ঢাকা, শুক্রবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

bangla news

১৫৫ জনের বিমার দাবি দিচ্ছে না পদ্মা ইসলামী লাইফ

মাহফুজুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৭-১৬ ৯:২৬:২১ এএম
পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড

ঢাকা: মৃত ১৫৫ জনের বিমার দাবি পরিশোধ করছে না পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড। 

লিবাস টেক্সটাইল লিমিটেডের ডাইং ব্যাচ হেলপার মো. আবু হানিফ (শ্রমিক তালিকায় ক্রমিক নং- ৯১ ও হাজিরা কার্ড নং-৬৭২৭)। পিতা-মোজহার আলী, মাতা-হালিমা খাতুন। গ্রাম-আড়ংগালি, পোস্ট-বড়মাঝ দক্ষিণা, থানা-তাড়াইশ, জেলা-সিরাজগঞ্জ। 

তিনি ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ নীট ওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারর্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সদস্য এই কোম্পানি থেকে চুক্তি অনুযায়ী পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের কাছে মৃত্যু শ্রমিকের দাবি উত্থাপন করেন। ২০১৪ সালের ৬ মে ইস্যুকৃত পলিসি নং-পিআইএলআইএল-বিকেএমইএ-১১১/১৪-০১০০। যার মেয়াদ-২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু আজ পর্যন্ত পদ্মা ইসলামী লাইফ মৃত্যু দাবি পরিশোধ করেনি।
 
শরীয়তপুর জেলার বেদেরগঞ্জ উপজেলার চরবান্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. বাশার। পিতা মো. আজমত, মাতা-ফরিদা বেগম। পোস্ট অফিস-চরভরা। তিনি ফ্যালকন ইন্টারন্যাশনাল নিট কম্পোজিটের কাটিংম্যান হিসেবে কাজ করেন (শ্রমিক তালিকায় ক্রমিক নং- ৯৫৬ ও হাজিরা কার্ড নং- সি ৪০৯১। 

২০১৫ সলের ১১ জানুয়ারিতে কার্ডিও রেসপাইরেটরি এরেস্টের কারণে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ১৯ জানুয়ারি (পিআইএলআইএল/বিকেএমইএ-১১৪/১-৫৭ নং পলিসিকৃত বিমার) পদ্মা ইসলামী লাইফের কাছে এই শ্রমিকের মৃত্যু বিমার দাবি উত্থাপন করে কোম্পানির পক্ষ থেকে। 

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পাশাপাশি কোম্পানিটির চাহিদা এবং কোম্পানিটির প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত ও দালিলিক ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও মৃত্যু দাবিটি পরিশোধ করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। 

মো. সাদ্দাম হোসেন পিতা-কামাল উদ্দিন, মাতা-মাজেদা বেগম। গ্রাম-আমিয়াপুর, পোস্ট-পাঠানবাজার, থানা- মতলব উত্তর, জেলা- চাঁদপুর। তিনি বিকিএমইএ’র সদস্য ফোর এইচ ফ্যাশন লিমিটেডের গাড়ি চালকের সহকারী। পলিসি নং-পিআইএলআইএল/বিকেএমইএ-১১১/১৪-০৪৮। যার মেয়াদ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ সাল পর্যন্ত। তিনি ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেন।
 
সাদ্দামের মৃত্যুর পর পদ্মা লাইফের কাছে ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু দাবি উত্থাপন করে বিকেএমইএ। মৃত্যু দাবির সঙ্গে  শ্রমিকের কারখানার সনদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃক ইস্যুকৃত মৃত্যুর প্রমাণপত্র, বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ গ্রহন করার জন্য মৃতের নিকটাত্মীয়ের দরখাস্ত। 

এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ছাড়পত্র জমাসহ মৃত্যুদাবি সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াও কোম্পানিটির চাহিদা এবং কোম্পানিটির প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত ও দালিলিক ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও মৃত্যুদাবিটি পরিশোধ করার কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। বরং দাবি উত্থাপনের পর থেকেই নানা ধরণে অবাস্তর প্রশ্ন তুলে সময় ক্ষেপন করছে কোম্পানিটি।

শুধু আবু হানিফ, বাশার এবং সাদ্দাম হোসেন নয়, সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পর বিকেএমই’র সদস্যভূক্ত কারখানার ১৫৫জন শ্রমিকের মৃত্যু বিমা দাবি পরিশোধ করছে না বিমা কোম্পানিটি। গত দুই বছর ধরে দেন-দরবার করেও মৃত্যু দাবির টাকা না পেয়ে বিমা কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে মামলা দয়ের করেছে বিকেএমইএ।
 
মামলায় প্রত্যেক শ্রমিকের গ্রুপ বিমা দাবি বাবদ দুই লাখ টাকা পরিশোধসহ বিলম্বিত সময়ের জন্য ব্যাংক রেটের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে মাসিক ভিত্তিতে সুদ পরিশোধ করার দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলা পরিচালনার খরচ এবং মৃত শ্রমিকের মৃত্যু দাবির টাকা না পাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যদের দুঃখ কষ্টের ক্ষতিপ‍ূরণ পরিশোধ করার কথা উল্লেখ করেছেন বিকেএমইএ'র জয়েন্ট সেক্রেটারি (ফায়ার এ্যান্ড আর্বিট্রেশন) মোহাম্মদ মানিক মিয়া।

বিকেএমইএ'র অভিযোগ, দাবি উত্থাপন করা হলেই নানা ধরণের অবান্তর, অযৌক্তিক ও বেআইনি প্রশ্ন তুলে ব্যাখ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে হয়রানি করছে পদ্মা লাইফ। দাবি নিষ্পত্তি না করে অসৎ উদ্যেশ্যে ঝুলিয়ে রেখে গ্রাহকের প্রাপ্য টাকা না দেয়ার পায়তারা করছে। অথচ মৃত শ্রমিকের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিকভাবে সুবিধা দিতেই গ্রুপ বিমার এ চুক্তি করা হয়েছে। বিমা কোম্পানিটির অসহযোগিতা ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে আজও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কোনো টাকা পায়নি।

মোহাম্মদ মানিক মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, শ্রমিকদের দুঃসময়ে এবং মৃত্যুর পর পোষ্যদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে বিমা পলিসি করেছি। কিন্তু বিমা কোম্পানিটি এখন সেই দাবিগুলো নিয়ে গড়িমসি করছে। তাই আমাদের ন্যায্য এবং আইনসঙ্গত বিমা দাবি পেতে আইডিআরএ বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে অভিযোগ করেছি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি পদ্মা লাইফের কর্মকাণ্ড বিমা আইন ২০১০ এর ৭২ ধারার ১ উপধারা এবং গ্রুপ বিমা বিষয়ে সম্পাদিত চুক্তি পত্রের ৬ দফার ঘ উপ-দফার লঙ্ঘন। বিমা আইন অনুসারে এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। 

এছাড়া বিমা কোম্পানিটি গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। যা দণ্ডবিধি ৪০৬/৪১৮/৪২০ ধারার অপরাধ। 

বাংলাদেশ সময়: ০৯২৬ ঘণ্টা, জুলাই ১৬,২০১৭
এমএফআই/বিএস 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Alexa