![]() |
সিলেট: সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতেই তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকার একের পর এক গ্রেনেড ও বোমা হামলা চালিয়েছিল।
গুলশান সেন্টারে মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলার পর দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা সিলেট আসেন। তিনি গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ আহবান করেন। সেই সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকার।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, জোট সরকার শুধু হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। তারা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতার ও হয়রানি করে। গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি বিপুলকে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী আশ্রয় দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপুল ইলিয়াস আলীর মালিকানাধীন আলী কন্সট্রাকশনে চাকরি করতো।
বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ২০০৪ সালের ৭ আগস্ট সিলেটের গুলশান সেন্টারে আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিলো। এই চক্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্ঠা করেছে। তারা ইতোমধ্যে আইভি রহমান, শাহ এএমএস কিবরিয়া সহ অনেক নেতাকে হত্যা করেছে। আহত হয়েছেন অনেক নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন- নিহত মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম আলী ছিলেন দলের একজন নিবেদিত কর্মী। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি দলের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। দলের সকল আন্দোলন সংগ্রামে তিনি রাজপথে ছিলেন সবার আগে।
আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুল আনোয়ারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, এ টি এম হাসান জেবুল, অ্যাডভোকেট রাধিকা রঞ্জন হোম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, তপন মিত্র, অ্যাডভোকেট শেখ মকলু মিয়া, অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামীম আহমদ, জাফর চৌধুরী, প্রদীপ পুরকায়স্থ, অ্যাডভোকেট বেলাল আহমদ, মুসফিক জায়গীরদার, কয়েছ উদ্দিন আহমদ, আব্দুস সোবহান, প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেওয়ার পর ২০০৪ সালের ৭ আগস্ট সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। এ সময় মেয়র বেঁচে গেলেও প্রাণ হারান আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম আলী। আহত হন তৎকালীন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজসহ ২৫/৩০ জন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯২৩ ঘণ্টা, আগস্ট ০৭, ২০১২
এসএ/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর,নিউজরুম এডিটর