জয়নগর গ্রামের ফুলঝাড়ুর গল্প
[x]
[x]
ঢাকা, শুক্রবার, ২ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ আগস্ট ২০১৮
bangla news

জয়নগর গ্রামের ফুলঝাড়ুর গল্প

দেলোয়ার হোসেন বাদল, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৪-০৭ ১২:১২:৩৯ পিএম
ফুলঝাড়ু তৈরি করছেন একজন শ্রমিক। ছবি: ডিএইচ বাদল

ফুলঝাড়ু তৈরি করছেন একজন শ্রমিক। ছবি: ডিএইচ বাদল

ঢাকা: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের জয়নগর গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবার ফুলঝাড়ু তৈরির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। শুধু তাই নয় এর মাধ্যমে পেয়েছেন স্বচ্ছলতাও। গ্রামটির পুরুষদের পাশাপাশি গৃহবধূরাও অবসর সময়ে প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে আটটি ফুলঝাড়ু ও নারিকেল পাতার ঝাড়ু তৈরি করেন।

নেয়ামত আলী পেশায় একজন কৃষক। বয়স ৫১ বছর। তিনি ছয়মাস চাষাবাদ করে সংসার চালান। বাকি মাসগুলোতে তৈরি করেন ঝাড়ু।ফুলঝাড়ু তৈরি করছেন গৃহবধূরা। ছবি: ডিএইচ বাদলকথা হয় ঝাড়ু বিক্রেতা সোহাগের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে জানান, গ্রামে বাজারের কাছে তার ছোট একটি দোকান আছে। অর্ডারের ভিত্তিতে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে ঝাড়ু তৈরি ও বিক্রি করেন তিনি।

দেশের প্রায় সব জেলাতেই রয়েছে তার ঝাড়ুর কদর। তাই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসে ঝাড়ুর অর্ডার। একটা ঝাড়ু বানাতে ব্যয় হয় ১০ থেকে ১৫ টাকার মতো। ঢাকা পর্যন্ত আসতে আসতে এসব ঝাড়ুর বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

আকলিমা বেগম (৪০) নামে গৃহবধূ বাংলানিউজকে বলেন, এখন তো বাজারে অনেকরকমের ঝাড়ু পাওয়া যায়। শুনেছি বিদ্যুতের সাহায্যেও নাকি ঝাড়ু দেওয়া যায় আজকাল! তাই ফুলঝাড়ু আর নারকেলের পাতার ঝাড়ু চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ঝাড়ু তৈরিতে পরিশ্রম বেশি, সেই তুলনায় মুনাফা কম। তারপরও ভালো আছি কারণ, ঝাড়ু বিক্রির বাড়তি আয় থেকে পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে।ফুলঝাড়ু তৈরি করছেন একজন শ্রমিক। ছবি: ডিএইচ বাদলএদেশের জন্য ‘ফুলঝাড়ু’ শুধু একটি সরঞ্জামই নয়, বরং একটি ঐতিহ্যও। তাই উচিত শিল্পটিকে ধরে রাখা। সরকার এ শিল্পটির দিকে নজর দিলে এই পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে অনেক টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানান সিরাজদিখান জয়নগর এলাকার ঝাড়ু শ্রমিক নেয়ামত আলী।

বাংলাদেশ সময়: ১২১২ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৭, ২০১৮
এএটি/এনএইচটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa