[x]
[x]
ঢাকা, শুক্রবার, ৯ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ জুন ২০১৮

bangla news

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রামেক ইন্টার্নদের বিক্ষোভ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০২-২৭ ৬:৪৫:৪১ পিএম
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ

রাজশাহী: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পথ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এটিএম এনামুল জহিরের বিচার ও নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ বিক্ষোভ করা হয়।

রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জরুরি বিভাগের প্রবেশ মুখ বন্ধ করে সেখানে বসে পড়েন। এতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার হাসপাতালে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শান্ত করেন।

এদিকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ করে ইন্টার্নদের বিক্ষোভ চলাকালে হাসপাতালে আসা রোগীরা প্রায় এক ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই বাধ্য হয়ে মহানগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হন নি। 

রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মীর্জা কামাল হোসেন জানান, সমস্যা সমাধানের দাবিতেই তারা বিক্ষোভ করেন। পরে মহানগর আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতারা সমাধানের আশ্বাস দিলে কর্মবিরতি ছেড়ে তারা ওয়ার্ডে ফেরেন। রাতে এ নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক, হাসপাতাল ও জেলা প্রশাসন, শিক্ষক এনামুল জহিরের প্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে একটি সভা করে এর সমাধানের কথা রয়েছে বলেও জানান ইন্টার্নদের এ নেতা।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাবি শিক্ষক এনামুল জহির তার মেয়েকে দেখতে রামেক হাসপাতালের ৩০ নং ওয়ার্ড দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ওই ওয়ার্ডে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক মেরি প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এতে ওই নারী চিকিৎসক তাকে গালাগালি শুরু করলে এনামুল জহির তাকে ‘ননসেন্স’ বলে মন্তব্য করেন।

বিষয়টি প্রিয়াঙ্কা ফোনে আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক মির্জা কামাল হোসাইনকে জানান। পরে কামালসহ বেশ কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাকে (এনামুল জহির) বেধড়ক মারধর করেন। ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে মারধরে জড়িত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শাস্তির দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার হলে পরদিন রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কুদরত-ই-খোদা তার আদালতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। এছাড়া রাজশাহীর একজন আইনজীবীও বাদী হয়ে রামেকের ৮ ইন্টার্ন চিকিৎসের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আর নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর এবং তাকে অশ্লীল ভাষায় কথা বলার অভিযোগে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাবি শিক্ষক এনামুল জহিরের বিরুদ্ধেও আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮
এসএস/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa