 |
ঢাকা: ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার আমলে বেসরকারি বিনিয়োগে কয়েকটি মার্কেট নির্মাণে অনুমতি দানে প্রাথমিক অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
তবে সংসদীয় কমিটির এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সাদেক হোসেন খোকা। তিনি এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
সম্প্রতি কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এ অনিয়মের খোঁজ পেয়েছে কমিটি। এসব মার্কেট নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে তারা।
এদিকে সাদেক হোসেন খোকার আমলে ডিসিসির গাড়ি পার্কিং, মার্কেট নির্মাণ ও দোকান বরাদ্দের অনিয়ম তদন্ত করতে একটি সংসদীয় উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে (লিটন চৌধুরী) আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আশরাফ আলী খান খসরু ও মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।
এদিকে আগামী ঈদের পরই ডিসিসির গাড়ি পার্কিং, মার্কেট নির্মাণ ও দোকান বরাদ্দের অনিয়ম তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে সংসদীয় উপ-কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক নূর-আলম-চৌধুরী বাংলানিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দেওয়া একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মেয়র খোকার আমলে বেসরকারি বিনিয়োগে ৮টি কার পার্কিং কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৫টি মার্কেটের নির্মাণের বিষয়ে ডিসিসি’র সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এগুলো হলো: বোরাক রিয়েল এস্টেট এর সঙ্গে চুক্তি হওয়া বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্স এর উপরের তলাগুলো নির্মাণ প্রকল্প, আমিন অ্যাসোসিয়েটস ওভারসিজ এর সঙ্গে চুক্তি হওয়া গুলশান-১ এ আধুনিক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স প্রকল্প, ইউনাইটেড সিটি টুইন টাওয়ার ডেভেলপারস এর সঙ্গে চুক্তি হওয়া গুলশান-২ এ আধুনিক কর্মাশিয়াল কমপ্লেক্স প্রকল্প, এম.আর ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রায়ের বাজার ডিসিসি কমার্শিয়াল কাম অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প ও মোহাম্মদপুর টাউন হল কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।
ওই প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বোরাক রিয়েল এস্টেট এর সঙ্গে চুক্তি হওয়া প্রকল্পে ডিসিসির অংশীদারিত্ব ৩০ শতাংশ। বাকি ৭০ শতাংশ বোরাক রিয়েল এস্টেটের। একইভাবে অন্যগুলোরও ক্ষেত্রেও ডিসিসির অংশীদারিত্ব ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। শুধু গুলশান-১ এ আধুনিক কর্মশিয়াল কমপ্লেক্স প্রকল্পে ডিসিসির অংশ ৩৭ শতাংশ।
আশরাফ আলী খান খসরু বাংলানিউজকে বলেন, “সরকারি জমিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করবে। কিন্তু অংশীদারিত্ব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কম। এ থেকেই বোঝা যায়, নির্দিষ্ট ওইসব প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এসব অংশীদারিত্ব বণ্টন করা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্স এর ১৪তলা পর্যন্ত নির্মাণের জন্য বোরাকের সঙ্গে চুক্তি হয়। পরে বোরাক ৩০তলা পর্যন্ত নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবে অনুমোদন না দিলেও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সংসদীয় কমিটির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক ডিসিসি মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বাংলানিউজকে বলেন, “অনেক তদন্তইতো হলো। আর্মি করলো, দুদক করেছে, সংসদীয় কমিটি করছে। তদন্ত করলে অসুবিধা কি?”
তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। সরকার যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিতে আকণ্ঠ ডুবে আছে সেখানে এ ধরনের কাজ প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।”
বাংলাদেশ সময় :১৭৪২ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৩, ২০১২
এসএইচ/ জেডএম; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com