Alexa
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৫ মে ২০১৭
bangla news

ওরা ১৪ জন ও রোমিও-জুলিয়েট

তৃণা শর্মা, প্রদায়ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৬-০৩-৩১ ৩:৪২:৫৯ পিএম

১৪ জন অভিনয়শিল্পী, তাদের সবাই বিশেষ মানুষ। প্রচলিত শব্দে প্রতিবন্ধী। তাদের অভিনীত মঞ্চ নাটক দেখে বাহবা দিয়েছেন দর্শক। শেক্সপিয়রের ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা থিয়েটার ও লন্ডনের গ্রে-আই থিয়েটার...

১৪ জন অভিনয়শিল্পী, তাদের সবাই বিশেষ মানুষ। প্রচলিত শব্দে প্রতিবন্ধী।

তাদের অভিনীত মঞ্চ নাটক দেখে বাহবা দিয়েছেন দর্শক। শেক্সপিয়রের ৪০০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা থিয়েটার ও লন্ডনের গ্রে-আই থিয়েটার যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নাটকটি। এ বছর বিশ্বের ১৪০টি দেশে শেক্সপিয়রের এই অমর সৃষ্টির মঞ্চায়ণের মাধ্যমে স্মরণ করা হচ্ছে তাকে। নাটকটিতে যেন নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিশেষ মানুষেরা।

নাটকে অভিনেতাদের ভিন্নতার সাথেসাথে নামকরনেও রয়েছে ভিন্নতা। তারা এই নাটকটির নাম দিয়েছেন ‘অন্যরকম রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যজন নাসিরউদ্দীন ইউসুফ ও যুক্তরাজ্যের গ্রে-আই থিয়েটারের অটিস্টিক ডিরেক্টর জেনি সিউলি।   

নাটকে রোমিও জুলিয়েট সহ পাঁচজনের চরিত্রায়ন করা হয়েছে দু’জন করে। পাঁচটি দ্বৈতচরিত্রের মধ্যে একটি চরিত্র বাচিক ও অন্য চরিত্রটি ইশারা ভাষায়। ১৪ জন অভিনয় শিল্পীর মধ্যে কেউ কানে শুনতে পান না, কেউ ঠিক মত হাটতে পারেন না, আবার কারো কারো মুখে ভাষা নেই- তারাই মনের ভাষা প্রকাশ করেছেন ইশারায়।

প্রতিবন্ধী শিল্পীদের অভিনয়, পুরো নাটক জুড়ে ছিলো বিশেষ আকর্ষণ। শারিরীক অক্ষমতাকে উপেক্ষা করে কি করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হয় তাদের মধ্যে ছিলো তেমন চেষ্টা।

এদিকে অভিনয় বাদ দিলে, আলোকসজ্জাও (ওয়াসিম আহামেদ) ছিলো বেশ আকর্ষণীও। প্রতিটি চরিত্রের আগমন-প্রস্থানসহ প্রতিটি প্লটে যে আলোর প্রয়োজন ছিলো তা ঠিকঠাক পাওয়া গেছে। প্রতিটি সংলাপ বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দৃশ্যায়ন করার মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা ছিলো শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য। অসাধারণ শব্দনিয়ন্ত্রণ (সায়েবা তালুকদার ও আহসান রেজা খান) করেছেন শব্দ পরিচালকেরা। বাঁশির ব্যবহার হয়েছে একটু বেশিই! শেষ দৃশ্যে রোমিও আর জুলিয়েট মারা যাওয়ার সময় বাঁশির সুর দর্শক হৃদয়ে যে বিরহের অনুভুতি হয়েছে সেটা তারই প্রমান।

অন্যরকম ‘অন্যরকম রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’-এর পরিচালক জেনি সিউলি বলেছেন, ‘এই প্রথম প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীরা শেক্সপিয়ারের কোনো নাটকে অভিনয় করছেন। দীর্ঘ তিন বছর কাজ করে আমরা মঞ্চে ওঠার প্রস্তুতি নিয়েছি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে বাংলাদেশের ১৪  জন ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষ নিয়ে ঢাকা থিয়েটার ও লন্ডনের গ্রে-আই থিয়েটার যৌথভাবে নাটকটি মঞ্চায়নে সার্থক হয়েছি।’

নাটকের পর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। নাটক দেখে তিনি বলেন, ‘এতো ভালো পরিচালনা, এত ভালো অভিনয় আমি আশাই করিনি। যদি সরকারি সাহায্য-সহযোগিতার দরকার হয় তাহলে আমি চেষ্টা করবো। এমন ভালো কাজ বেশি বেশি হতে হবে।’

শিল্পকলা একাডেমীর মহা পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এত ভিন্নধর্মী নাটক খুব একটা হয়নি। এই প্রতিভাগুলো কে যেন মূল্যায়ন করা হয়, বাঁচিয়ে রাখা হয়। শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে যে কোনো সাহায্য আমি করবো।’

বাংলাদেশ সময় : ১৩৩৫ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০১৬
টিএস/এসও

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

You May Like..