[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ৩০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৪ জুলাই ২০১৮

bangla news

মৃৎশিল্প মৃতপ্রায়

সোলায়মান হাজারী ডালিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৪-১৪ ৯:৪০:১৬ এএম
কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প, এরপরও গ্রামীণ জনপদে ঐতিহ্যের পেশা ধরে রেখেছেন কেউ কেউ। ছবি: বাংলানিউজ

কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প, এরপরও গ্রামীণ জনপদে ঐতিহ্যের পেশা ধরে রেখেছেন কেউ কেউ। ছবি: বাংলানিউজ

ফেনী: সুখি রাণী পাল। ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ আঁধার মানিক গ্রামের মৃৎশিল্পী। বাবা ধনঞ্জয় পালও ছিলেন এ পেশায়ই। স্বামী নিবারণের সংসারে এসেও সুখি একই কাজ করছেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে।

পূর্ব পুরুষদের পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও এখনো মাটি দিয়ে নিত্য ব্যবহারের বাহারি পণ্য তৈরি করছেন তিনি। তবে প্লাস্টিকের পণ্যের সহজলভ্যতা আর জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন এ পেশা ছাড়তে ‘বাধ্য’ সুখি।

সুখি’র মতো এমন অস্তিত্ব সংকটে এলাকার আরো অর্ধশতাধিক পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- বিলুপ্তির পথে উত্তর ও দক্ষিণ আঁধার মানিক গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। এক সময় এ গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শত শত পরিবার প্রত্যক্ষভাবে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আধুনিকাতার ছোঁয়া ও কালের পরিক্রমায় আঁধার মানিক গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাল বংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে এখানে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারের বসবাস। কিন্তু মাত্র ১০ থেকে ১৫টি পরিবার অনেক কষ্টে তাদের পূর্বপুরুষদের এ পেশাকে ধরে রেখেছে। তবে এমন অবস্থা বলে দেয় মৃৎশিল্প মৃতপ্রায়।

পালপাড়ার বাসিন্দারা বাংলানিউজকে বলেন, একসময় আমরা এখানে খোলা, হাড়ি-পাতিল, কলসি, মাটির ব্যাংক, বিভিন্ন পিঠা তৈরির চাঁচ, পুতুল, ছোট ছোট খেলনা ইত্যাদি জিনিসপত্র তৈরি করতাম। সেসময়ে আমাদের মৃৎশিল্পের অনেক সুনাম ও সুখ্যাতি থাকলেও এখন শুধুমাত্র দইয়ের পাত্র ও খোলা তৈরি করে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করছি।

মৃৎশিল্পের কারিগর নিবারণ পাল বাংলানিউজকে বলেন, এ শিল্পের মূল উপকরণ হলো মাটি। এক সময় বিনে পয়সায় মাটি পাওয়া গেলেও বর্তমানে টাকার বিনিময়েও মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যা পাওয়া যাচ্ছে, তা অধিকমূল্য দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাছাড়া মাটির পাত্রের চাহিদাও আগের মতো এখন নেই।

সুখি রাণী বাংলানিউজকে বলেন, সব কিছুর দাম যে অনুপাতে বেড়েছে, সে অনুপাতে মাটির তৈরির সামগ্রীর দাম বাড়েনি। প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি সামগ্রীর দাম বেশি হলেও অধিক মজবুত হওয়াতে মানুষ মাটির তৈজসপত্র কিনছে না।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে হারিয়ে যাওয়া মৃৎশিল্পের অতীত-ঐতিহ্য পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব এমনটি আশা করছে এখানকার পাল সম্প্রদায়।

বাংলাদেশের সর্বত্র চৈত্র-বৈশাখে মেলা বসে। পাল পরিবারের সদস্যরা সেখানে এখন অন্য ধরনের পণ্য নিয়ে হাজির হন। শহরাঞ্চলে শোরুমে দেখা যায় মাটির পণ্য। বিত্তবানরা ঘর সাজাতে এসব কেনেন। কম ব্যয়ে ঘর সাজাতে মাটির তৈরি পণ্যই সেরা। এ শিল্প যেনো হারিয়ে না যায়, কোনোভাবেই ‘মৃতশিল্পে’ পরিণত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরের।

এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল চৌধুরী সোহেল বাংলানিউজকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কুটির শিল্প উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতে নানামুখী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করছি। তাছাড়া বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের ঋণ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৩, ২০১৮
এসএইচডি/টিএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa