 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারের বর্তমান সঙ্কটাবস্থা কাটিয়ে উঠতে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ডিএসই প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান।
সোমবার দুপুরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কার্যালয়ে ডিএসই প্রেসিডেন্ট মো. রকিবুর রহমান সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ আহবান জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রকিবুর রহমান বলেন, “দেশের অর্থনীতির অভিভাবক হিসাবে অর্থমন্ত্রীকে পুঁজিবাজার সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখতে হবে। পুঁজিবাজারের বর্তমান সংকটময় মূহুর্তে অর্থমন্ত্রীর কথা বলা উচিত। বিশ্বের সব দেশেই পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল কিংবা পরিস্থিতি খারাপ হলে সে দেশের অর্থমন্ত্রী কথা বলেন ও হস্তক্ষেপ করেন।”
এ প্রসঙ্গে ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, অর্থমন্ত্রী চিদাম্বরাম এবং প্রণব মুখার্জিও পুঁজিবাজার নিয়ে কথা বলেন। বছরে কম পক্ষে দুই থেকে তিনবার অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করলে সমস্যা সমাধান সহজ হবে” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রকিবুর বলেন, “গতকয়েক দিনে ভালো কিছু প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ দেয়ার পরেও শেয়ারের দাম কমেছে। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে না। এর মানে হচ্ছে সবাই ‘ডে ট্রেডারের’ ভূমিকায় রয়েছে। বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিনিয়োগকারীরা এই ভূমিকায় রয়েছে।”
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, স্টক হোল্ডার, স্টক ডিলার, মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ বড় বড় বিনিয়োগকারীরা এখন ‘ডে ট্রেডারের’ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করার কথা। তাদের এ ধরনের আচরণ পরিবর্তন না করলে বাজার স্থিতিশীল হবে না। বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টেক হোল্ডারা যদি তাদের সীমার মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করেন তবে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।”
ডিএসই প্রেসিডেন্ট বলেন, “এক সময় বাজার যখন ভালো ছিল, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের দায়ের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছিল। তারা এখন ১০ শতাংশেরও কম বিনিয়োগ করছে।”
“অথচ আইনের মধ্যে থেকেই ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ বাড়াতে পারে” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যদি তাদের পোর্টফোলিওতে তাদের দায়ের ৩০ শতাংশ দিয়ে শেয়ার ধরে রাখেন তাহলে বাজার পরিস্থিতি ভালো হবে।”
রকিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে ৬০ শতাংশ ব্যাংকের বিনিয়োগ নেই। তাছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকসহ কিছু কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ বাজারে বিনিয়োগ করে একটু লাভ হলেই শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরছে না।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব মার্চেন্ট ব্যাংক বিনিয়োগ করতে পারছে না বা লোকসানে আছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে কীভাবে আবার বিনিয়োগে ফেরানো যায় সে বিষয়ে একটি প্রস্তাব ডিএসই-তে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে” বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময় : ১৭৩০ ঘন্টা, নভেম্বর ২৬, ২০১২
এইচএমএম ও এসএনএইচ/সম্পাদনা : সোহেল রহমান, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর eic@banglanews24.com