খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় স্বামী-শ্বশুরের দেয়া আগুনে নিহত গৃহবধূ হালিমার মা মামলা করায় আসামিরা জামিনে এসে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার।
এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হালিমার চাচাতো ভাই মোস্তফা কামাল।
এ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হালিমার বাবা হারুনুর রশিদ, মা হাসিনা বেগম ও নারী নেত্রী সলিতা চাকমা।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের তুলাতলি গ্রামের মো. সাহেব আলীর ছেলে আব্দুর রশিদের সঙ্গে ২০০৮ সালের ১২ মে একই গ্রামের হালিমা বেগমের (২০) বিয়ে হয়।
বিয়ের ৬ মাস পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে হালিমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে তার স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
এরই জের ধরে ২৩ এপ্রিল রাতে বাড়ির উঠানের আম গাছের সঙ্গে হালীমাকে বেঁধে তার মামা শ্বশুর সিরাজুল ইসলামের পরামর্শে স্বামী আব্দুর রশিদ ও শ্বশুর-শাশুরি মিলে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুরিয়ে মারার চেষ্টা করে।
এ সময় হালিমার চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এসে তাকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এরপর ২৪ এপ্রিল হালিমাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ মে মারা যান হালিমা।
এ ঘটনার ২৪ এপ্রিল হালিমার মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে হালিমার স্বামী আব্দুর রশিদ, মামা শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম সিরনসহ ৪ জনকে আসামি করে মাটিরাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
এ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ১৭ মে অভিযুক্তদের মধ্যে শাশুরি হাজেরা বেগম ও মামা শ্বশুর জামিনে এসে মামলার বাদী ও আত্মীয় স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ সংবাদ সম্মেলন মামলার যথাযথ তদন্তের স্বার্থে জামিন প্রাপ্তদের জামিন বাতিল ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন হালিমার পরিবার।
বাংলাদেশ সময়: ২২২০ ঘণ্টা, জুন ০৭, ২০১২
সম্পাদনা: নাজিম উদ দৌলা সাদি, নিউজরুম এডিটর