[x]
[x]
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৪ মে ২০১৮

bangla news

এক মণ ধানের অর্ধেক দিয়েও মিলছে না শ্রমিক

স্বপন চন্দ্র দাস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৫-১৭ ১২:১৭:৩২ পিএম
এক মণ ধানের অর্ধেক দিয়েও মিলছে না শ্রমিক

এক মণ ধানের অর্ধেক দিয়েও মিলছে না শ্রমিক

সিরাজগঞ্জ: দিনভর ঘুরেও ধানকাটার জন্য শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যায় না। যাও বা দুই-একজন পাওয়া যায়; তাদের দাবি মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদরে। আর ধানক্ষেতে পানি জমে থাকলে তো কথাই নেই। জোঁকের ভয়ে শ্রমিকরা ধান কাটতে যেতে চায় না। অনেক কষ্টে রাজি করানো গেলেও এক মণ ধানের অর্ধেকই দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের।

সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেলো শস্যভাণ্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সদর, মাগুড়া বিনোদ, সগুনা ও তালম ইউনিয়নে। এসব অঞ্চলে শুকনো জমিগুলোর ধান ইতিমধ্যে কাটা শেষ হলেও জলাবদ্ধ জমির ধান কাটতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। 

কথা হয়, তালম ইউনিয়নের কৃষক তাহের আলীর সঙ্গে। ৪৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন তিনি। যার সবটুকুই বর্তমানে জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ধান পেকে ঝরে পড়ার উপক্রম হলেও শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছেন না। অনেক চেষ্টার পর প্রতিমণ ধানের অর্ধেক দেওয়ার শর্তে শ্রমিক পেয়েছেন। বাধ্য হয়ে তাদের শর্ত অনুযায়ী ধান কাটার চুক্তি দিয়েছেন তিনি। 

তাড়াশ সদর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, হাঁটু পানির নিচে তার জমির ধান। বিঘা প্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা মজুরির চুক্তিতে ধান কাটাতে হচ্ছে। 

একই অঞ্চলের আব্দুল হামিদ আকন্দ বলেন, জমিতে পানি থাকায় বিঘা প্রতি ৩৪শ’ টাকা মজুরিতে শ্রমিক নিয়ে ধানা কাটাতে শুরু করেছি। 

আনসোব আলী, আওয়াল, জহির, কানাইলাল, শংকরসহ ধানকাটার শ্রমিকদের দাবি, সারা বছর এ অঞ্চলে শ্রমিকদের মূল্য কম থাকে। ধান কাটার মৌসুম এলে কিছুটা বেশি মজুরি তারা পান। এতে তাদের প্রচুর শ্রমও দিতে হয়। 
 
এদিকে, ধানের মূল্য কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন এসব অঞ্চলের কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেশি হলেও প্রতিমণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায়।

কৃষকরা জানান, প্রতিবিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ ধরে তারা বোরো চাষ করেছেন। যার মধ্যে শ্রমিকের মজুরিও ধরা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় শ্রমিকদের বাড়তি মজুরি ধরে উৎপাদন খরচে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার টাকায়। আর প্রতিবিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ মণ করে ধান উৎপাদন হচ্ছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এতে খরচ চাষাবাদের খরচ উঠে আসাও দায় হয়ে পড়েছে। 

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তাড়াশ উপজেলার ১২শ’ হেক্টর জমির ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। শ্রমিক সংকটের কারণে সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। তবে শুকনো অঞ্চলের ধান কাটা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিন থেকে চারদিনের মধ্যে বাকি জমির ধান কাটাও শেষ হয়ে যাবে। এক মণ ধানের অর্ধেক দিয়েও মিলছে না শ্রমিক

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী বাংলানিউজকে বলেন, ইতিমধ্যে তাড়াশ উপজেলার ৯০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও অনেক কৃষক সুষ্ঠুভাবে ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। 

তিনি বলেন, প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছে ১৮ টাকা। সে ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা মণ বিক্রি করলে প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় ১৫ টাকা। এতে কৃষকের কিছুটা লোকসান হচ্ছে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই ধানের দাম বেড়ে যাবে। শুকিয়ে বিক্রি করলে কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচ তুলেও কিছুটা লাভ করতে পারবেন। 

বাংলাদেশ সময়: ১১৫১ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১৮
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa