[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১৩ জুন ২০১৮

bangla news

এনজিওগ্রাম ব্যবহারে রোজা ভাঙবে কি না?

ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৬-০৪ ২:২১:০৭ পিএম
অপার মহিমার রমজান

অপার মহিমার রমজান

ঢাকা: অপার মহিমার মাস রমজান। আত্মশুদ্ধি-আত্মগঠনের এ মাসে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রমজান মাসকে সঠিকভাবে পালনে করণীয় ও বর্জনীয়সহ নানা বিষয়ে জানার থাকে মুসল্লিদের।

এজন্য মাহে রমজানে বাংলানিউজের বিশেষ আয়োজন ‘আপনার জিজ্ঞাসা’।এই আয়োজনের মাধ্যমে (bn24.islam@gmail.com ঠিকানায় ইমেইল করে) পাঠক তার রমজান বিষয়ক প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারেন উত্তর। পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরিফের আলোকে পাঠকের জিজ্ঞাসার উত্তর দেবেন বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী।

প্রশ্নকর্তা: রুবেল হোসেন, বাবুগঞ্জ, বরিশাল।
প্রশ্ন: রোজা অবস্থায় এন্ডোস্কপি ব্যবহারে রোজার কোনো ক্ষতি হবে কি না চানতে চাই?

উত্তর: এন্ডোস্কপি করার সময় লম্বা চিকন একটি পাইপ রোগীর মুখ দিয়ে পাকস্থলিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়; যার মাথায় বাল্বজাতীয় একটি বস্তু থাকে। নলটির অপর প্রান্ত থাকে মনিটরের সঙ্গে। এভাবে চিকিৎসকরা রোগীর পেটের অবস্থা নির্ণয় করে থাকেন। যেহেতু এন্ডোস্কপিতে নল বা বাল্বের সঙ্গে কোনো মেডিসিন লাগানো হয় না, তাই এর কারণে সাধারণ অবস্থায় রোজা ভাঙার কথা নয়। 

কিন্তু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থেকে জানা ও প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে, এন্ডোস্কপির সময় টেস্টের প্রয়োজনে চিকিৎসকরা কখনও কখনও নলের ভেতর দিয়ে পানি ছিটিয়ে থাকেন; যা সরাসরি রোজা ভঙের কারণ। সুতরাং যদি কারো ক্ষেত্রে পানি বা ওষুধ ভেতরে প্রবেশ করানো ছাড়াই টেস্টটি সম্পন্ন হয় তাহলে তার রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। অন্যথায় রোজা নষ্ট হয়ে যাবে।

এন্ডোস্কপি করা হয় খালি পেটে, তাহলে একজন রোজাদার রোজা অবস্থায় এ টেস্টটি না করাতে পারলে কীভাবে তা করাবে? এ প্রশ্নের জবাবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, এক্ষেত্রে রোগীর পানি পান করতে বাধা নেই। তাই রোগী ইচ্ছা করলে শুধু পানি দ্বারা ইফতার করে টেস্টটি করিয়ে নিতে পারে। এন্ডোস্কপির মতোই মলদ্বার দিয়ে নল ঢুকিয়ে আরেকটি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রেও একই হুকুম প্রযোজ্য হবে।

প্রশ্নকর্তা: আমিনুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর।
প্রশ্ন: এনজিওগ্রাম ব্যবহারে রোজা ভাঙবে কি না?
উত্তর: সাধারণ পদ্ধতির এনজিওগ্রামের কারণে রোজা নষ্ট হয় না।

ইনজেকশন ও ইনসুলিন ব্যবহারের নিয়ম
ইনজেকশনের কারণে রোজা ভাঙে না। এমনিভাবে একজন রোজাদার ইফতারের আগেও ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে পারে। অবশ্য যেসব ইনজেকশন খাদ্যের কাজ দেয় জটিল ওজর ছাড়া তা নিলে রোজা মাকরূহ হবে।

স্প্রে জাতীয় ওষুধ ব্যবহার:
বর্তমানে অ্যারোসল জাতীয় বেশ কিছু ওষুধ দ্বারা বক্ষব্যাধি, হার্ট-অ্যাটাক ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসা করানো হয়ে থাকে। গ্যাস জাতীয় এসব ওষুধ রোগীর মুখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করানো হয়। 

রমজানে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহারের হুকুম বর্ণনা করা হলো:

নাইট্রো গ্লিসারিন:
অ্যারোসল জাতীয় ওষুধটি হার্টের রোগীরা ব্যবহার করে থাকে। জিহ্বার নিচে ২/৩ বার ওষুধ দিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হয়। চিকিৎসকদের মতে, সঙ্গে সঙ্গে ওই ওষুধ শিরার মাধ্যমে রক্তে মিশে যায়। এ হিসেবে এই ওষুধ ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হবে না। তবে রোগীর কর্তব্য হল, জিহ্বার নিচের ওষুধটি দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তা গিলে না ফেলা।

ভেন্টোলিন ইনহেলার:
বক্ষব্যাধির জন্য এ ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। রোগীর মুখের ভেতর এমনভাবে ওষুধটি স্প্রে করতে বলা হয়, যাতে তা সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের দিকে চলে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যনালী হয়ে ওষুধটি ফুসফুসে গিয়ে কাজ করে থাকে। 

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সচিত্র ব্যাখ্যা থেকে এ কথা সুস্পষ্টভাবে বোঝা গেছে, ওষুধটি স্প্রে করার পর এর কিছু অংশ খাদ্যনালীতেও প্রবেশ করে। সুতরাং এ ধরনের ইনহেলার প্রয়োগের কারণে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। 

চিকিৎসকরা বলেছেন, মারাত্মক জটিল রোগী ছাড়া অন্য সবারই সেহরিতে এক ডোজ ইনহেলার নেওয়ার পর পরবর্তী ডোজ ইফতার পর্যন্ত বিলম্ব করার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং রোগীর কর্তব্য হল বিষয়টি তার চিকিৎসক থেকে বুঝে নেওয়া এবং সম্ভব হলে রোজা অবস্থায় তা ব্যবহার না করা। 

অবশ্য যদি কোনো রোগীর অবস্থা এত জটিল হয়, ডাক্তার তাকে অবশ্যই দিনেও ওষুধটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে ওই রোগীর এ সময়ে ইনহেলার ব্যবহার করার অবকাশ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা করে নিতে হবে। 

জবাব প্রদানে: মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
লেখক: বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব; চেয়ারম্যান: বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৫৯ ঘণ্টা, জুন ০৪, ২০১৮
এমএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa