বাগেরহাট: বাগেরহাটের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কুলছাত্রী সাবিয়া সুলতানা সাথীর জোর করে অশ্লীল ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে ইন্টারনেটে, টিভি চ্যানেল মাইটিভি এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের হুমকি দেওয়ায় ওই ছাত্রীর আত্মহননের ঘটনায় ২ সংবাদকর্মীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
শুক্রবার রাতে সাবিয়ার বাবা শেখ আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন- দৈনিক জন্মভূমি ও দৈনিক জনতা পত্রিকার বাগেরহাট প্রতিনিধি মোল্লা আব্দুর রব, মাইটিভি ও দৈনিক অনির্বানের প্রতিনিধি রিফাত আল মাহমুদ, শহরের পুরাতন বাজার এলাকার এম এ ওয়াদুদের ছেলে ১০ম শ্রেণির ছাত্র আল মুজাহিদ পিয়াল (১৬), কেবি রোড এলাকার অ্যাডভোকেট সৈয়দ জাহিদ হোসেনের ছেলে সৈয়দ সীমিন হাসান সীমান্ত (১৬),দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মানজুল ইসলাম (১৬) ও দড়াটানা এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে মোল্লা আব্দুল হান্নান (১৬)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকার শেখ আলমগীর হোসেনের মেয়ে সাবিয়া সুলতানা সাথী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
গত ২৪ মার্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে জোর করে তার ৪ সহপাঠী অশালীন ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে। পরে এ বিষয়টি সাথী তার পরিবারকে জানালে তার বাবা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায়।
একপর্যায়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই ৪ ছাত্রকে বহিস্কার করে।
এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সম্প্রতি এ মামলার আসামি ২ সংবাদকর্মী ধারণ করা ওই অশালীন ছবি নিয়ে সাথীর বাড়ি যায়।
এসময় সাথীর বাবা আলমগীরের কাছে তার মেয়ে সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে সাথীর সাক্ষাৎকার নিতে চায়।
সাথী সাক্ষাৎকার দিতে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ছবি ইন্টারনেটে, টিভি চ্যানেল মাইটিভিতে এবং পত্রিকায় প্রকাশের হুমকি দেয় এবং গোপনে যোগাযোগ করতে বলে।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সাথী বিষপানে আত্মহত্যা করে।
মামলার বিষয়ে বাগেরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আবু জিহাদ বাংলানিউজকে জানান, আসামিদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
বাংলাদেশ সময়: ২০৪৭ ঘণ্টা, মে ২৬, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর