[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২০ নভেম্বর ২০১৭

bangla news

হাওরে বানের অজুহাতে চালের বাজার চড়া!

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-০৫-১৯ ৯:২৩:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: পাইকারি বা খুচরা- রাজধানীর সব বাজারেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব মানের চাল। দাম বাড়ার পেছনে হাওরের অকাল বান ও ভাঙনে ধান নষ্ট হওয়াকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে তাদের এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।

শুক্রবার (১৯ মে) বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, পাইকারিতে গড়ে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত ২০ এপ্রিল একই মানের চালের দাম ছিল ৪২ থেকে ৪৩ টাকা কেজি। একইভাবে মাঝারি মানের চাল এক টাকা বেড়ে ৪৭ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, উত্তম মানের চাল দুই টাকা বেড়ে ৫২ টাকা থেকে ৫৪ টাকা এবং বাঁশমতি চাল পাঁচ টাকা বেড়ে ৬৮ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও দেখা গেছে, হাওরে অকাল বান ও ভাঙনের পর থেকে এ অজুহাতে চালের দাম বাড়ছেই, কিছুতেই কমছে না।

টিসিবি জানায়, খুচরা বাজারে শুক্রবার প্রতি কেজি সরু চাল ৫০ টাকা থেকে ৫৬ টাকা, নাজিরশাইল সাধারণ মানের ৫০ টাকা থেকে ৫২ টাকা, নাজিরশাইল উত্তম মানের ৫২ টাকা থেকে ৫৬ টাকা, পাইজাম সাধারণ ৪৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, পাইজাম উত্তম মানের ৪৮ টাকা থেকে ৫০ টাকা ও মোটা চায়না ৪২ টাকা থেকে ৪৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত ২০ এপ্রিল সাধারণ মানের চাল ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা এবং উত্তম মানের চাল গড়ে ৪৮ টাকা থেকে ৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
 
মিরপুর-১ নম্বরের  হযরত শাহ আলী (র.) কাঁচাবাজারের শাকিল রাইস এজেন্সির মালিক শাকিল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘মিলাররা বলেন, হাওরের ভাঙনে অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে, কেনা যাচ্ছে না। যে কারণে তারা আমাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নিচ্ছেন’।

কুষ্টিয়ার চাঁদনি রাইসের মালিক হোসেন আলীর দাবি, ‘হাওরে ভাঙন ও নতুন বোরো ধান কৃষকের ঘরে পুরোপুরি না ওঠায় দাম বাড়তির দিকে। হাওর এলাকাসহ নওগাঁ ও বগুড়ায় বৃষ্টিপাতে নিচু এলাকার ধান ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। শিলাবৃষ্টিতেও ধানের ক্ষতি হয়েছে। এখন বাজারে তেমন একটা ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও এক হাজার ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা মণ (৪০ কেজি) দরে কিনতে হচ্ছে। ফলে চাল উৎপাদনের খরচও বেশি’।
 
হাওরে ভাঙনের কারণে চালের দামও চড়া। চলতি মাসে চালের কাটতি কম। রমজান ছাড়া চালের দাম কমার কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করছেন চালকল মালিকেরা।
 
জিইডি’র সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে মোট বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক কোটি ৯৫ লাখ মেট্রিক টন। অথচ হাওরের ভাঙনে ধানের ক্ষতি হয়েছে মাত্র সাত লাখ টন। তাই চালের দাম বাড়ার পেছনে হাওরের ভাঙনকে দায়ী করলে চলবে না। এটি ব্যবসায়ীদের মিথ্যা অভিযোগ। সামনে আরও দাম পাওয়ার আশায় ধান, চাল মজুদ করছেন তারা’।
 
‘আমার মনে হয়, এর পেছনে ব্যবসায়ীদের মুনাফালোভী মানসিকতাই বেশি দায়ী। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, হাওরে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় সামনে আরও চালের দাম বাড়বে। এ আশায় অনেকে ধান-চাল বাজারে ছাড়ছেন না’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ হতদরিদ্র। চালের দাম বাড়লে বিপুল সংখ্যক এ মানুষ বেশি সমস্যায় পড়েন। সুতরাং, চালের বাজার স্বাভাবিক করতে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে’।

বাংলা‌দেশ সময়: ২১২২ ঘণ্টা, মে ১৯, ২০১৭
এমআইএস/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

FROM AROUND THE WEB
Loading...
Alexa