 |
ইসলাম যেমন সুন্দর, তেমনি জীবনের প্রতিটি কাজে ইসলামের প্রয়োগ ইসলামের এই সৌন্দর্য আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ব্যক্তি জীবনের ক্ষুদ্র বিষয় থেকে শুরু করে সব বিষয়েই ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান রয়েছে।
আমরা ধারাবাহিকভাবে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিনিয়ত করে থাকি এমন কিছু বিষয়ে ইসলামের বিধিবিধান সহিহ হাদিসের আলোকে আলোচনা করব।
আজ আমরা খাবার গ্রহণের ব্যাপারে মহানবী (সা.) এর কিছু সুন্নাহ তুলে ধরবো।
খাবার গ্রহণের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের রিজিক দাতা, তাই খাবার গ্রহণের পূর্বে আল্লহকে স্মরণ করে শুরু করতে হবে। এতে যেমন আল্লহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় সঙ্গে সঙ্গে খাবারের বরকত বেড়ে যায়।
মহানবী (সা.) বিভিন্ন সময়ে সাহাবীদের সঙ্গে এই বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তেমনি কয়েকটি হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো:
বিসমিল্লাহ বলে ডান হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করা
হযরত উমর ইবনে সালামাহ(রা) বর্ণনা করেন, রাসুল(সা.) তাকে বলেছেন, বিসমিল্লাহ বলে ডান হাত দিয়ে খাবার খাও এবং নিজের সামনে থেকে খাও।(বুখারী, মুসলিম, রিয়াদ উস সালেহিন ৭২৮)
হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ খাবার খাবে সে যেন (প্রথমে) বিসমিল্লাহ বলে। যদি সে প্রথমে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায়, তবে যেন সে ‘বিসমিল্লাহি আওয়াল্লাহু ওয়া আখেরাহু (আল্লাহর নামেই সূচনা ও সমাপ্তি)’ বলে।(আবু দাউদ ও তিরমিযি,রিয়াদ উস সালেহিন ৭২৯)
খাবারের দোষ অন্বেশন না করা
মহানবী(স) কখন খাবারের দোষ ত্রুটি প্রকাশ করতেন না। তাই আমাদের ও উচিত খাবারের দোষ ত্রুটি অন্বেশন না করা। আমাদের পারিবারিক জীবনের নানা কলহের মাঝে অপসন্দনীয় খাবার একটি উল্লেখযোগ্য কারন। খাবারের লবন, মরিচ, তেলের তারতম্যের কারনে অনেক পরিবারেই দিনের পর দিন মনমালিন্য হয়ে থাকে। কিন্তু রাসুল(স) এর সুন্নাহর অনুসরন করলে এমন অনাকাংখিত অশান্তির উদয় হওয়ার কথা নয়।
বুখারী ও মুসলিমে এসেছে, হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল(সা.) কখনো খাবারের দোষ অন্বেশন করেননি। যদি তার পছন্দ হতো তাহলে খেয়ে নিতেন, আর যদি পছন্দ না হতো তাহলে রেখে দিতেন।
এই হাদিস থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে কখনো যদি খাবার পছন্দ নাও হয় তাহলে তার দোষগুলো প্রকাশ করে কাউকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।
খাবারের পাত্র পরিস্কার করে খাওয়া
আমাদের অনেকেই আধুনিকতার দোহাই দিয়ে প্লেটে কিছু খাবার রেখেই উঠে যায়, কিন্তু এটা করা একেবারেই উচিত নয়, বরং পুরো প্লেটের খাবার যথাযথভাবে খেয়ে নিতে মহানবী (সা.) আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন।
হযরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) হাতের আঙ্গুল ও খাবার পাত্র চেটে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, তোমরা জান না তোমাদের খাবারের কোন অংশে বরকত রয়েছে।(মুসলিম)
প্লেটের কিনারা থেকে শুরু করা খাবারের প্লেটের মাঝখান থেকে খাওয়া শুরু করা উচিত নয়।
এই সংক্রান্ত একটি হাদিস হচ্ছে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) রাসুল (সা.) এর থেকে বর্ণনা করেন, বরকত খাবারের (প্লেটের) মাঝখানে অবতীর্ণ হয়। সুতরাং কিনারা থেকে খাবার গ্রহণ কর, মাঝখান থেকে খেয়ো না।(আবু দাউদ ও তিরমিযি, রিয়াদ উস সালেহিন ৭৪৪)
অন্যের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া
মানুষের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়ার মাধ্যমে যেমন খাবারের অপচয় রোধ হয় তেমনি পরস্পরের মাঝে ভ্রাত্রিত্ববোধ আরও বাড়ে, রাসুল (সা.) এই বিষয়েও আমাদের দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।
হযরত জাবির (রা) বর্ণনা করেন, আমি রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তির খাবার দুই ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট এবং দুই ব্যক্তির খাবার চার ব্যক্তির জন্য আর চার ব্যক্তির খাবার আট ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট।(মুসলিম)
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুই খাবার খাওয়ার সঙ্গে জড়িত। আমাদের সামাজিকতা ও উৎসব প্রধানত খাবার কেন্দ্রিক, তাই খাবার গ্রহণের সময় এই ছোট ছোট বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল করে অনুশীলন করলে এটাও আমাদের পরকালের পাথেয় হয়ে থাকবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: হাদিসগুলো রিয়াদুস সালেহিন (বাংলা অনুবাদ) বই থেকে নেওয়া হয়েছে।
লেখক- শিক্ষার্থী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা, নিউজরুম এডিটর
মেইল: bn24.islam@gmail.com