 |
সম্প্রতি কক্সবাজারের রামু, টেকনাফ, উখিয়া, পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকটি অঞ্চল ও চট্টগ্রামের পটিয়া, পদুয়া ও লাখেরার ঐতিহ্যবাহী শতাধিক বছরের বৌদ্ধ মন্দির এবং বৌদ্ধ পল্লীতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ঘৃণ্য হামলার ঘটনায় টোকিওতে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৌদ্ধদের একটি প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধ দলটি গত ৪ অক্টোবর সন্ধ্যে ৭টায় টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আসে। এরপর দলের সদস্যরা রাষ্ট্রদূতের সংগে দেখা করে বৌদ্ধ মন্দির ও বৌদ্ধদের বাড়িঘরে ধ্বংস-যজ্ঞের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জাপানে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এসময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বিস্তারিত আলাপ করেন। প্রতিনিধি দলকে তিনি জানান, বর্বরোচিত সেই ঘটনার জন্যে ব্যক্তিগতভাবে সত্যিই তিনি লজ্জিত। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
এসময় রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন আরো বলেন- "সরকার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত বিচারের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিক এবং এ বিষয়ে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি মনে করি, কিছুদিনের মধ্যেই দোষী সব ব্যক্তি ও সম্পৃক্ত গোষ্ঠীকে বাংলাদেশ সরকার আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।”
সবশেষে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশের সকল বৌদ্ধদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সরকারের বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়। এতে বৌদ্ধপল্লীতে ঝটিকা হামলায় আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীনদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং যাবতীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান করাসহ ধ্বংস করে দেয়া শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দিরগুলো অনতিবিলম্বে পরিপূর্ণ পুনঃস্থাপন ও নির্মাণের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারিভাবে বহনের জন্যে জোরালো দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে, বাংলাদেশের প্রত্যেক বৌদ্ধ নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সন্তোষজনক পদক্ষেপ নেয়ার বলিষ্ঠ দাবিও জানানো হয়।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন- অজিত কুমার বড়ুয়া, শিমূল বড়ুয়া, সজল বড়ুয়া, রাজেশ বড়ুয়া (বাবু), দেবাশিষ বড়ুয়া ও দানবীর বড়ুয়া।
বাংলাদেশ সময়: ১৩১১ ঘণ্টা, ২৯ অক্টোবর, ২০১২
সম্পাদনা: একে