 |
ঢাকা: ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটের অধিকাংশ কোম্পানির অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, ওটিসি মার্কেটে থাকা অনেক কোম্পানিরই কারখানা তো নেই। এমনকি তাদের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কোম্পানির অফিসও নেই, অবার অনেক কোম্পানির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ডিএসই ১৯টি কোম্পানি, তাদের কার্যক্রম ও কারখানা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। যার মধ্যে অধিকাংশই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনও অস্তিত্ব নেই ৪টি, কোন উৎপাদন করে না ৯টি, আংশিক উৎপাদন করে ৪টি এবং পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন করে ২টি কোম্পানি।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে টেক্সটাইল খাতের ৪টি, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ৫টি, প্রকৌশল খাতের ২টি, জুট খাতের ১টি, পেপার খাতের ৩টি, ওষুধ ও কেমিকেল খাতের ২টি, আইটি খাতের ১টি এবং বিবিধ খাতের ১টি।
অস্তিত্ব নেই
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯টি কোম্পানির মধ্যে ৪টির কোন অস্তিত্ব তারা খুঁজে পায়নি। কোম্পানিগুলো হলো- চিক টেক্সটাইল, রাসপিট ডাটা, রাসপিট ইন এবং সালেহ কার্পেট।
উৎপাদন বন্ধ
৯টি কোম্পানি দীর্ঘদিন থেকে তাদের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। অর্থাৎ কোম্পানির কোনও পণ্য উৎপাদিত হয় না। কোম্পানিগুলোর মধ্যে- গত ৪ বছর ধরে আমান সি ফুড, গত ৯ বছর ধরে বেমকো, গত ৬/৭ বছর ধরে ডায়নামিক টেক্সটাইল, গত ৭ বছর ধরে জার্মান-বাংলা জেভি ফুড, গত ৭ বছর ধরে এম হোসেন গার্মেন্টস, গত ৭/৮ বছর ধরে মেটালেক্স কর্পোরেশন, গত ৪/৫ বছর ধরে ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনাল, গত ৪ বছর ধরে রোজ হিভেন বল পেন এবং গত ৬ বছর ধরে টিউলিপ ডাইরি কোম্পানির উৎপাদন একেবারে বন্ধ। এমনকি কোন কোনও কোম্পানির অফিসও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আংশিক উৎপাদনে আছে
৪টি কোম্পানি অংশিক উৎপাদন কাজ অব্যাহত রেখেছে। কোম্পানিগুলো হলো- আজাদি প্রিন্টারর্স, ম্যাক এন্টারপ্রাইজ, পারফিউম কেমিকেল ও সজিব নিটওয়্যার।
পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন করে
এছাড়া পূর্ণ উৎপাদনে আছে ২টি কোম্পানি। কোম্পানি দুটি হলো- বাইওনিক সি ফুড এবং ম্যাক পেপার।
জানা গেছে, ডিএসই এখন এসব কোম্পানিকে ওটিসি থেকে তালিকাচ্যুত করার কথা ভাবছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ওটিসি মার্কেটের প্রায় ৬ হাজার বিনিয়োগকারীর হাতে কাগুজে শেয়ার রয়েছে। অস্তিত্বহীন এসব কোম্পানির ব্যবসাও বন্ধ থাকায় বিনিয়োগকারীরা কোন লভ্যাংশ পায় না। আবার শেয়ার বিক্রিও করতে পারছেন না অনেক বিনিয়োগকারী। ফলে আটকে আছে তাদের বিনিয়োগ।
আবার এসব কোম্পানির শেয়ারে আটকে আছে বিনিয়োগকারীদের টাকা। ফলে ক্রেতার অভাবে তারা তাদের ওই শেয়ার বিক্রিও করতে পারছেন না।
ওটিসি মার্কেটের বিনিয়োগকারী জামাল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, “গত ৩ মাস ধরে বিক্রির অর্ডার দিয়েও কোনও ক্রেতা না পাওয়ায় শেয়ার বিক্রি করতে পারছি না।”
তার অভিযোগ, “কোম্পানি পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কোম্পানিগুলোকে ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। কিন্তু আমরা এসব কোম্পানির শেয়ারে টাকা লগ্নি করে আটকে আছি।”
উল্লেখ্য, কোম্পানির উৎপাদ বন্ধ থাকলে, অব্যাহতভাবে লোকসান করলে, বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত লভ্যাংশ না দিলে, নিয়মিত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করলে এসইসি ওইসব কোম্পানিকে ওটিসি মার্কেটে পাঠায়।
জানা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসইতে) বর্তমানে ওটিসি বাজারভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৬৮ এবং সিএসইতে ৫৪টি। বছরের পর বছর যেসব কোম্পানি এজিএম করছে না এমন কোম্পানিকে মূল বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করে ওটিসি বাজারে স্থানান্তর করা হয়। পরে এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কাগুজে শেয়ার থেকে ডিমেডেট শেয়ারে রূপান্তর না করতে পারায় ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানিকে এ বাজারে স্থানান্তর করা হয়।
অবশ্য ওটিসি মার্কেটের উন্নয়নে এসইসির কাছে এরইমধ্যে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। ওই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাজারে বিদ্যমান ‘এ’, ‘বি’, ‘এন’ এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির ন্যায় ‘ডি’ নামে নতুন ক্যাটাগরির অধীনে ওটিসি বাজারভুক্ত অস্তিত্বসম্পন্ন এবং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন কোম্পানিকে মূল বাজারে ফিরিয়ে আনার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের এক সদস্য বাংলানিউজকে বলেন, “ওটিসি মার্কেটের উন্নয়নে এসইসি কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ডিএসই ও সিএসই এ বিষয়ে তাদের প্রস্তাব এসইসিতে জমা দিয়েছে। যার ভিত্তিতে কমিশন একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সুপারিশমালা বিবেচনায় নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ওটিসি মার্কেটের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।”
জানতে চাইলে ডিএসইর সিনিয়র সহ-সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, “অস্তিত্বহীন কোম্পানিগুলোর বিষয়ে আইগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এজন্য আইনের পরিবর্তন করা দরকার।”
তিনি বলেন, “ওটিসি মার্কেটে সেল অর্ডার না থাকলেও বাই অর্ডার দেওয়া যায় না। এছাড়াও আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা যুগোপযোগী করা দরকার।”
বাংলাদেশ সময়: ১২২৯ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৯, ২০১২
এসএনএইচ/ জেডএম