গাইবান্ধা: ঠিকাদারের চোখের সামনেই বিদ্যালয় চলে গেলো ব্রহ্মপুত্রের মাঝখানে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এমনি এক ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র পাড়ের এক গ্রামে।
উপজেলার ওই ইউনিয়নে নদী ভাঙনের কবলে পড়া দক্ষিণ কৃষ্ণমনি রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকায় নিলামে ক্রয় করেন পলাশ মিয়া নামে এক ঠিকাদার।
নিলামের পরপরই তরিঘড়ি করে ওয়ার্ক অর্ডার নিয়ে বিদ্যালয় এলাকায় হাজির হন তিনি ও তার লোকজন। নদীর ধারে গিয়েই দেখলেন ব্রহ্মপুত্র গ্রাস করছে বিদ্যালয়টিকে।
এরপরও তিনি তার লোকজনকে দিয়ে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের লোহার চৌকাঠ ও কাঠের দরজা-জানালা, গ্রিল এবং ইট খোলানোর কাজ শুরু করলেন। এ সময় আস্তে আস্তে নিচের দিকে দেবে যেতে শুরু করে স্কুলটি। এই ভয়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গেলেন ওই কাজে নিযুক্ত শ্রমিকরা।
এদিকে, চোখের পলক পড়তে না পড়তেই সবার সামনেই ব্রহ্মপুত্রের মাঝখানে চলে গেলো বিদ্যালয়টি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার পলাশ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘গত কয়েকদিনের অব্যাহত নদী ভাঙনের ফলে এ এলাকার আবাদী জমিসহ স্কুল কলেজে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ‘সব ঠিকাদারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যালয়টি নিতে আমার প্রায় ৫ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। কিন্তু যে টুকু ভাঙতে পেরেছি তাতে মাত্র ৫০ হাজার টাকা উঠতে পারে।’
এর আগে প্রথম দফায় ১ লাখ ৫১ হাজার, দ্বিতীয় দফায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিদ্যালয়টির ডাক উঠলেও উপজেলা টেন্ডার কমিটি দর আশানুরূপ না হওয়ায় তৃতীয় দফা নিলামের উদ্যোগ নেয়।
এদিকে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘নদী দুরে থাকায় তিনি নিলাম বন্ধ রাখতে প্রশাসনকে একাধিকবার আবেদন দিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে ভবনটি ভেঙে যাবে তিনি কল্পনাও করেননি।’
এ ব্যাপারে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদি-উল-সহিদ বাংলানিউজকে বলেন, উপজেলা টেন্ডার কমিটির সিদ্ধান্তে একাধিকবার বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দর বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু গত দু’দিনে হঠাৎ নদী কাছে চলে আসায় বিপাকে পড়ে যায় টেন্ডার কমিটি। ফলে বাধ্য হয়ে তরিঘরি করে ভবনটি নিলামে বিক্রি করতে হয়েছে।
প্রসঙ্গত: উত্তরাঞ্চলে গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে ব্রহ্মপুত্রসহ ওই এলাকার নদীগুলোতে। এর ফলে গাইবান্ধাসহ আশপাশের অনেক আবাদী জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে নদীগর্ভে। ভাঙন থেকে রেহাই পাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার অনেক বাড়িঘর।
বাংলাদেশ সময়: ০৭৫০ ঘণ্টা, জুন ৩০, ২০১২
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর।