৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, বুধবার মে ২২, ২০১৩ ৪:৪৫ এএম BDST banglanew24
13 Feb 2012   07:59:08 PM   Monday BdST
E-mail this

অস্তিত্ব সঙ্কটে মিঠাপুকুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল-০২


সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ও সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি, জেলা প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
অস্তিত্ব সঙ্কটে মিঠাপুকুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল-০২
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মিঠাপুকুর রেঞ্জ থেকে : বন বিভাগের মিঠাপুকুর রেঞ্জে যিনি অফিসার তিনিই ঝাড়ুদারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নেই অফিস স্টেশনারিজ বিল এবং যাতায়াত ভাতা। নিজেরাই ম্যানেজ করে চলেন বলে জানিয়েছেন সদর বিট (শাল্টি গোপালপুর) কর্মকর্তা তারিক আল হাসান।

বিশাল এই বনের রেঞ্জ অফিসে ডেপুটি রেঞ্জার, বনপ্রহরী এবং এমএলএসএস থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে ওই পদগুলো রয়েছে শূণ্য।
 
রেঞ্জ অফিসার আনিসুল হক বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, অনেকবার শূণ্য পদ পূরণের জন্য কথা বলেও কোনই সাড়া পাইনি।

রেঞ্জ অফিসার আরও জানান, ৬টির মধ্যে ২টি বিট অফিসারের পদ শূণ্য রয়েছে। বনপ্রহরী ১২ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৭ জন।

তিনি বলেন, আমাদের কষ্টের কথা কেউ লেখতে চায় না। এখানে একজন বিট কর্মকর্তা ৩টি বিটের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একটি বিট থেকে অন্য একটি বিটের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটারের মতো। তার ব্যবহারের জন্য একটি মটর সাইকেল দেওয়া হলেও তেল খরচ দেওয়া হয় না। তাহলে তিনি কিভাবে চলবেন?

তিনি যদি বাধ্য হয়েই অবৈধপন্থা অবলম্বন করেন তাহলে তাকে দোষ দিবেন কিভাবে?

একজন বিট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, আমরা তো নিজের গাড়ির জন্যই তেল পাই না। অথচ বড় অফিসাররা বন পরিদর্শনে আসলে বেশিরভাগ সময়ে তাদের গাড়ির তেলের পয়সা দিতে হয়।

এখানে ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় ভালো থাকা কঠিন বলে তিনি দাবি করেন।

রেঞ্জ অফিসার আরও দাবি করেন, বন বিভাগের জনবলের পাশাপাশি আবাসন সঙ্কট আরও প্রকট। সবগুলো বিট অফিসেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

বৃষ্টির দিনের অবস্থাতো আরও কঠিন। পানি ছাদ চুইয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি জানান, আশির দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। সে সময়ে করা একতলা ভবনগুলো বেশিরভাগই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সদর বিট কর্মকর্তার ভবনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন ১৯৫৬ সালে নির্মিত একটি মাটির ঘরে অফিস করছেন। যা দীর্ঘদিন ধলে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

সদর বিট কর্মকর্তা বলেন, ঘরটির টিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির দিন আসলে রাত জেগে কাগজপত্র পাহার দিতে হয়।

বনপ্রহরীদের আবাসনের অবস্থা আরও করুণ। শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও এই কর্মচারীদের বাসায় নেই এ ব্যবস্থা।

হেলেঞ্চা বিটে গিয়ে দেখা যায় সেখানে একটি করে মাটির ছোট্ট ঘর দেওয়া হয়েছে বনপ্রহরীদের থাকার জন্য। তাতে নেই কোনও টয়েলেট ও পানির ব্যবস্থা।

ওই বিটের বনপ্রহরী খাইরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, আমি পরিত্যাক্ত একটি মাটির ঘরে পরিবার নিয়ে থাকি।

পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের বিখ্যাত চরিত্র আসমানীর সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে তিনি বলেন, আমরা বনপ্রহরীরা হলাম বর্তমান যুগের আসমানী।

তিনি নিজের ঘরটি দেখিয়ে বলেন, টিন নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময়ে রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে তখন আমরা ঘটি বাটি নিয়ে বসে থাকি কোথায় পানি পড়ে সেখানে দেওয়ায় জন্য।

এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, আমি অনেকবার সংষ্কারের জন্য বলেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আমি কি করব? প্রহরীদের এ কষ্টের অবসান হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রেঞ্জের অফিসিয়াল কাজকর্মের জন্য কোনও রকম বিল দেওয়া হয়না দাবি করে রেঞ্জ অফিসার বলেন, দেশের আর কোনও বিভাগে এই অবিচার নেই।

ডিজিটালের ছোঁয়ার বাইরে থাকা বন বিভাগে কাগজ কেনার টাকাও অফিসারদের পকেট থেকে দিতে হয় বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১২

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান