মোহাম্মদ নাঈম। দুই বছর ধরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে থাকে সে। এর আগে ছিল কমলাপুর রেলস্টেশনে। তার আগে কোথায় ছিল তা সে নিজেই জানে না। নাঈম জানে না, তার বয়স কত? কি তার পরিচয়? তার নামটাই বা কে রেখেছে সেটাও জানে না সে।

লোক মুখে শুনে না‌ঈম শুধু জানে, ছোট বেলায় তার বাবা-মা তাকে রাস্তার আবর্জনার স্তুপে ছুড়ে ফেলে চলে গেছেন। তাকে সম্ভবত একটি বস্তার মধ্যে অথবা ফুটপাতে চটের বস্তার ওপর পাওয়া গেছে বলে অনেকের কাছে সে শুনেছে।

শুক্রবার রাত দুইটার দিকে সদরঘাটে ঘুরতে ঘুরতে দেখা গেল, মাঘের হাড় কাঁপানো শীতে সামান্য ছেড়া সোয়েটার গায়ে দিয়ে একটি প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে নাঈম নামের শিশুটি থর থর করে কাঁপছে। শীতে কাঁপতে কাঁপতে টার্মিনালের পল্টুনের খালি মেঝেতে বস্তার মধ্যে শুয়ে থাকা নাঈমের চোখের তারায় লুকিয়ে থাকা ঘুমও যেন দূর পরবাসে পালিয়ে গেছে।

শীতের দাপটে প্রাণ ওষ্ঠাগত শিশুটি বার বার বস্তার মধ্যেই উঠে বসছে, আবার শুয়ে পড়ছে। তার সে দারুণ অস্থিরতাই প্রমাণ দিচ্ছে, শীতের সঙ্গে লড়াই করে আর পেরে উঠছে না সে।

দিনে ময়লা কাগজ কুড়িয়ে রাখার সামান্য প্লাস্টিকের বস্তাটিই এখন নাঈমের শীত নিবারণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। Naim-

আনুমানিক ৯-১০ বছরের নাঈমের কোনো আত্মীয়-স্বজন কিংবা অভিভাবক না থাকায় এই ছোট্ট বয়সেই সে টোকাইয়ের খাতায় নাম লিখিয়েছে। দিনে কাগজ কুড়িয়ে ৩০-৫০ টাকা আয় হয় তার। এ দিয়েই সে প্রতিদিনকার খাবার-দাবার কিনে খায়। প্রতি বেলা ভাত খেতে তার খরচ হয় ২০ টাকা।

রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে মোটা চালের ভাত-ডাল আর সামান্য তরকারি দিয়েই সে তার খাবার সেরে নেয়। আয়-রোজগারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে দিনে সে কতবার খাবে। শুধুমাত্র খাবার খেতেই প্রতিদিনকার রোজগারের সব টাকা শেষ হয়ে যায় নাঈমের!

হাড় কাঁপানো শীতে বস্তাবন্দি জীবন কাটানো নাঈমের সঙ্গে আলাপকালে শীতের কাঁপুনির মধ্যে অনেক কষ্ট করে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলেছে সে।

নাঈম বলে, ‘‘আগে অনেক কিছু মনে হতো। নানা রকম স্বপ্নও দেখতাম। এখন আর এসব চিন্তা করতে ভালো লাগে না। আসলে আমাদের ভালোভাবে থাকার চিন্তা করে লাভ নেই। আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। এভাবেই আমাদের পথে-ঘাটে থাকতে হবে।’’

সে আরো বলে, ‘‘আগে স্বপ্ন দেখতাম, বড় হলে অন্য অনেকের মতো বড় কিছু হবো। কখনো আবার স্বপ্ন দেখতাম ডাক্তার হবো, শিক্ষিত হবো। এর পর স্বপ্ন দেখতাম লেগুনা, বাস কিংবা সিএনজির ড্রাইভার হবো। রিক্সা চালাবো। এখন আর সেসব ভাবনা খুব একটা আসে না। এখন শুধু কাগজ কুড়াই।’’

আশপাশের বড়দের অপরিবর্তিত অবস্থান তার স্বপ্ন দেখার মন ভেঙ্গে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

নাঈম জানায়, তার মতো আরো অনেক শিশু রয়েছে যারা সদরঘাট, কমলাপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় থাকে।

সদরঘাট টার্মিনাল ঘুরেও দেখা গেছে, নাঈমের মতো আরো অসংখ্য শিশু এখানে রয়েছে। এছাড়া বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের শতাধিক মানুষ এখানে তীব্র শীতের মধ্যে ঠাণ্ডা মেঝেয় শুয়ে-বসে রাত কাটাচ্ছেন। অনেকে সামান্য ছেড়া লুঙ্গি পেছিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। কেউবা পাটের বস্তা জড়িয়ে শীতের কবল থেকে বাঁচতে চাইছেন।

শৈত্য প্রবাহ আর তীব্র শীতে এখানে কুকুর আর মানুষ এক সঙ্গে জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকে। সবাই শীত থেকে বাঁচার চূড়ান্ত চেষ্টা করে সামান্য শীতবস্ত্রকে অবলম্বন করে। আর তারা অপেক্ষায় থাকেন, কখন সকালের সূর্য উঠবে পালাবে শীত।

বাংলাদেশ সময়: ০৭২৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০১৩
এমইউএম/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com

আগের পৃষ্ঠা
যোগাযোগ: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, মিডিয়া হাউজ, প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন
কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান