[x]
[x]
ঢাকা, রবিবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৯ নভেম্বর ২০১৭

bangla news

তাজিকিস্তানের মুসলমানরা স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা করেন

ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-১১-১৪ ৬:২৭:২৭ পিএম
তাজিকিস্তানের একটি মসজিদ

তাজিকিস্তানের একটি মসজিদ

দক্ষিণ-পূর্ব মধ্য এশিয়ার স্থলবেষ্টিত প্রজাতন্ত্র তাজিকিস্তান। দেশটির উত্তরে কিরগিজস্তান, উত্তর ও পশ্চিমে উজবেকিস্তান, পূর্বে গণচীন এবং দক্ষিণে আফগানিস্তান। দেশের সর্ববৃহৎ শহরটির নাম দুশানবে, এটি তাজিকিস্তানের রাজধানী। 

১ লাখ ৪৩ হাজার ১শ’ বর্গকিলোমিটার আয়তনের তাজিকিস্তান ১৯২৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের অঙ্গ হয়ে যায়। তবে ১৯৯১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফের স্বাধীনতা লাভ করে। 

প্রায় ৯০ শতাংশ পর্বতমালা নিয়ে গড়ে উঠেছে তাজিকিস্তান। দেশটির জলভাগের পরিমাণ আয়তনের মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ। দেশটির প্রধান দু’টি পর্বতমালার নাম পামির এবং আলায়। তাজিকিস্তানে অবস্থিত পৃথিবীর ছাদ খ্যাত পামির মালভূমি পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

দুশানবে একটি সুপ্রাচীন লোকালয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর শহরটি স্বাধীন তাজিকিস্তানের রাজধানীতে পরিণত হয়।

তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসা প্রজাতন্ত্রগুলোর মধ্যে এটিই একমাত্র দেশ, যেখানে ইসলাম ২০০৯ সালে রাষ্ট্রীয় ধর্মের মর্যাদা লাভ করে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের হিসেব মতে, দেশটির জনসংখ্যার ৯৮ শতাংশ মুসলমান যাদের ৯৫ শতাংশ সুন্নি এবং ৩ শতাংশ শিয়া। এছাড়া রয়েছে কিছু সুফিবাদী। সুন্নিদের অধিকাংশই হানাফি মাজহাবের অনুসারী।

তাজিকিস্তানে ইসলামের প্রচার-প্রসার ঘটেছে সপ্তম শতাব্দীতে আরবদের মাধ্যমে। সে সময় থেকেই ইসলাম তাজিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর সেখানে ধর্মচর্চার ব্যাপক প্রসার লাভ করে। জনগণকে বেশি বেশি ধর্ম পালনে মনোযোগী দেখা যায়। এমনকি রমজান মাসে রোজা পালনকারীর সংখ্যা ৯৯ শতাংশে গিয়ে পৌঁছে।
রাজধানী দুশানবের একটি মসজিদ
সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ দিকে বিশেষ করে ১৯৮৯ সালে মিখাইল গর্বাচভের আমলে তাজিকিস্তানে ইসলাম চর্চার ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয়। সে সময় ইসলাম এবং অর্থডক্স খ্রিস্টধর্মের চর্চা বেশ খোলামেলাভাবেই শুরু হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান চালু হয়, মসজিদগুলো খুলে দেওয়া হয়, নতুন নতুন মসজিদ নির্মিত হয়। তাসখন্দকে ভিত্তি করে মধ্য এশিয়ায় ইসলামিক বোর্ড গঠিত হয়। বহু আলেম নিভৃতবাস থেকে বেরিয়ে এসে প্রকাশ্যে ওয়াজ-নসিহত করতে থাকেন। শুরু হয় তাবলিগের কাজও। টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় তাজিকিস্তান থেকে বেশ কয়েকটি জামাত অংশ নেয়।

এক কথায় বলা চলে, তাজিকিস্তানের জনগণ ধর্মভীরু এবং তারা নিজেদের মতো ধর্মচর্চা করার সুযোগ পান।

তবে ২০০৫ সালে দেশটির সেক্যুলার স্কুলগুলোয় মেয়েদের হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু দেশটির মহিলারা নিজেদের ঐতিহ্য হিসেবে হিজাব পরে থাকেন। 

গত এক দশকে তাজিকিস্তান সরকারের কিছু উদ্যোগ বিশ্বের মুসলিমদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। এসব উদ্যোগের কিছু হলো- তাজিক সরকার ২০০৯ সালকে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বর্ষ হিসেবে পালন করে। সে বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রথিতযশা আলেম-চিন্তাবিদদের আমন্ত্রণ জানানো এক আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে। 

২০১০ সালে বিশ্ব ইসলামি সংস্থা ওআইসি’র একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে। এতে বিশ্বের ৫৬টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা যোগদান করেন।

তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবের গ্র্যান্ড মসজিদের নাম ইমাম আবু হানিফা মসজিদ। এখন পর্যন্ত তাজিকিস্তানে এটাই সবচেয়ে বড় মসজিদ। তবে আগামী বছরের মধ্যে বড় মসজিদের শ্রেষ্ঠত্ব হারাতে যাচ্ছে তা। কারণ কাতার সরকারের অনুদানে দুশানবের সেন্ট্রাল রিপাবলিকান স্টেডিয়ামের পাশে নির্মিত হচ্ছে আরেকটি বড় মসজিদ। তখন এটিই হবে তাজিকদের প্রধান মসজিদ। 

বর্তমানে তাজিকিস্তানের রাজধানীতে শতাধিক মসজিদ রয়েছে। অথচ সোভিয়েত আমলে কমিউনিস্টরা অনেক মসজিদ ধ্বংস করেছিল পুরো তাজিকিস্তানের। দুশানবেতে তখন মসজিদ বলতে অবশিষ্ট ছিলো- এই ইমাম আবু হানিফা মসজিদ। তখন মাইকে আজান নিষিদ্ধ ছিলো। আর মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার অনুমতি মিলত শুধু ষাটোর্ধ্বদের। যাদের তখন চাকরির বয়স শেষ।

তাজিকিস্তানে এখন মসজিদকেন্দ্রিক প্রচুর মাদরাসাও রয়েছে। রাস্তায় প্রচুর দাড়ি-টুপিওয়ালা মুসলমান ও হিজাব পরা মুসলিম মহিলাদের দেখা যায়। সবমিলিয়ে বলা চলে, তাজিকিস্তানে মুসলমানরা দীর্ঘকালের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চার সুযোগ পেয়ে খুশি।

ইসলাম বিভাগে লেখা পাঠাতে মেইল করুন: bn24.islam@gmail.com

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৭ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৪,  ২০১৭
এমএইউ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa