 |
খুলনা: ওয়ানডে ক্রিকেটে যে নিয়মগুলো সংযোজন হয়েছে, তা নিয়ে চিন্তিত হওয়ারই কথা। আইসিসি ৩০ অক্টোবর নতুন নিয়ম ঘোষণার পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। শুক্রবারের ওয়ানডে ম্যাচে ওই নিয়মের সঙ্গে তাল রেখে খেলতে না পারলে ভোগান্তির শেষ থাকবে না।
যদিও বিসিবি একাদশের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটা চলতি নিয়মেই খেলা হয়েছে। একদিনের এই প্র্যাকটিস দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে যে তার সুফল পাওয়া যাবে না, তা মুশফিকুর রহিমও জানেন,‘যত কম সময়ে এটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়, ততই ভালো। কারণ পাঁচটা ফিল্ডার ওপরে নিয়ে এলে এবং ক্রিজে সেট ব্যাটসম্যান থাকলে, স্পিন এবং পেস বোলারদের জন্য খুব কঠিন হয়ে যায়। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটা পরিকল্পনাও আছে। আশা করছি সে পরিকল্পনামতো খেলতে পারলে খুব একটা সমস্যা হবে না।’
অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সেট করলে ৩০ গজের ভেতরে পাঁচজন ফিল্ডার রাখে। এ ধরনের ফিল্ডিং সাজাতে অধিনায়ককেও সাহসী হতে হয়। বাংলাদেশের মতো দলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস লেভেল ওই পর্যায়ে নেই যে, চারজনকে দিয়ে পুরো বাউন্ডারিলাইন কভার করা যাবে। কিন্তু আইসিসির নতুন নিয়মে ‘নন পাওয়ার প্লে’র ৩৫ ওভারে এখন থেকে আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজাতেই হচ্ছে। তারওপর প্রতি ওভারে দুটো বাউন্সারের ভীতি মাথায় থাকবে ব্যাটসম্যানদের। বাংলাদেশ দলে এমন কোন জোরে বোলার নেই, যারা বাউন্সার দিয়ে ছয় ফিট উচ্চতার ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের আঘাত করবে।’ কিন্তু স্পিন বোলিং উপদেষ্টা কোচ সাকলাইন মুস্তাকের দাবি এই নিয়মের ফলে সুবিধাই পাবে বাংলাদেশ,‘পাঁচজন ফিল্ডার ৩০ গজের ভেতরে আগেও রাখা হতো। আক্রমণাত্মক ফিল্ডিংয়ের কিছু সুবিধা থাকে, ব্যাটসম্যানরা বেশি সিঙ্গেল নিতে পারবে না। বড় শট খেলতে গেলে আউট হওয়ার সুযোগ থাকবে।’
ডানহাতি অফ স্পিনার সোহাগ গাজীও মনে করেন ফিল্ডিংয়ের পরিবর্তিত নিয়মের সুবিধাই বেশি,‘আমি মনে করি ভালো হয়েছে, সিঙ্গেলস কম হবে। ছয়টা বলে যে ছয়টা বাউন্ডারি হবে তাও না। বরং আমাদের জন্য ভালো হয়েছে সিঙ্গেলস আটকাতে পারবো। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো সিঙ্গেলসে বেশি রান তোলে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি তো নতুন নিয়মের কথা ভেবে স্পিনারদের জন্য আফসোসই করলেন,‘এটা ব্যাটসম্যান গেম হয়ে যাবে। আগে পাঁচজন ফিল্ডার বাইরে থাকায় ৩০০ প্লাস রান হতো। এখন চারজন ফিল্ডার থাকবে, স্পিনারদের জন্য আমার মায়া হচ্ছে। তাদেরকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে এবং মিতব্যয়ী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’
স্যামির দাবি ঠিক হলে, ক্রিস গেইল, মারলন স্যামুয়েলস, কাইরান পাওয়েল, কিয়েরন পোলার্ড এবং ড্যারেন ব্রাভোরা শক্তির খেলায় মেতে উঠবেন। বলগুলো আছড়ে ফেলবেন সীমানা দড়ির ওপরে। বোলারদের নাকের জল চোখের জল একাকার করে রানের পাহাড় গড়বেন ব্যাটসম্যানরা। সত্যিই এমন কিছু হয় কি না তা দেখার জন্য শুক্রবারের ওয়ানডে শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭২৯ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১২
এসএ/এএইচবি