![]() |
ঢাকা: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিক ভাবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাচিপ পরিষদের পুরো প্যানেল জয়ী হয়েছেন।
শুক্রবারও চূড়ান্ত ভাবে ঘোষণা দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তবে দেশের ৬৭টি শাখার মধ্যে ৬৬টির অআনুষ্ঠানিক ফলাফলে দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল। শনিবার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রতিপক্ষের তুলনায় স্বাচিপের প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ও মহাসচিব প্রার্থী অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান ৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
এর আগে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের নেতৃবৃন্দ ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভোট গণনার সময় নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন। তবে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশের বিএমএ’র ৬৭টি শাখায় ৩২ হজার ৮শ ৯২ জন চিকিৎসক ৪১ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে নির্বাচিত করতে ভোট দেন। এছাড়া ঢাকায় ১শ ৩৪ জনসহ প্রতি ১শ চিকিৎসকের (বিএমএ সদস্য) জন্য একজন করে কাউন্সিলর রয়েছেন।
সনাতন পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনার কারণে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা দিতে সময় লাগছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশের ৬৭টি শাখার মধ্যে ৬৬টি ফলাফল অ-আনুষ্ঠানিকভাবে জানা গেছে।
ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান পেয়েছেন ১৫ হাজার ৭শ ৬২টি ভোট। তার প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি-জামায়াত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ডা. এ কে এম আজিজুল হক পেয়েছেন ৮ হাজার ২শ ৫৪টি ভোট।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের মহাসচিব প্রার্থী পেয়েছেন ১৪ হাজার ৭শ ৯০ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্ধি ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন পেয়েছেন ৮ হাজার ৬শ ৬০ ভোট।
গণনা শেষ হয়নি এমন অল্প সংখ্যক ভোট দিয়ে এই বিশাল ব্যবধান সামাল দেওয়া সম্ভব নয় । তাই এখন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতাই বাকি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান ও অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান পরিষদের সহ-সভাপতি পদে বিজয়ীরা হলেন ডা. মো. আবদুর রউফ সরদার (ঢাকা মহানগর), ডা. কামরুল হাসান খান (ঢাকা বিভাগ), ডা. মো. কামরুল হাসান সেলিম (বরিশাল), মো. মহসিনুজ্জামান চৌধুরী (চট্টগ্রাম), ডা. শেখ বাহারুল আলম (খুলনা), মো. তবিবুর রহমান শেখ (রাজশাহী), ডা. রোকেয়া সুলতানা (রংপুর) ও ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল ( সিলেট বিভাগ)।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে ডা. এহসানুল কবির জগলুল, যুগ্ম-মহাসচিব ডা. মো. আব্দুল আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. কামরুল হাসান মিলন, দপ্তর সম্পাদক ডা. চিত্ত রঞ্জন দাস, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক ডা. মোল্লা মিজানুর রহমান কল্লোল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ডা. সোহেল মাহমুদ, গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. আহসান হাবীব হেলাল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. আবু হাসেম খান এবং সাংস্কৃতিক ও আপ্যায়ন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন ডা. নীহার রঞ্জন সরকার।
কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের বিজয়ী সদস্যরা হলেন- ডা. চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, ডা. মো. মনিরুজ্জামান ভূইয়া, ডা. মো. মজিবুর রহমান ভূইয়া (আঙ্গুর), ডা. মোহাম্মদ জামাল চৌধুরী, ডা. এ এস এম জাকারিয়া খান, ডা. এম নজরুল ইসলাম, ডা. মোসাদ্দেক আহমেদ, ডা. দেবেশ চন্দ্র তালুকদার, ডা. মো. মুনীরুজ্জামান সিদ্দীকী, ডা. মো. তারিক মেহেদী পারভেজ, ডা. মো. আবু ইউসূফ ফকির, ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, ডা. মো. আব্দুল আজিজ, ডা. অনুপ কুমার সাহা, ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ডা. মোস্তাক আহম্মদ (প্রতীক), ডা. শেখ মো. শফিউল আলম ও ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ।
বাংলাদেশ সময় ০১৫৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর নভেম্বর ৩০, ২০১২
এমএন/সম্পাদনা: শামীম হোসেন, নিউজরুম এডিটর