ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের মতামত যৌক্তিক
[x]
[x]
ঢাকা, শুক্রবার, ২ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ আগস্ট ২০১৮
bangla news

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের মতামত যৌক্তিক

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৫-২২ ৬:১৬:৩৬ পিএম
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে বৈঠকে স্টেক হোল্ডাররা। ছবি: বাংলানিউজ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে বৈঠকে স্টেক হোল্ডাররা। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮টি ধারা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে নিজেদের আপত্তির কথা তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

এই ধারাগুলোর প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে সাংবাদিকদের দাবিকে যৌক্তিক বলে মনে করেছে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।  

মঙ্গলবার (২২ মে)  সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল, ২০১৮’ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাবিত এই আইন নিয়ে সাংবাদিক, কূটনীতিক, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ছিল। বিলটি সংসদে ওঠার পর পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিক সমাজ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যেসব মতামত তুলে ধরেছেন তা যৌক্তিক। তাদের দাবিগুলোও যৌক্তিক। তাই আমরা নতুন করে খসড়া করে সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে আইনটি চূড়ান্ত করবো।

তার এ কথার সঙ্গে সূর মিলিয়ে কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কিছু অস্পষ্টতা আছে। আমরা সাংবাদিক নেতাদের কথা শুনেছি। পরিষ্কার করতে হলে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। তাদের কথাগুলো ইতিবাচকভাবে নিয়েছি।  এজন্য নতুন করে আমরা খসড়া তৈরি করবো।

বৈঠকে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল-২০১৮’ এর ধারা ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য কমিটিতে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি সম্পাদক পরিষদ ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) তাদের লিখিত বক্তব্য কমিটিতে পেশ করে।

বৈঠক শেষে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকতার অবাধ বিচরণের ক্ষেত্রে যেসব ধারায় বাধা আসতে পারে, সেগুলোতে আমরা তুলে দিতে বলেছি। তা না হলে আমরা গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছি; আমরা সাংবাদিকতা রক্ষার জন্য আন্দোলনে যাব, সেটা বলে এসেছি।’ 

সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য কমিটিকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। গণমাধ্যম যাতে সংকুচিত না হয়, সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যাতে ব্যাহত না হয়, সে কথা তারা বলেছেন। 

‘সাংবাদিকেরা যাতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে পারেন; অনুসন্ধান সাংবাদিকতা আর গুপ্তচরবৃত্তি যাতে একসঙ্গে মিলিয়ে না যায়, সেটা বলেছি। আমরা বৈঠকের বিষয়ে খুবই সন্তুষ্ট যে তারা আমাদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন। তারা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষ একমত হয়েছি যে এ রকম একটি আইন আমাদের দরকার। সেই আইনের যেসব জায়গায় সংশোধনী করা প্রয়োজন, সেটা আমরা করব।’ 

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ। এ সময় কমিটির সদস্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), কাজী ফিরোজ রশীদ, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। 

এছাড়া কমিটির আমন্ত্রণে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের সভাপতি সালমান এফ রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল হক বাবু, বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সরওয়ার এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বৈঠকে যোগ দেন। 
 
বাংলাদেশ সময়: ১৮১২ ঘণ্টা, মে ২২, ২০১৮
এসএম/এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa