[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জুলাই ২০১৮

bangla news

আইএস ঘনিষ্ঠ ১৫ জঙ্গির খোঁজে গোয়েন্দারা

343 |
আপডেট: ২০১৫-০৩-১৪ ১১:৫৪:০০ এএম

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বাংলাদেশ শাখার সমন্বয়ক সাখাওয়াতুল কবির ওরফে কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী অন্তত ১৫ জনকে খুঁজছে গোয়েন্দারা।

ঢাকা: আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বাংলাদেশ শাখার সমন্বয়ক সাখাওয়াতুল কবির ওরফে কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী অন্তত ১৫ জনকে খুঁজছে গোয়েন্দারা।

এই ১৫ জন আইএসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে জড়িত ছিলো। এদের মধ্যে দু’জন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একসময় এই ১৫ জঙ্গি কবির ও আইএসের আরেক নেতা আনোয়ার হোসেন বাতেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা শুরু করেন।

তারা আটক হলে চাঞ্চল্যকর অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তদন্তেরও অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দা সদস্যরা। সাখাওয়াতুল কবির বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
 
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি আইএস বাংলাদেশের সমন্বয়ক কবির, আনোয়ার হোসেন বাতেন, নজরুল ইসলাম ও রবিউল ইসলামকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদের কয়েক দফায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া ১৫ জনের একটি তালিকা এখন গোয়েন্দাদের হাতে। সেই তালিকা ধরেই চলছে অভিযান।
 
বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ হত্যায় যে কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের দিকে গোয়েন্দাদের সন্দেহের তীর রয়েছে, তাদের মধ্যে আইএস অন্যতম। আইএসও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কিংবা ব্যক্তির ওপর হামলা করে বিশ্বমিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় রয়েছে।

বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, অভিজিৎকে যে উগ্রপন্থিরাই হত্যা করেছে, তা নিশ্চিত। ফেসবুকে তাকে হত্যার হুমকিদাতা শফিউর রহমান ফারাবীকে রিমান্ডে এনে তথ্যের ভিত্তিতে ১০ জনের মতো একটি তালিকা তৈরি করে তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
 
পাশাপাশি তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম, জেএমবি ও আইএস জড়িত থাকতে পারে। সুতরাং আমরা এ সংগঠনগুলোর জঙ্গি সদস্যদের আটক করতে অভিযান পরিচালনা করছি।
 
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আইএসের প্রধান সাখাওয়াতুল কবিরসহ যে চারজনকে আটক করা হয়, এর মধ্যে কবির ও আনোয়ারের রিমান্ডে দেওয়া তথ্য এবং তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রক্ষাকারী অন্তত ১৫ জনের তালিকা করে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীও রয়েছেন। বর্তমানে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। একসময় এই ১৫ জন জেএমবির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন।
 
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহফুজুল আলম রাসেল বাংলানিউজকে বলেন, আইএস বাংলাদেশের সমন্বয়ক কবির ও আনোয়ারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সন্দেহভাজনদের খুঁজছি। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আমাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

যেভাবে বাংলাদেশে আইএস’র শাখা খোলার চেষ্টা
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, একসময় জেএমবির সঙ্গে জড়িত সাখাওয়াতুল কবির ও আনোয়ার হোসেন বাতেন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ওয়াকিয়া কম্পিউটার নামে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। আর এ প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চালানো হতো জঙ্গি কার্যক্রম। কবিরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়া করতেন জেএমবির অন্য এক সদস্য শামিম। পরে শামিমের শ্যালিকাকে বিয়েও করেন কবির। বাতেনের সঙ্গে জেএমবি প্রধান মওলানা সাঈদুর রহমানের জামাই এজাজের পূর্ব পরিচয় থাকার সুবাদে তিনিও ওই আস্তানায় আসা যাওয়া করতেন।

এরপর এজাজের ভাগিনা অভিকেও চাকুরি দেওয়া হয় ওই প্রতিষ্ঠানে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টি এড়িয়ে আইটি ফার্মের নামে একসময় ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়া জেএমবির অনেক দুধর্ষ ক্যাডাররা সংগঠিত হতে শুরু করে।
 
এর মাঝে এ আস্তানার খবর পেয়ে যায় ৠাব। ২০০৯ সালের শেষের দিকে এক অভিযানে আটক হন আনোয়ার হোসেন ওরফে বাতেন। এরপর গ্রুপটি আবারও ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এজাজ পাকিস্তানের করাচিতে চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বিয়েও করেন। পাকিস্তান থেকেই এজাজ আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করেন। 

এক পর্যায়ে ২০১০ সালের দিকে সাখাওয়াতুল কবির ওরফে কবির, শামিম, সায়েম পরিবার নিয়ে পাকিস্তানে চলে যান। পাকিস্তানে থেকে তারা আবারও দেশের পলাতক জেএমবিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি সেখানকার স্থানীয় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এসময় তারা জঙ্গিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেখেন ও সেগুলোর ভিডিও সম্বলিত সিডি সংগ্রহ করেন।

এর মধ্যে সাখাওয়াতুল কবির কয়েকবার দেশে এসে জেলখানায় আনোয়ার হোসেন বাতেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিন বছর পর জেলখানা থেকে বের হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আনোয়ার হোসেন বাতেনও পাকিস্তানে চলে যান। এরপর পুরো গ্রুপটি একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করতে থাকে। বর্তমানে যেহেতু আইএসের প্রভাব বেশি, এজন্য তারা এ জঙ্গি সংগঠনটির সঙ্গে পাকিস্তান থেকে যোগোযোগের চেষ্টা করে।
 
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এরপর তারা পাকিস্তান থেকে দেশে আসার পরিকল্পনা করে। সেখানে এজাজকে রেখে সাখাওয়াতুল কবির ও আনোয়ার হোসেন দেশে আসেন। দেশে এসে কবির গাজীপুরে নজরুল ইসলাম নামে একজনের বাড়িতে ওঠেন। আর বাতেন ওঠেন যাত্রবাড়ী এলাকার এক বাসায়। সাখাওয়াতুল কবির গাজীপুরে থাকা অবস্থায় নজরুল ইসলামের সহযোগিতা নিয়ে সেখানে পলাতক বিভিন্ন জঙ্গিসহ নতুন নতুন ব্যক্তিদের নিয়ে আসেন। আর এখানে বসেই বাংলাদেশে আইএসের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে শাখা খোলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন সাখাওয়াতুল কবির। কবির জেএমবির অন্যান্য নতুন জঙ্গি সদস্যদের বিভিন্ন ভিডিও দেখাতেন আর আইএসে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিতেন।

যাত্রাবাড়ী থাকলেও আনোয়ার হোসেন বাতেন গাজীপুরে মাঝে মধ্যেই যেতেন। নতুন ও পুরাতন যারা জেএমবির সদস্য ছিলেন, তাদের একত্রিত করে আইএসের শাখা খোলার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করতেন।
 
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আনোয়ার হোসেন বাতেন আইএসের সহানুভূতি পেতে ঢাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করতে থাকেন। কোথায় কীভাবে হামলা করে বিশ্বমিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে, এ বিষয়ে গোপন পরিকল্পনা করতে থাকেন।
 
সূত্র আরও জানায়, এর মাঝেই গোপন সংবাদ পেয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। সেই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে আনোয়ার হোসেন বাতেন, সাখাওয়াতুল কবির, রবিউল ইসলাম ও নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়।
 
একই সূত্র জানায়, সম্প্রতি পাকিস্তানের করাচিতে একটি স্কুলে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ওই এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এজাজ, শামিমসহ চারজন আটক হন। পরবর্তীতে তারা ‘এনকাউন্টারে’ মারা যান।
 
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রাসেল জানান, গাজীপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় সাখাওয়াতুল কবির ও আনোয়ার হোসেন বাতেনের নেতৃত্বে আইএসের সদস্য বাড়াতে একাধিক গোপন মিটিং হয়েছে। ওই মিটিংয়ে কারা কারা উপস্থিত ছিলেন, এমন কিছু নাম নিয়ে মাঠে নামা হয়েছে।

দ্রুত তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে এমন প্রত্যাশাও করেন গোয়েন্দা বিভাগের এ কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫৫ ঘণ্টা, মার্চ ১৪, ২০১৫ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa