৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, বৃহস্পতিবার মে ২৩, ২০১৩ ১২:০৮ এএম BDST banglanew24
19 Sep 2012   12:08:08 AM   Wednesday BdST
E-mail this

অবৈধ কর্মপরিষদের হাতে জিম্মি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বিএম কলেজ


কাওছার হোসেন, জেলা প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
অবৈধ কর্মপরিষদের হাতে জিম্মি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বিএম কলেজ
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বরিশাল: `সত্য, প্রেম ও পবিত্রতা হলো বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের মূলমন্ত্র।

এ মন্ত্রে দিক্ষিত হয়ে প্রায় ১২৩ বছর আগে বাবা ব্রজমোহন দত্তের নামে এ বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত। তবে, অশ্বিনী কুমার দত্তের এ ঐতিহ্যবাহী সৃষ্টি আজ বিভিন্ন কারণে তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

ক্ষমতাশীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতারা অগণতান্ত্রিকভাবে অস্থায়ী ছাত্র কর্মপরিষদ নামে একটি সংগঠন তৈরি করে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এ প্রতিষ্ঠানটিকে জিম্মি করে রেখেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইতিমধ্যে ছাত্র সংসদসহ বিভিন্ন তহবিলের মোটা অংকের অর্থ লুটপাট করেছে অবৈধ কর্মপরিষদের নেতারা।

বাকসু থেকে অস্থায়ী ছাত্র কর্মপরিষদ: কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সময় সংঘটিত সবকটি আন্দোলনেই সম্মুখভাগে থাকতেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। অনেক আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এ কলেজের ছাত্ররা।

ছাত্রদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্র সংসদ বাকসু। এর পর ধীরে ধীরে এটি দক্ষিণাঞ্চলের ছাত্র রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিণত হয়।

শিক্ষার্থীদের ভোটে এখান থেকেই ভিপি-জিএস নির্বাচিত হয়ে আজ জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় রয়েছেন অনেকেই। অথচ, বাকসুর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করে ২০১১ সালের ২০ জুন সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে গঠন করা হয় অস্থায়ী ছাত্র কর্মপরিষদ।

কর্মপরিষদের সহ-সভাপতি হয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ও এক সন্তানের জনক মঈন তুষার।

২০১০ সালের ৪ মে বরিশাল পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়।

সাধারণ সম্পাদক করা হয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের অপর যুগ্ম আহ্বায়ক বিবাহিত ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ সেরনিয়াবাতকে।

২৬ সদস্য বিশিষ্ট পরিষদের ৩টি পদ শূন্য রেখে কমিটি গঠন করা হয়। তবে, নির্বাচন ছাড়া কমিটি গঠন করায় সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন ওই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন।

ওই কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শামসুদ্দোহা আবিদ বাংলানিউজকে জানান, বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের নিয়ম হলো নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। কিন্তু, কোনো ভোটাধিকার ছাড়াই অগণতান্ত্রিকভাবে কমিটি গঠন করায় তিনি কর্মপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই পরিষদের এক সম্পাদক জানান, ২৬ জনকে নিয়ে কমিটি হলেও সব ক্ষমতা সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে। তারা এরই মধ্যে নামে মাত্র উন্নয়ন দেখিয়ে ছাত্রসংসদের প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন।

এছাড়াও তারা বিভিন্ন ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে কলেজের বিভিন্ন তহবিল থেকে টাকা লুটপাট করছে। আর এর সঙ্গে কলেজ অধ্যক্ষ ননী গোপাল দাস ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক কাইয়ুম উদ্দিন আহমেদ জড়িত রয়েছেন বলে জানান ওই সম্পাদক।

কলেজের এক শিক্ষক বাংলানিউজকে জানান, শুধু সংসদ বা তহবিল নয়, কলেজের মালামাল সরবরাহ থেকে শুরু করে যে কোনো উন্নয়ন কাজ তারা ব্যতিত কেউ করতে পারে না। সেখান থেকেও মোটা অংকের অর্থ লুটপাট করে কর্মপরিষদের নেতারা।

কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতারা বলেন, “মাত্র ৩ মাসের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তারা বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন।

অন্যদিকে, কর্মপরিষদ বাদ দিয়ে এখন তারা নিজেদের বাকসুর নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এ কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ও স্বেচ্ছাচারিতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ছাত্রদল নেতারা।

কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এসএম কাইয়ুম উদ্দিন আহমেদ জানান, বাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বিএম কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সমন্বয়ে ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র সমাজ ও জাসদ ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে ছাত্র কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে।

পদাধিকার বলে ছাত্র কর্মপরিষদ সভাপতি ও কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস প্রতিবারের ন্যায় এবারও বললেন,“কর্মপরিষদ তাদের বৈধতা হারিয়েছেন। এখন এটা সম্পূর্ণ অবৈধ।”

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: অশ্বিনী কুমার দত্ত ১৮৮৮ সালে বাবা ব্রজমোহন দত্তের নামে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। কিন্তু, সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় তাকে অপেক্ষা করতে হয় এক বছর। পরের বছর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই যাত্রা শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ।

কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান জ্ঞানেন্ত্রনাথ চৌধুরী। ওই শুরু। এরপর পেরিয়ে গেছে ১২৩ বছর। ১৯৬৫ সালের জুলাই মাসে ব্রজমোহন কলেজ সরকারি হিসেবে পূর্ণতা লাভ করে।

এদিকে, ১৮৮৯ সালে বরিশালে আরও একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। এর নাম ছিল রাজচন্দ্র কলেজ। তবে, আর্থিক সংকটের কারণে ১৯০৪ সালে কলেজটি বন্ধ হয়ে যায়।

১৮৯৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও বড় লাটের সম্মতিক্রমে বিএম কলেজের বিএবিএল ও পিডারশিপ শ্রেণী চালু করা হয়। তখনই কলেজটি সরকারিভাবে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা লাভ করে। ওই সময় ছোট লাট স্যার জন উডবর্ন সরকারি শিক্ষা বিবরণীতে বিএম কলেজ সম্পর্কে উল্লেখ করেন-  
 ‘This moffusil college promises some day to challenge the supremacy of metropolitan (presidency) college.’
১৯০৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিধান অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শুরু হয়। প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ জেমস ও কলকাতা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ হেরস্ব মৈত্র বিএম কলেজ পরিদর্শনে এসে মুগ্ধ হন এবং এর ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।

১৯০৮ সালে ব্রজমোহন কলেজ পরিদর্শনে আসেন অধ্যাপক কলিংহাম। তখন কলেজে পরীক্ষা চলছিল। তবে, পরীক্ষা হলে কোনো পরিদর্শক না থাকা সর্ত্বেও পরীক্ষার্থীরা খাতায় লেখার সময় কলমের খস খস শব্দ ব্যতিত পিন পতন নিস্তব্ধতা দেখে তিনি মুগ্ধ হন।

পরে তিনি তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন, ব্রজমোহন কলেজ থাকতে বাঙালি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালাভের জন্য অক্সফোর্ড যায় কেন? তবে, ১৯০৫ সালে ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ‘র্প্বূবঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশ গঠনের ঘোষণা দিলে এর প্রতিবাদ করেন অশ্বিনী কুমার দত্ত।

তার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গরদ হয়। এ কারণে বিএম কলেজের ওপর কুদৃষ্টি পরে তৎকালীন সরকারের। এর ফলে, ‘রিজলী সারকুলার’ এর মাধ্যমে এ কলেজের ছাত্রদের বৃত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়।

১৯১০ সালে বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনের ফাদার রেভারেন্ড ই.এল স্টং সরকারের সঙ্গে কলেজের সমঝোতা করে দেয়।

সরকার থেকে এককালীন ও মাসিক সাহায্য পাওয়ার কারণে ১৯১৭ সালে ৫০ বিঘা জমির ওপর কলেজ ভবন ও ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়।

বর্তমানে ৫৮ দশমিক ৩৬৮ শতাংশ জমির ওপর বিএম কলেজে ৮টি একাডেমিক ভবন, ১টি মসজিদ, ১টি লাইব্রেরি ভবন, ছাত্রসংসদ, ১টি  প্রশাসনিক ভবন, ১টি ক্যান্টিন, ১টি অডিটোরিয়াম, মুক্তমঞ্চ, দুটি খেলার মাঠ ও ৫টি আবাসিক হোস্টেল রয়েছে।

অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালুর ইতিহাস ও ভারত বিভক্ত: বর্তমানে বিএম কলেজে ২১টি বিষয়ে অনার্স এবং ২০টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু আছে।

এছাড়া পরিসংখ্যান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করার জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে বিএম কলেজ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। তবে, এক দিনেই এসব কোর্স চালু হয়নি। এর পিছনে রয়েছে লম্বা ইতিহাস।

কলেজ থেকে জানা গেছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিএম কলেজের শিক্ষাদান পদ্ধতি ও পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্ট হয়ে অনার্স কোর্স চালুর অনুমতি দেয়।

১৯২২ সালে ইংরেজি ও দর্শন বিষয়ে, ১৯২৫ সালে সংস্কৃতি ও গণিত বিষয়ে এবং ১৯২৮ সালে অর্থনীতি ও রসায়নবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়।

এর পর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বিএম কলেজের জন্য ছিল স্বর্ণযুগ। ওই সময় বিএম কলেজকে ‘অক্সফোর্ড অব বেঙ্গল’ বলা হতো। তবে, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর অধিকাংশ হিন্দু শিক্ষকরা ভারত চলে যায়। এছাড়া বিএম কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে আসে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্স ২ বছর ছিল। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ বছর হওয়ায় বাড়তি অসুবিধায় পড়তে হয় কলেজ কর্তৃপক্ষকে।

এর পরে আবার ১৯৫০ সালে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার কারণে অবশিষ্ট হিন্দু শিক্ষকরাও ভারতে চলে যায়। এর ফলে ওই বছরই শুধুমাত্র গণিত ছাড়া সবগুলো অনার্স কোর্স বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

১৯৫২ সালে গণিত কোর্সও বন্ধ হয়ে যায়। এর কয়েক বছর পর ইন্টারমিডিয়েট  ও ডিগ্রি শ্রেণীতে পাঠদানের পাশাপাশি ১৯৬৪-৬৫ শিক্ষাবর্ষের মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পুনরায় অনার্স কোর্স চালু করা হয়।

১৯৭২-৭৩ শিক্ষাবর্ষে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। একই বছর বাংলা, অর্থনীতি, ইতিহাস ও রসায়ন বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স খোলা হয়। তবে, ইতিহাস বিষয়ে অনার্স শুরু হয় ১৯৭৪-৭৫ শিক্ষাবর্ষে।

বাকি যে সব বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু ছিলো না সে সব বিষয়ে ১৯৮৫ সালে এ কোর্স চালু হয়।

এছাড়া ১৯৮৮-৮৯ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি ও মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স এবং ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে গণিত, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, ইংরেজি বিষয়ে অনার্স কোর্স শুরু হয়।

বতর্মানে বিএম কলেজে চলমান ২১টি অনার্স বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী শিক্ষা, দর্শন, সংস্কৃত, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যান, উদ্ভিদবিদ্যা, গণিত, পদার্থবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, রসায়ন, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, মার্কেটিং ও ফিন্যান্স।
মাস্টার্স বিষয়ে মার্কেটিং ও ফিন্যান্স ছাড়া সবকটি কোর্স চালু রয়েছে।

এছাড়া পরিসংখ্যান বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। এসব বিষয়ে বর্তমানে বিএম কলেজে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

কৃতি শিক্ষার্থী: ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থী দেবপ্রসাদ ঘোষ ১৯০৮ সালে প্রবেশিকা (বর্তমান মাধ্যমিক) এবং ১৯১০ সালে এফ.এ (বর্তমান উচ্চ মাধ্যমিক) পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকার করেন।

১৯২৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গণিত সম্মান পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথমস্থান অধিকার করেন কৃতিছাত্রী শান্তিসুধা ঘোষ। ওই বছরই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিষয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ‘ঈশান’ বৃত্তি লাভ করেন শিক্ষার্থী শ্রীমতি ঘোষ।

এছাড়া আরও অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় শীর্ষস্থান দখল করেন। ১৯৭৫ সালে রসায়ন সম্মান পরীক্ষায় এ কলেজের ছাত্র দীলিপ কুমার চক্রবর্তী প্রথম শ্রেণীতে প্রথমস্থান লাভ করেন এবং কালি নারায়ন বৃত্তি পান তিনি।

১৯৭৬ সালে ছাত্র প্রভাষ চন্দ্র মণ্ডল এবং ১৯৮১ সালে ছাত্রী পুরবী রানী সমদ্দার এমএসসি রসায়ন শেষ বর্ষের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথমস্থান অধিকার করেন।

পদার্থবিদ্যা বিষয়ে সম্মান পরীক্ষায় ১৯৮৭ সালে ৪ জন এবং ১৯৮৯ সালে ২জন প্রথম শ্রেণীতে উর্ত্তীর্ণ হয়ে এ কলেজের গৌরবকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান।

এমনকি প্রতিবছর অন্য বিষয়ের প্রথম ১০টি আসনের মধ্যে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা একাধিক আসন অর্জন করে নেন। এছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, আব্দুল ওহাব খান, বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহম্মেদ, হুইপ আসম ফিরোজ, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, লে. কর্ণেল দেলোয়ার হোসেন বীরপ্রতিক প্রমূখ এ কলেজেরই কৃতি শিক্ষার্থী।

আন্দোলন সংগ্রামে বিএম কলেজ: মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের নেতৃত্বে বিএম কলেজকে কেন্দ্র করে স্বদেশি আন্দোলন শুরু হয়। ওই আন্দোলনের ফলে বাঙালিদের ঘুমন্ত জাতীয়তাবোধ বিকাশ লাভ করে। যে জাতীয়তাবাদের আন্দোলনে অশ্বিনী কুমার দত্ত ও চারন কবি মুকুন্দ দাস বিএম কলেজের শিক্ষার্থী তথা বরিশালবাসীকে জাগ্রত করেছিলেন, সেই পথ ধরেই এ কলেজের শিক্ষার্থীরা ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ ও ১৯৬৪’র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬’র ৬ দফা, ১৯৬৯’র গণআন্দোলন এবং ১৯৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের এক সাগর রক্তের সঙ্গে মিশে আছে এ কলেজের শিক্ষার্থীদেরও রক্ত।

জানা গেছে, ১৯০৫ সালে বৃটিশ সরকার বাঙলাকে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গ-আসাম প্রদেশ গঠন করলে অশ্বিনী কুমার দত্তের নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন শুরু হয়। ১৯০৬ সালের ১৩ ও ১৪ এপ্রিল বরিশালে প্রাদেশিক সম্মেলনের পর বঙ্গভঙ্গ স্বদেশি আন্দোলনের রূপ নিয়ে সারা ভারতে ছড়িয়ে পরে।

প্রবল আন্দোলনের মুখে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। ১৯১৯ সালে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৪২ সালের আগস্টে গান্ধীর আহ্বানে ভারত ছাড় আন্দোলনে এ কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকার সঙ্গে বরিশালেও হরতাল পালন করেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা।

তারা নগরীর সদর রোড ও ফকির বাড়ির কাছে কচু ক্ষেতে বাংলাভাষার দাবিতে জনসভা করেন।

১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা ২১ ফেব্রুয়ারি বিএম কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে হরতাল পালন করেন।

১৯৫৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্ট জয় লাভ করে। প্রাদেশিক আইন সভায় বৃহত্তর বরিশালের ২৪ আসনের মধ্যে বিএম কলেজের ৯ প্রাক্তণ ছাত্র জয় লাভ করেন।

১৯৬২ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন সামরিক সরকার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে গ্রেফতার করলে ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালে সামরিক আইন ভঙ্গ করে বিএম কলেজের ছাত্ররা।

তারা সদর রোড টাউন হলের আইয়ুব খানের নাম ফলক ভেঙ্গে অশ্বিনী কুমারের নাম ফলক স্থাপন করেন। ১৯৬৬ সালে পূর্ব বাংলার স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।

৬ দফা দাবি আদায়ে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা ৭ জুন হরতাল পালন করে। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকারের দায়েরকৃত তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে ৩জন বিএম কলেজের প্রাক্তণ ছাত্র।

এছাড়া ১৯৬৯’র ২৮ জানুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সর্বদলীয় শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। ১৯৭১’র ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনের পর ২০ মার্চ বিএম কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধেও প্রধান চালিকা শক্তি ছিল বিএম কলেজ। এ কলেজের যে সব শিক্ষার্থী স্বাধীনতা মন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছিলেন তারাই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অন্যান্য উদ্যোগ: ব্রজমোহন কলেজের পাঠদান ছিল তখনকার চলতি পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। শুধুমাত্র উপদেশ বা বক্তৃতা নয়, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ছাত্রদের নৈতিক চরিত্র গঠনের লক্ষ্যে ছাত্র ও শিক্ষকদের নিয়ে গঠন করা হয় ‘দারিদ্র বান্ধব সমিতি’, ‘আশ্বানী সম্প্রদায়’, ‘কৃপালু সম্প্রদায়’, এবং ‘বান্ধব সমিতি’।

পাশাপাশি ছাত্র শিক্ষকদের যৌথ পরিচালনায় ‘ছাত্রবন্ধু’ নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ হয়। তবে, ১৯১২ সালে সরকার মনোনিত প্রতিনিধিদের হাতে কলেজের দায়িত্ব অর্পণ করায় এসব সমিতির কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।

খেলাধূলায় বিএম কলেজ: বিএম কলেজের ফুটবল দল ছিল এ অঞ্চলের অপ্রতিদ্বন্দী। জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত সব কটি আসরের ট্রফি থাকতো বিএম কলেজের। এছাড়া নর্দান স্টেট ফিল্ড কাপ, গোল্ড কাপ, রয় শীল্ড, আমজাদ মেমোরিয়াল কাপ, অমূল্য কাপ প্রভৃতি ছিল বিএম কলেজের দখলে।

১৯৪৩ সালে ময়মনসিংহে আয়োজিত ‘সূর্যকান্ত শীল্ড’ খেলায় রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিএম কলেজ। অবিভক্ত ভারতের বিভিন্নস্থানে ক্রিকেট খেলায় অংশ নেয় বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। ১৯৭৫ সালে ঢাকার আজাদ ক্লাবের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট খেলায় বিএম কলেজ দল বিজয়ী হয়।

১৯৬৯ সালে বিএম কলেজের কাছে পরাজিত হয় ঢাকার ঈগলেট দল। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক চ্যাম্পিয়ন এবং ১৯৭১ সালে আন্ত:জেলা কলেজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় বিএম কলেজ।

এছাড়া হকি, ভলিবল, ওয়াটার পোলো, লনটেনিসসহ বিভিন্ন খেলায় সমান পারদর্শী ছিলেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষক ও জনবল: সরকারি বিএম কলেজে শিক্ষকসহ মোট পদ রয়েছে ১৯১টি। যার মধ্যে ৩৮টি পদই শূন্য। এছাড়া অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪র্থ শ্রেণীর শতাধিক কর্মচারী কাজ করছেন বিএম কলেজে।

কলেজের প্রশাসনিক শাখা থেকে জানা গেছে, ১৬টি অধ্যাপক পদের মধ্যে ২টি শূন্য। উদ্ভিদবিদ্যা ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শূন্য পদে অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সহযোগী অধ্যাপকের ৪০ পদের মধ্যে বর্তমানে রয়েছে ৩২ জন। সহকারী অধ্যাপকের ১০টি পদ শূন্য।

এখানে ৫৮ জন অধ্যাপক থাকার কথা। প্রভাষক রয়েছেন ৫৫ জন। তবে, এখানে ৬৭ জন প্রভাষক কর্মরত থাকার কথা ছিল। এর ফলে প্রভাষক পদে ১২টি পদ শূন্য।

লাইব্রেরিয়ানের একমাত্র পদটিও শূন্য। এছাড়া প্রদর্শক পদে পদার্থ বিভাগে ২টির মধ্যে ১টি, রসায়ন ১টির মধ্যে ১টি, উদ্ভিদবিদ্যায় ১টির মধ্যে ১টি ও প্রাণিবিদ্যায় ১টির মধ্যে ১টিই শূন্য রয়েছে। তবে, মৃত্তিকা বিভাগে একমাত্র পদে প্রদর্শক নিয়োজিত রয়েছে।

এদিকে, এখন পর্যন্ত অনার্সের দুই বিষয় মার্কেটিং ও ফিন্যান্স বিভাগে শিক্ষকদের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। ব্যবস্থাপনা ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের দ্বারা বিভাগ দুটি পরিচালিত হচ্ছে।

আবাসিক ব্যবস্থা: বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সব চেয়ে বড় সমস্যা আবাসন সংকট। এখানে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৮টি হল রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছাত্রীদের জন্য। তবে, ৮টির হল থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ৪টি বসবাসের উপযোগি।

আবাসিক হলগুলো মধ্যে রয়েছে- অশ্বিনী কুমার (ডিগ্রি হল), সার্জেন্ট ফজলুল হক (মুসলিম হল), কবি জীবনানন্দ দাস (হিন্দু হল), বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাস, দেবেন্দ্র ভবন, সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাস, লালু ভবন ছাত্রাবাস ও নিপেন্দ্র ভবন ছাত্রীনিবাস।

এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দেবেন্দ্র ভবন, সুরেন্দ্র ভবন ও লালু ভবন ছাত্রাবাস ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এছাড়া, নিপেন্দ্র ভবন ছাত্রীনিবাসে ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছাত্রীরা বসবাস করছেন। বসবাসের উপযোগি অশ্বিনী কুমার (ডিগ্রি হল) ছাত্রাবাস, সার্জেন্ট ফজলুল হক (মুসলিম হল) ছাত্রাবাস, কবি জীবনানন্দ দাস (হিন্দু হল) ছাত্রাবাস, বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসে রয়েছে নানান সমস্যা।

খাবার পানি, বিদ্যুৎ, কক্ষ সংকট, অপরিস্কার বাথরুম, ভাঙ্গা দরজা-জানালা, বৃষ্টির পানি সরাসরি কক্ষে প্রবেশ-এসব সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে এ হলগুলোতে।

অশ্বিনী কুমার (ডিগ্রি হল) ছাত্রাবাসে কলেজের হিসেবে মোট আসন রয়েছে ৩৯৮টি। তবে, প্রকৃত পক্ষে সেখানে বসবাস করতো প্রায় দেড় হাজার ছাত্র।

এ হলের আবাসিক বাসিন্দা ইভান বাংলানিউজকে জানান, হলের ছাত্রদের নামাজ আদায় করার জন্য যে মসজিদ রয়েছে তার অধিকাংশ ভেঙে গেছে। এর ফলে বৃষ্টির সময় ছাত্ররা নামাজ আদায় করতে পারছে না।

মসজিদটি সংস্কার করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মসজিদ সংস্কারের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিলো তা কর্মপরিষদের নেতারা ইফতার পার্টিতে খরচ করেছে।

হল সুপার মো. রফিকুল ইসলাম খান বাংলানিউজকে জানান, ৩৯৮টি আসনের বিপরীতে ৫শ ছাত্র বসবাস করছেন। আর ছাত্ররা যে অভিযোগ করছেন তার সবটাই মিথ্যা নয়। তাদের সমস্যা সমাধানে সব ধরনের চেষ্টা চলছে।

সার্জেন্ট ফজলুল হক (মুসলিম হল) এবং কবি জীবনানন্দ দাস (হিন্দু হল) ছাত্রাবাসের অবস্থা খুবই নড়বড়ে। বসবাসের অনুযোগি হয়ে পরায় মুসলিম হল ও হিন্দু হলের পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে, হল সুপার ও ছাত্রদের অভিযোগ পিপড়ার গতিতে চলছে এর কাজ।

সদর উপজেলার যুবলীগ নেতা শাহিনের লাইসেন্স এর বিপরীতে নির্মাণ কাজটি করছেন কর্মপরিষদের সহ-সভাপতি মঈন তুষার।

নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় একটি কক্ষে অনেককে এক সঙ্গে থাকতে হচ্ছে। এর ফলে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ও পড়াশুনা করতে পারছেন না ছাত্ররা।

হিন্দু হোস্টেলের সুপার সনজয় কুমার বিশ্বাস বাংলানিউজকে বলেন, “হলের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য ৭ দিনের সময় নিয়েছেন অধ্যক্ষ। এর মধ্যে ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ না হলে আন্দোলনে যাবে আবাসিক শিক্ষার্থীরা।”

মুসলিম হলের সুপার মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “এ হলে মোট ২৩৪টি আসন রয়েছে। এর বিপরীতে বসবাসকারীর সংখ্যা একটু বেশিই হবে। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বসবাস করেন বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসে। এ ছাত্রীনিবাসে আসন সংখ্যা ৭৫০। তবে, বসবাস করছেন ২ হাজারেরও বেশি।”

এখানে খাবার ও টিভি দেখার রুমেও থাকছেন ছাত্রীরা। এ হলের সহকারী সুপার নাসির উদ্দিন বলেন, ছাত্রীদের আবাসন সদস্যা সমাধানে নতুন একটি ভবন নির্মাণে পরিকল্পনা চলছে।

পরিবহন সমস্যা: বিএম কলেজে পরিবহন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ২২ থেকে ২৫ বছর আগের পুরাতন বাস দিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার কাজ।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী বিএম কলেজে আসে। তবে, এ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থা নেই।

মুড়ির টিন মার্কা মাত্র তিনটি বাস দিয়ে কোনোভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলছে পরিবহন ব্যবস্থা। যে তিনটি বাস রয়েছে তাও ক্রয় করা হয়েছিল ২৫ বছর আগে। যার ফলে বাসগুলো তাদের যৌবন হারিয়েছে। এতে প্রায় সময়ই বাসগুলো নষ্ট থাকে।

গৌরনদী এলাকার বাসিন্দা হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আজিম সরোয়ার বাংলানিউজকে জানান, প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরিবহন বাবদ নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে, এখন পর্যন্ত পরিবহন খাতের কোনো উন্নতি হয়নি।

এমতাবস্থায় আজিম সরোয়ারের প্রশ্ন ‘তবে টাকাগুলো কোথায় যায়?’।

ঝালকাঠীর বাসিন্দা ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী তারিন আফসানা বাংলানিউজকে বলেন, “একই বাসে ছেলে-মেয়ে উভয়কে বহন করে। এতে বাসে আসন কম থাকায় ছেলেদের সঙ্গে গাদাগাদি করে বসতে হয়। অনেক ছাত্রী বাসের মধ্যেই যৌন হয়রানির শিকার হন।”

ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র আশিষ ঘোষ জানান, লোকাল বাসের ন্যায় তাদের ঝুলে যাতায়াত করতে হয়।  এতে যে কোনো সময় বড় ধরনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তার আশঙ্কা।

সমাজ কল্যাণ বিভাগের ছাত্রী মৌরি জানান, প্রায়ই কলেজের বাস বন্ধ থাকে। ফলে তাদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, সম্প্রতি কর্মপরিষদের নেতারা বাস সংস্কারের নামে মোটা অংকের টাকা পরিবহন তহবিল থেকে আত্মসাত করেছেন।

এছাড়া বাস কেনার জন্য বর্তমানে পরিবহন তহবিলে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দুটি নতুন বাস দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, “কলেজ তহবিলের পরিবহন খাতে ৮ লাখ টাকার মতো রয়েছে। তবে, একটি নতুন বাস কিনতে হলে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী যে বাস দুটি দেওয়ার কথা বলেছেন তা পাওয়ার জন্য বরিশাল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন খুব শিগগিরই যাতে বিএম কলেজ বাস দুটি পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করবেন।

গ্রন্থাগার: বিএম কলেজ গ্রন্থাগারে প্রায় ৪০ হাজার বই রয়েছে বলে দাবি করেছেন গ্রন্থাগারের তত্বাবধায়ক আফিল উদ্দিন। গত জুন মাসে কিছু সংখক নতুন বই কেনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আর ওই সব বই নতুন শিক্ষা পদ্ধতির আলোকেই কেনা হয়েছে। তবে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ২৫ হাজারের বেশি বই হবে না গ্রন্থাগারে। তাও আবার অনেক পুরানো। এর ফলে এত বিপুল সংখক বই থাকলেও তা তেমন একটা কাজে আসছে না শিক্ষার্থীদের।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা: পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিএম কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। শুধুমাত্র বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসে থাকলেও অন্য হলগুলো রয়েছে পুরোপুরি নিরাপত্তা বেষ্ঠনির বাইরে।

এছাড়া কলেজের চার পাশের দেয়াল ও পকেট গেটগুলোও ভাঙ্গা। যার ফলে বহিরাগত বখাটেরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং অপরাধ ঘটিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। এছাড়া রাতের বেলা ক্যাম্পাসে বসে মাদকসেবী, ছিনতাইকারীদের মিলন মেলে। ছাত্ররা বাইরে বের হলে তাদের পরতে হয় ছিনতাইকারীদের কবলে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস বাংলানিউজকে বলেন, “এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে কম বেশি সমস্যা থাকবেই। তবে, সব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।”

“শিক্ষার্থীদের আবাসন ও পরিবহন সমস্যা খুব শিগগিরই সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।”

তিনি আরও বলেন, “এতদিন গেট ছিলো না তাই বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতো। তবে, এখন গেট লাগানো হয়েছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাস।”

পাঠক আগামীকাল বৃহস্পতিবার পড়ুন বরিশাল সরকারি কলেজের প্রতিবেদন।

বাংলাদেশ সময়: ০০০০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১২
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান