পাট ক্ষেতে বিছার আক্রমণ, তাপে পুড়ছে আগা 
[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ আগস্ট ২০১৮
bangla news

পাট ক্ষেতে বিছার আক্রমণ, তাপে পুড়ছে আগা 

শেখ তানজির আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৬-০৯ ৬:৫৯:২২ এএম
পোকায় খেয়ে ফেলছে পাটের পাতা। ছবি: বাংলানিউজ

পোকায় খেয়ে ফেলছে পাটের পাতা। ছবি: বাংলানিউজ

সাতক্ষীরা: প্রচণ্ড রোদের তাপে পুড়ে যাচ্ছে ডগার (মাইজ) পাতা। আর বিছার (এক ধরনের পোকা) দল খেয়ে ফেলছে পাতা। এতে পাট উৎপাদনে দেখা দিতে পারে ধস। ফলে চিন্তিত হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার কৃষক। 

সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ এলাকায় আবাদ করা পাট ক্ষেতে দেখা দিয়েছে এ সমস্যা। যদিও সমস্যা মোকাবেলায় কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ।  

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাবুলিয়া গ্রামের পাট চাষি জাবেদ আলী বাংলানিউজকে জানান, তিনি এ বছর এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। চার মাস মেয়াদি এই চাষাবাদে ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে তার। সবকিছু ঠিক থাকলে পাট বিক্রি করতে পারবেন ২৪-২৫ হাজার টাকার। তবে, প্রচণ্ড তাপমাত্রায় গাছের ডগার পাতা পুড়ে যাচ্ছে। এছাড়া পাটের পাতা খেয়ে ফেলছে বিছা। 

তিনি জানান, বিছা পোকা পাটের পাতা খেয়ে ফেললে পাটের ডালপালা জন্মে যায়। এতে পাট জাগ দিয়ে আশ ছাড়ানোর সময় ছিঁড়ে যায়। 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজুলপুর কৃষক ক্লাবের সভাপতি ইয়ারব হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, তিনি গত মৌসুমে কয়েক বিঘা জমিতে পাট চাষ করলেও এবছর বৃষ্টি কম হওয়ায় মাত্র ১৭ কাঠা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। তার ক্ষেতেও বিছা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তাপে পুড়ে যাচ্ছে গাছের আগা। এতে উৎপাদন নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি। 

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলার ১২ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

রোদে পুড়ে যাচ্ছে পাতা। ছবি: বাংলানিউজএর মধ্যে আশাশুনি উপজেলায় ৯০ হেক্টর, শ্যামনগরে পাঁচ হেক্টর, কালিগঞ্জে ১৭০ হেক্টর, কলারোয়ায় চার হাজার পাঁচ হেক্টর, দেবহাটায় ৯০ হেক্টর, তালায় তিন হাজার ১৫ হেক্টর ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় চার হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। 

এদিকে, জেলায় চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার ৬২৪ বেল পাট। 

এর মধ্যে আশাশুনি উপজেলায় এক হাজার ১৩ বেল, শ্যামনগরে ৫৬ বেল, কালিগঞ্জে এক হাজার ৯১৩ বেল, কলারোয়ায় ৪৫ হাজার ৬৮ বেল, দেবহাটায় এক হাজার ১৩ বেল, তালায় তিন হাজার ৩৩ হাজার ৯২৮ বেল ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৫৪ হাজার ৬৩৩ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এদিকে, পাট চাষাবাদে পোকার আক্রমণসহ অন্যান্য সমস্যা মোকাবেলায় কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে কৃষকদের ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করতে এবং দুর্বল চারা তুলে ক্ষেতের ঘন স্থান পাতলা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে মাটিতে রস না থাকলে বা দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে হালকা সেচ দিতে হবে এবং বৃষ্টির কারণে পানি জমে থাকলে তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
 
কৃষি তথ্য সার্ভিসে আরও বলা হয়েছে, এ মাসে বিছা পোকা এবং ঘোড়া পোকা পাট ক্ষেতে আক্রমণ করে থাকে। বিছা পোকা দলবদ্ধভাবে পাতা ও ডগা খায়, ঘোড়া পোকা গাছের কচি পাতা ও ডগা খেয়ে পাটের ক্ষতি করে। বিছা পোকা ও ঘোড়া পোকার আক্রমণ রোধ করতে পোকার ডিমের গাদা, পাতার নিচ থেকে পোকা সংগ্রহ করে মেরে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জমিতে ডালপালা পুতে দিতে হবে, যাতে শালিক, ফিঙ্গেসহ অন্যান্য পাখি পোকা খেতে পারে। শেষের পদ্ধতিতে দারুন উপকার পাওয়া সম্ভব। 

এছাড়া আক্রমণ বেশি হলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিকভাবে, সঠিক সময়ে, সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। 

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় পাটের আবাদ গতবারের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। যদিও তাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন সমস্যা হবে না।

বাংলাদেশ সময়: ০৬৫৪ ঘণ্টা, জুন ০৮, ২০১৮
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa