[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

bangla news

মাল্টা চাষে স্কুল শিক্ষকের চমক 

শরিফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-১১-১৬ ১১:৩৮:১৩ এএম
গাছে ঝুলছে মাল্টা- ছবি: বাংলানিউজ

গাছে ঝুলছে মাল্টা- ছবি: বাংলানিউজ

ঠাকুরগাও: মাল্টা বাগান করে ঠাকুরগাঁওয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন হরিপুরের স্কুল শিক্ষক বেলাল হোসেন।  তার বাগানের ছোট ছোট গাছে এখন ঝুলছে শত শত মাল্টা। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কাঠালডাঙ্গী গ্রামের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিনি। 

শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষি কাজে ব্যাপক উৎসাহী তিনি।তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রথমে কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২০১৫ সালের জুন মাসে বাড়ির সীমানার ভেতরে বারি মাল্টা-১ জাতের ৭৩টি চারা রোপন করি। গত বছর একটি গাছে ফল আসলেও এবার এসেছে প্রায় কুড়িটি গাছে। এক একটি গাছে ৭০ থেকে ১০০ টি করে মালটা ধরেছে। এরই মধ্যে পাকতে শুরু করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। 

বেলাল হোসেন বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষি কাজ  করতে আমার ভালো লাগে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাল্টা চাষ করা শুরু করি। প্রথমে এক বিঘা জমিতে ৭৩টি চারা রোপন শুরু করি। অবসর সময়ে চারা গুলোর পরিচর্চা করি। আরো ২ একর জমিতে নতুন করে মাল্টা চারা রোপন করেছেন চাষী।
মাল্টা মাছে স্কুল শিক্ষকের চমক- ছবি: বাংলানিউজহরিপুর উপজেলার কাঠালডাংগী গ্রামের আকতার হোসেন জানান, বেলাল ভাইয়ের মাল্টা চাষ দেখে আমরা অনেক বেকার যুবক মাল্টা চাষে আগ্রহী হই । বেলাল ভাই একজন শিক্ষক মানুষ তিনি যদি মাল্টা চাষ করে সফল হতে পারেন তাহলে আমরা কেন পারবো না। আগামী বছরে আমি দুই একর জমিতে মাল্টা চাষের প্ল্যান করেছি।

কাঠালডাংগী গ্রামের বিষ্ণু জানান, আমাদের ঠাকুরগাঁয়ের অনেক ভালো ভালো জমি রয়েছে যা মাল্টা চাষের উপযোগী। তা প্রমাণ করে দিলেন স্কুল শিক্ষক হেলাল ভাই। তাকে দেখে আমিও উৎসাহিত হয়ে আগামীতে মাল্টা চাষ করতে জমি প্রস্তুত করছি। 

এই বাগান দেখে অনেক বেকার যুবক  আগ্রহী হয়ে উঠেছেন মাল্টা চাষে।  আগামীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এর চাষ হবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।  বেলাল হোসেনের এই বাগান দেখে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন জেলার অনেকে।
মাল্টা গাছ পরিচর্যা্ করা হচ্ছে। ছবি: বাংলানিউজহরিপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুহা. নইমুল হুদা সরকার বলেন, মাল্টার আকার এবং স্বাদ পরীক্ষা করে এর ভবিষৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী আমরা । মাল্টা চাষের এই সফলতা আগামীতে কৃষককে আরো অনুপ্রেরণা যোগাবে এমনটাই মনে করি আমরা।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে এম মাঈদুদুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁয়ের মাটি অনেক উর্বর ও মাল্টা চাষের উপযোগী। তাই আমরা কৃষি বিভাগ প্রথমে বেলাল হোসেনকে পরামর্শ দেই মাল্টা চাষ করার জন্য। ঠাকুরগাঁওয়ের মাল্টা  অনেক  অনেক সুস্বাদু ও বড় বড় আকারের হয়। তাই আমরা আশা করি আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে মাল্টা চাষে অনেক এগিয়ে আসবে ।

বাংলাদেশ সময়: ১১৩০ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৬, ২০১৭
বিএস 
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa