বাম্পার ফলনেও সয়াবিনের গোলায় ওঠা নিয়ে শঙ্কা
[x]
[x]
ঢাকা, রবিবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৯ আগস্ট ২০১৮
bangla news

বাম্পার ফলনেও সয়াবিনের গোলায় ওঠা নিয়ে শঙ্কা

সাজ্জাদুর রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৫-১২ ১:৪৪:৫৮ এএম
সয়াবিন হাত কৃষক, ছবি: বাংলানিউজ

সয়াবিন হাত কৃষক, ছবি: বাংলানিউজ

লক্ষ্মীপুর: উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর। এখনকার মাটি সয়াবিন উৎপাদনে উপযোগী। প্রায় তিন দশক ধরে চরাঞ্চলে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়ে আসছে। চলতি মৌসুমেও বাম্পার ফলন হয়েছে। 

কিন্তু ভালো ফলন হলেও সয়াবিন কেটে ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির মুখে পড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন চাষিরা। 

গত ৮/১০ দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিতে কাঁচা-পাকা সয়াবিন পানির নিচে ডুবে গছে। এতে বেশ ক্ষতির মুখের পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফের ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় শঙ্কিত তারা।

গত ক’দিন ধরেই লক্ষ্মীপুরের আকাশে মেঘে খেলা। সকাল গড়িয়ে দুপুরেই চলে বজ্রবৃষ্টি কিংবা মুষুল ধারে বৃষ্টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফের ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। 

এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সর্বনাশ হয়ে যাবে বলে জানালেন সয়াবিন চাষিরা। 
বুধবার (০৯ মে) সরেজমিন চর লরেন্স ঘুরে দেখা যায়, ডুবে যাওয়া ক্ষেত থেকে সয়াবিন কাটতে ব্যস্ত চাষিরা। বৃষ্টির আশঙ্কায় আধ-পাকা সয়াবিনও কাটতে শুরু করেছেন তারা। 

কৃষকেরা বলছেন, তারা গত দুই মৌসুম ঝড়-বৃষ্টির কারণে সয়াবিন চাষ করে প্রায় নিঃস্ব। কারণ তা ঘরে তুলতে পারেননি। চলতি মৌসুমেও ফের কালবৈশাখীর মুখে পড়েছেন। এবার সয়াবিন কেটে ঘরে তুলতে না পারলে এবছরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। 

চর মার্টিন গ্রামের চাষি মাঈন উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, গতবছর টানা ছয়দিনের বৃষ্টিতে সয়াবিন ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। সব সয়াবিন পচে পুঁজি হারাতে হয়েছে। এবার  ঋণ করে সয়াবিন আবাদ করেছি। বাম্পার ফলনও হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কাঁচাপাকা সয়াবিন পানির নিচে ডুবে গেছে। আরও বৃষ্টি হলে কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তোলা যাবে না, ক্ষেতেই সব পচে নষ্ট হবে।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি রবি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ৫০ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ হাজার ৩০৫ হেক্টর কম জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। 

তবে মৌসুমের শেষের দিকে হলেও কমলনগরের চরাঞ্চলের ব্যাপক হারে সয়াবিনের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেও বৃষ্টি ছিল। তাই সয়াবিন আবাদেও বিলম্ব হয়। এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, যথাসময়ে আবাদ করতে পারলে চাষিদের কালবৈশাখীর মুখে পড়তে হতো না। 

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বেলাল হোসেন খাঁন বলেন, লক্ষ্মীপুর মাটি সয়াবিন উৎপাদনে উপযোগী। কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শে ধারাবাহিকভাবে এই জেলায় বাম্পার ফলন হয়ে আসছে। চলতি মৌসুমেও তা হয়েছে। সকল প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়ে ফসল ঘরে তুলতে পারলে কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ হতো। 

অব্যাহত ঝড়-বৃষ্টিতে সয়াবিনে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

** লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন চাষ হুমকির মুখে! 
**ফসলি জমিতে জল, লক্ষ্মীপুরে রবি আবাদ ব্যাহত!
** লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন পচে ২৫২ কোটি টাকার ক্ষতি
** লক্ষ্মীপুরে ৪০ হাজার হেক্টর জমির সয়াবিন পানির নিচে
** চারদিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, হতাশ কৃষক

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৩ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১৮
এসআর/এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa