 |
ঢাকা: স্রেফ নামের মিল থাকার কারণে অন্যের অপরাধে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের জনৈক জাকির হোসেনকে কাশিমপুর কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তাকে আটক রাখা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে জাকির হোসেনের আটকের বৈধতা যাচাই করতে তাকে কারাগার থেকে আগামী ১৯ জুলাই আদালতে হাজির করতেও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে “একজনের যাবজ্জীবন খাটছেন অন্যজন!” প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনলে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেন এ আদেশ দেন।
দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজি ও কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পত্রিকার প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি কে এম সাইফুদ্দিন।
তিনি বাংলানিউজকে জানান, ``জাকির হোসেনকে অবৈধভাবে আটক রাখা হয়েছে কিনা তা জানতে আদালত তাকে ১৯ জুলাই হাজির করতে বলেছেন। এছাড়াও আটক রাখার বিরুদ্ধে রুলও জারি করেছেন আদালত।``
বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ``শুধু নামের মিল থাকায় নির্দোষ হয়েও কারাগারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাঁচ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জনৈক জাকির হোসেন। অপরাধীকে গ্রেফতারে পুলিশের ব্যর্থতা ও আন্তরিকতার অভাবে নিজ নামের আরেক ব্যক্তির কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে জাকিরকে।``
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ``১৯৯১ সালের ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার বাজবী এলাকায় ছিনতাইকারীদের হাতে বিকচাঁন মিয়া নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পরের বছর ১০ মে একই থানার বেপারীপাড়ার সামসুদ্দিনের ছেলে জাকির হোসেনকে অন্যতম আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। মামলায় নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা আদালত জাকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। |
নামে মিল থাকায় বেপারীপাড়ার পার্শ্ববর্তী হাটখোলাপাড়া এলাকার সামসুল হকের ছেলে মো. জাকির হোসেনকে ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি প্রকৃত জাকিরের দণ্ডভোগ করছেন। এখন তিনি রয়েছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। আর প্রকৃত জাকির এখনো এলাকায় বহাল তবিয়তে অবস্থান করছেন। গ্রেফতারের পর নির্দোষ জাকিরের মুক্তি চেয়ে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে তার পরিবার।’
বাংলাদেশ সময়: ১৪৩২ ঘণ্টা, জুন ২১,২০১২
এমইএস/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
jewel_mazhar@yahoo.com