 |
| ছবি: নাজমুল হাসান/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
সুপ্রিম কোর্ট থেকে: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থান করা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দেখভাল করতে সারারাত ব্যস্ত ছিলেন আইনজীবীরা। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
রাত ১০টার দিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বাইরে থেকে রান্না করা খাবার এনে জামিনের জন্য অবস্থানকারী নেতাদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেন। খাবার মেনুতে সাদা ভাতের সঙ্গে ছিল মুরগির মাংস, সিদ্ধ ডিম, সবজি ও চপ।
রাত ১১টার দিকে খাবার শেষে হাত ধুতে বের হলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার ও নগর কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম। অবশ্য তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেন নি। জামিন নিতে আসা বেশির ভাগ নেতাই আইনজীবী সমিতি ভবনের ৩ তলায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের কক্ষে অবস্থান করছেন।
রাত ১২টার দিকে সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ফাহিমা নাসরীন মুন্নীসহ আইনজীবীরা তাদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর আইনজীবী সমিতি ভবনে আসেন সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি সানাউল্লা মিয়া।
এ সময় জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা এসেছি নেতাদের (বিএনপি নেতাদের) জামিনের কাগজপত্র ঠিক করতে। সকালে তো নেতাদের আদালতে যেতে হবে। এর কিছুক্ষণ পর সানাউল্লা মিয়া বের হয়ে চলে যান। তারপর রাত ২টার দিক জয়নুল আবেদীনও চলে যান।
সকালে ফজরের নামাজের পর আইনজীবী সমিতি ভবনে আসেন বিএনপি নেতা ফজলুল হক মিলন। তিনি সরাসির ৩ তলায় নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে যান।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের ৩টি গেটে আইনজীবীসহ সবাইকে তল্লাশি করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রসঙ্গত, হরতালের সময় বোমা হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় আত্মগোপনে থাকা বিএনপির শীর্ষ নেতারা হাইকোর্টে অবস্থান করছেন। সোমবার তাদের জামিন আবেদনের বিষয়ে শুনানি হতে পারে।
হাইকোর্ট সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস,গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব আবদুস সালাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদলের সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বর্তমানে আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থান করছেন।
তবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থান করছেন কিনা তা জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, শাহবাগ থানার মামলায় মির্জা ফখরুলসহ ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও এ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা, আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব আবদুস সালাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, রেহানা আখতার রানু, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, শাম্মী আখতার, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, যুবদলের সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, এলডিপির সভাপতি ড. অলি আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থসহ ২৮ জনকে আসামি করা হয়।
অন্যদিকে, তেজগাঁও থানার মামলায় আসামি করা হয়েছে- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মোট ৪৪ জনকে।
এ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে- মির্জা ফখরুল, এম কে আনোয়ার, হান্নান শাহ, সাদেক হোসেন খোকা, রুহুল কবির রিজভী, অলি আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও জামায়াতের আমির মকবুল আহমেদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় আসামিরা হরতালের সময় জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এ মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন- গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমান উল্লাহ আমান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, সাইফুল আলম নিরব, হাবিব উন খান সোহেল, মীর শরাফত আলী সুপু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধানসহ ৩৬ জন।
বাংলাদেশ সময়: ০৮১০ ঘণ্টা, মে ০৭, ২০১২
এমইএস, সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর