![]() |
ফরিদপুর: ফরিদপুর-মুকসুদপুর সড়কের নগরকান্দা বাজার এলাকায় স্টিলের জরাজীর্ণ বেইলি ব্রিজের ওপর দিয়েই চলছে ভারী যানবাহন।
এ অবস্থায় যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কা করেছেন স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
পেড়াদিয়া এস এ খাঁন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে জনান, এ সড়কের কুমার নদীতে পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ছিল খেয়া নৌকা। ১৯৯২ সালে কুমার নদীর ওপর একটি ব্রেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ৫ টনের বেশি মালামাল নিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করা কর্তৃপক্ষের নিষেধ থাকলেও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ১৫ থেকে ২০ মেট্রিক টন মালামাল নিয়েও যানবাহন চলাচল করছে।
কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুজ্জামান অনু বাংলানিউজকে জানান, ফরিদপুর-মুকসুদপুর সড়কের নগরকান্দা বাজারের পার্শ্বে কুমার নদীর ওপর বেইলি ব্রিজটি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তবে, ব্রিজের ব্যাপারে এলাকার সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সংস্কার করবেন বলে আলোচনা হয়েছে।
চাঁদহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র রবিউল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, ব্রিজটির পাটাতনের স্টিলের পাতগুলোর জয়েন্ট ছুটে গেছে এবং স্টিলের পাত অনেক স্থানে ভেঙে পড়েছে। ব্রিজটির কয়েকটি স্থানে ঢালাই উঠে গিয়ে স্থানে স্থানে ফাঁকা হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী জাকির হোসেন বাংলানিউজকে জানান, ব্রিজটির নিচে টানাপাতের জয়েন্টগুলোও দুর্বল হয়ে ব্রিজটি পুরোপুরি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এ পথ দিয়ে যানবাহন ও জনসাধারণচলাচল করছে। ব্রিজে ছোটখাটো দুঘর্টনা ঘটেই চলেছে।
অটোবাইক চালক আ. রহিম বাংলানিউজকে জানান, ব্রিজের পাটাতনের স্টিলের পাতের ফাঁকে রিকশাভ্যান, অটোবাইকের চাকা আটকে যায়।
এ সড়কে প্রতিদিন যাতায়াতকারী জেলা আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন ও মো. শওকত আলী শরীফ বাংলানিউজকে জানান, নগরকান্দা বাজার এলাকায় পুরনো ও জরাজীর্ণ বেইলি ব্রিজটির জায়গায় একটি নতুন ঢালাই সেতু নির্মাণের বিষয়ে একাধিকবার জরিপ ও মাপামাপির কাজ সম্পন্ন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।
তারা আরও জানান, এ সেতুটি ভেঙে পড়লে ফরিদপুর-মুকসুদপুর, নগরকান্দা-ফরিদপুর, নগরকান্দা- সালথা, নগরকান্দা-ভাংগা ও ফরিদপুর, ঢাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৫, ২০১৩
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর