 |
দারুচিনি দ্বীপ আর রূপালি দ্বীপে
এই আমি তোমায় জনম জনম খুঁজে ফিরি,
বহুদূরে কোথাও হয়তো সেই অচিনপুরে এমনকি নন্দিত নরকেও
মহাপুরুষ কবির অপেক্ষায়
বসে আছি কিন্তু কোথাও কেউ নেই।
একদিন তুমি আমায় ডেকে ছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে
শ্রাবণ মেঘের দিনে তখন জমে ছিল আকাশ ভরা মেঘ,
মাতাল হাওয়ার বেগে ছুটে এসেছিল সেই মেঘ শঙ্খনীল কারাগার থেকে,
ভিজে একাকার আমায় দিয়েছিলে তিথির নীল তোয়ালে।
ময়ূরাক্ষী নদীর ওপারে বসে হিমুর পারাপার দেখব
মিসির আলীর অমীমাংসিত রহস্যকে সমাধান করতে সে
এসেছিল গৌরীপুর জংশান-এ,
মনে হয় সেখান থেকে তার আর ফেরা হয় নি।
আমি এবং আমরা সাথে বৃক্ষমানব, ম্যাজিক মুন্সী, কালো জাদুকর
আর কুটু মিয়া ভয়কে জয় করে,
কৃষ্ণপক্ষ-এর সাথে নক্ষত্রের রাত-এর
মিলন দেখতে এসেছি,
এইসব দিন রাত্রি আর হয়ত আসবে না।
নিতু তোমাকে ভালোবাসি বলতে বলতে
দরজার ওপাশেই সাজঘরে ঢুকেছিলাম,
দেখি বাসর ঘর সাজাতে ব্যস্ত ইমা,
নিতুকে পেলাম আয়না ঘরে
ফুলের সৌরভে মৌ মৌ করছে সেটা।
বোতল ভূত আর পেন্সিলে আঁকা পরীর গল্পটা
শেষ করে সেদিন বাইরে এসে দেখি পারুল এবং তিনটি কুকুর দাড়িয়ে আছে,
শূন্যের মাঝে এই আমি ভাবছি কে কথা কয় ওখানে
আঙ্গুল কাটা জগলু নামের সেই অমানুষটা
যে বাস করে তোমাদের এই নগরেই সে?
আমি সম্রাট হুমায়ূনের দ্বিতীয় মানব
বাঘবন্দী মিসির আলীর খোঁজে নীরার গ্রামের বাড়িতে যাই,
মধ্যাহ্নের কোন এক সময় চিৎকার করে বলি- মিসির আলী আপনি কোথায়?
তাকিয়ে দেখি মিসির আলী চশমা পড়ে আছে মাটিতে।
আজ হিমুর বিয়ে অথচ বন্ধু শুভ্রসহ হিমু রিমান্ডে
জাতীয় দৈনিকে ছাপা হয়েছে
হিমুর একান্ত সাক্ষাতকার ও অন্যান্য অনেক তথ্য,
অবশেষে মুক্তি পায় শুভ্র এবং হিমু
অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো দেবীর।
জোছনা ও জননীর গল্প বলে বিখ্যাত লোকটি
বললেন- আমিই মিসির আলী, তুলে দিলেন হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম
আর সে আসে ধীরে ও যখনই নামিবে আধাঁর! নামের গল্প দুটি শোনালেন।
হিমু সুখে গান গেয়ে উঠল-
দেবী তুমি আমার বৃহন্নলা,
তুমি আমার নিশীথিনী।
কাঠপেন্সিল, রংপেন্সিল, বলপয়েন্ট
আর ফাউন্টেইন পেন হাতে নিয়ে বসে আছি
হাতের নিচে এক খণ্ড সাদা কাগজ,
আজ নিউইয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝকে রোদ
তবুও কেন জানি লিখতে ইচ্ছে করছে না কিছু, শৈশব
চলে যায় বসন্তের দিনগুলো এমনি করে।
*প্রয়াত কথাসাহিত্যক হুমায়ূন আহমেদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের নাম বব্যবহার করে কবিতা লেখা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৪০ ঘণ্টা, ২২ জুলাই, ২০১২