[x]
[x]
ঢাকা, রবিবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ মে ২০১৮

bangla news

খতমে তারাবি পড়াবে বাগেজান্নাতের ১১০ কিশোর হাফেজ

আজিজুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৫-০৬ ৯:১২:১৫ এএম
কোরআন শরিফ পড়তে ব্যস্ত মাদরাসার ছাত্ররা। ছবি: বাংলানিউজ

কোরআন শরিফ পড়তে ব্যস্ত মাদরাসার ছাত্ররা। ছবি: বাংলানিউজ

বেনাপোল (যশোর): এবারের রমজানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন মসজিদে খতমে তারাবির নামাজ পড়ানোর জন্য বেনাপোলের জামিয়া আরাবিয়া বাগেজান্নাত কাওমি মাদ্রাসায় প্রস্তুত করা হচ্ছে ১১০ কিশোর হাফেজকে। শুদ্ধভাবে তারাবির নামাজ পড়াতে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, তাই প্রতিবছরের মতো এবারও মাদ্রাসাটিতে দিন-রাত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এই কোমলমতি ছাত্ররা। 

মাদ্রাসাটিতে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ে প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীদের বিনয়ী আচরণ। তাদের মধ্যে দেখা যায় অতিথি আপ্যায়নের স্বতঃস্ফূর্ত মনোভাব। এদের সবার বয়স ১১ থেকে ১৫’র ভেতর। কোমলমতি শিশু-কিশোরদের কণ্ঠে এমনভাবে কোরআনের ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছিল যেন জান্নাত থেকে ভেসে আসছে এ সুর। 

স্থলপথে ভারতের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের প্রধানদ্বার বেনাপোল স্থলবন্দর। তাই দু'দেশ দেশের মানুষ এ বন্দর দিয়ে অবাধ যাতায়াত করে। বাণিজ্যের স্বার্থে দেশের প্রথম সারির অনেক মানুষের বসবাস এখানে। বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। জামিয়া আরাবিয়া বাগেজান্নাত কাওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা এরকমই একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

ভারত থেকে বাংলাদেশ প্রবেশের পথেই যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশেই রপ্তানি টার্মিনালের বিপরীতে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি। একইসঙ্গে এখানে রয়েছে বাগেজান্নাত এস্তেকবালি জামে মসজিদ। মসজিদটির বয়স প্রায় ৭০ বছর। মাদ্রাসা ও এতিমখানা স্থাপিত হয় ১৬ বছর আগে।জামিয়া আরাবিয়া বাগেজান্নাত কাওমি মাদ্রাসা। ছবি: বাংলানিউজমসজিদটি শুধু ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচিত না, বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা মানুষের আশ্রয়স্থলও বটে। বিশেষ করে যারা বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসেন তারা প্রথমে এ মসজিদটিতে এসে আশ্রয় নেন এবং গন্তব্যের বিষয়ে তথ্য-পরামর্শ সংগ্রহ করেন। বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের উপস্থিতিতে তখন সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও রমজান মাস উপলক্ষে এ মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মানুষের দান করা অর্থে পরিচালিত মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিভিন্ন বয়সের প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্র রয়েছে। এদেরমধ্যে ৩৫০ জন মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত। 

মসজিদের ইমাম আলহাজ মওলানা মুফতি সাইদুল বাশার বাংলানিউজকে জানান,  রমজান মাসে দেশের মসজিদে মসজিদে খতমে তারাবির নামাজ পড়ানো হয়। কিন্তু অনেকসময় ভালো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাফেজ না থাকায় নির্ভুল ভাবে নামাজ আদায়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি মাথায় রেখে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে তারাবির নামাজ পড়াতে সক্ষম এমন কিছু হাফেজ ছাত্রকে তৈরি করা হচ্ছে। কেউ চাইলে সম্মানী দিয়ে মসজিদে নামাজ পড়ানোর তাদের জন্য নিযুক্ত করতে পারবেন।

হাফেজ ছাত্র আব্দুল্লা (১৩) বাংলানিউজকে  জানায়,  এবারই সে প্রথম তারাবি নামাজ পড়াবে। তাই কিছুটা ভয় কাজ করছে তার মনে। তবে তার বিশ্বাস এ কাজে সফল হবে সে। এছাড়া নামাজ পড়ানোর সুযোগ পাওয়ায় নিজেকে সৌভাগ্যবানও মনে করছে আব্দুলা। মাদ্রাসার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নিজের জন্য দোয়া কামনা করে এই কিশোর। 

বাগেজান্নাত মাদ্রাসা ছাড়াও বেনাপোলের মাহাবুবা হক এতিমখানাসহ বেশ কয়েকটি এতিমখানা রয়েছে। ধর্মীয় সুশিক্ষায় বহু ছাত্র বেড়ে উঠছে এসব প্রতিষ্ঠানে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯০৮ ঘণ্টা, মে ০৬, ২০১৮ 
এজেডেএইচ/এনএইচটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa