 |
নাফে মোহাম্মদ এনাম ২০০১-২০০৬ইং পর্যন্ত একচেটিয়াভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন শীর্ষ পত্রপত্রিকায় হরর গল্প লিখে তরুণদের মাঝে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন। মাসিক কিশোর তারকালোকে পাঠকপ্রিয়তা পেলে প্রকাশ করেন প্রথম হরর বই ‘অলৌকিক প্রহর’(২০০৫)। ‘অলৌকিক প্রহর’ নিয়েই নাফে মোহাম্মদ এনাম সবার নজরে আসেন। পরে তার দু’নম্বর বই ‘জিঘাংসা’(২০০৬) বাজারে আসে। এরপর দীর্ঘ বিরতি। লিখেছেন ছোট ছোট হরর গল্প ব্লগে। তুমুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন ২০০৮-০৯ এর দিকে। ব্লগে তুমুল পাঠকপ্রিয়তা পেয়ে সাহস করে বাংলাদেশের প্রথম কেবলমাত্র হরর বিষয়ক হরর ছোটকাগজ ‘হররপত্রিকা’ বের করেছিলেন। ৩-৪ বছর আগে ব্লগে লেখা তার ছোট ছোট হরর গল্প নিয়ে বেরিয়েছে ‘ডরর কিচ্ছা’। আকৃতিতে ছোট বইটি ভাবনায় আকর্ষণীয়।
বইটির প্রচ্ছদ করেছেন লেখক নিজেই। বইটি প্রকাশ করেছে সূচিপত্র প্রকাশনী। লেখকের এ বইটি পাওয়া যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জনপ্রিয় ওয়েব সাইট ইবেয় ডট কমে (www.ebay.com)। বইটি সন্ধানে Dorror kichcha লিখে খোঁজ করলেই পাওয়া যাবে। সম্ভবত বাংলাদেশের কোন তরুণের এই প্রথম কোন বাংলা হরর বই জনপ্রিয় এই অনলাইন ওয়েব সাইটে পাওয়া যাচ্ছে। লেখকের বইটির ফ্ল্যাপ জুড়ে লেখা আছে:
‘রহস্য, রোমাঞ্চ আর ভৌতিক গল্প পড়তে পড়তে লিখতেও শুরু করি একদিন। লেখালেখির বয়স একযুগেরও বেশি। প্রথম বই অলৌকিক প্রহর প্রকাশ করি ২০০৫-এ। হররপত্রিকা নামে কেবলমাত্র হরর বিষয়ক ছোটকাগজও সম্পাদনা/প্রকাশনা করেছিলাম।
মাথায় কেবল রহস্য, রহস্য এবং কেবলই রহস্য! আদিভৌতিক, অতিপ্রাকৃত, রহস্যময়, রোমাঞ্চকর সব কিছুর প্রতিই একরকম মায়া টানে। দু’য়েকটা শর্টফিল্ম, ডকুমেন্টারি বানিয়ে হাতেখড়ি হয় ফিল্মমেকিংয়ে! ভাবছি ছোট ছোট হরর শর্টফিল্ম করে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করব ভিন্ন ভিন্ন দেশে।
রহস্য সাহিত্য পুরষ্কার আমার জীবনের একটি বড় প্রকল্প। হঠাৎ করেই কোন লেখকের কাছে নগদ অর্থসহ পৌঁছে যেতে পারে এই প্রকল্পের সার্টিফিকেট, এমনই রহস্যময় হবে এর কাজ!
ব্যক্তিগত জীবনে আমি দারুণ সাদামাটা, পৃথিবীর সকল শুদ্ধ জাতি আর তাদের মাতৃভাষার প্রতি আমার রয়েছে পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা। ধর্ম আমাকে যুক্তিশীল করেছে, তাই পৃথিবীর সকল ধর্ম আমার কাছে একধরনের গবেষণা। আর ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে আমার নিজেকে আবিষ্কার করার সবচে’ বড় মাধ্যম। বাংলাদেশের বর্তমান চিত্রপট হচ্ছে আমার দেখা সবচে’ বড় ভৌতিক চলচ্চিত্র, আর এর নিকট ভবিষ্যৎ কি হতে পারে তা অনুমান করাটাই হচ্ছে আমার জীবনের সবচে’ ভয়ংকর ভৌতিক গল্প!’
বইটিতে মোট ৩৪টি হরর গল্প স্থান পেয়েছে। সবগুলো গল্পই সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের। কোনটি ভূতের, কোনটা রহস্যগল্প, কোনটা সায়েন্স ফিকশান, কোনটা আবার ওয়েস্টার্ণ, আবার অতিপ্রাকৃত গল্পও আছে, আছে জীবনছোঁয়া বাস্তব গল্পও।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২০ ঘণ্টা, ২৬ জুলাই, ২০১২
সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস, নিউজরুম এডিটর