‘রাধা যেমন সাদা সখি কৃষ্ণ তেমন কালো/ আহরে দুজনারই প্রেম মিলে সইলো জগত হইলো আলো’ -- এটি আমাদের শহুরে-বাউল আনুশেহ আনাদিলের প্রথম একক অ্যালবাম ‘রাই’-এর একটি গান। বাংলা ব্যান্ডের হয়ে গান করছেন সেই ১৯৯৮ সাল থেকে। সঙ্গীতজীবনের ১৪ বছরে আনুশেহ’র বের করেছেন তার প্রথম একক অ্যালবাম। দেশীয় অডিওবাজারের বেহালদশায় বিকল্প পথে হেঁটেছেন তিনি। প্রথমে অ্যালবামটি রিলিজ দিয়েছেন অনলাইনে। গত দুমাসে ‘রাই’-এর গানগুলো শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর। এবার সিডি আকারে অ্যালবামটি নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছেন।
সংগীতজীবনের শুরু থেকেই আনুশেহ আনাদিল বাংলা ব্যান্ড নিয়ে ছিলেন। বাংলা ব্যান্ডের বেশিরভাগ গানেই কন্ঠ দিয়েছেন তিনি। সঙ্গীতাঙ্গনে এরই মধ্যে কেটে গেছে বাংলা ব্যান্ড ও আনুশেহর ১৪ বছরের বেশি সময়। এই দীর্ঘ সময়ে তার নিজের কোনো একক অ্যালবাম বের হয়নি। এদিকে আলোড়ন জাগানো বাংলা ব্যান্ডও আর নেই। এ অবস্থায় আনুশেহ প্রকাশ করেছেন তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রাই’। ক্যারিয়ারের এপর্যায়ে এসে হঠাৎ একক অ্যালবাম বের করার কারণ কী ?
এ প্রসঙ্গে বাংলানিউজের কাছে আনুশেহর সহজ স্বীকারোক্তি, এককভাবে পথ চলতে আমার ভালো লাগে না। বন্ধুদের নিয়ে পথ চলেছি। নিজের একক অ্যালবাম নিয়ে আমার কোন আগ্রহ, শখ কিংবা পরকিল্পনা ছিল না। প্রথমবার আমার একক অ্যালবাম বের করার ক্ষেত্রে আমার চেয়েও বেশি উৎসাহী ছিলেন বন্ধুরাই। আসলে অনেকটা বন্ধুদের চাপে পড়েই একক অ্যালবামের কাজে হাত দিতে হয়েছে। প্রায় এক বছর সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে আমি অ্যালবামটির কাজ শেষ করি। চলতি বছর মাতৃভাষা দিবসে অনেকটা পরীক্ষামূলকভাবেই আমার প্রথম অ্যালবাম ‘রাই’ রিলিজ দেই অনলাইনে। শ্রোতারা গানগুলো পছন্দ করায় এবার এটি সিডি আকারে বাজারে আসছে।
আনুশেহ জানালেন, এটি একক অ্যালবাম হলেও এখানে রয়েছে তার বন্ধুদের অংশগ্রহণ। অ্যালবামটির বিভিন্ন গানের যন্ত্রানুষঙ্গে অংশ নিয়েছেন তারা। বন্ধুদের মধ্যে রয়েছেন তন্ময় বোস, স্যাম মিলস, পান্ডু হোয়াইটস, দেবজ্যোতি মিশ্র, ব্যান্ড ইন্ডিয়ান ওশান এবং তালতন্ত্রসহ আরও অনেকে।
অ্যালবামটির ‘রাই’ নামকরণ প্রসঙ্গে আনুশেহ বলেন, এ অ্যালবামের সব কটি গানেই রয়েছে বিনোদিনী বা রাইয়ের কথা। কাজেই ‘রাই’ নামটিই অ্যালবামের জন্য আমার কাছে মানানসই মনে হয়েছে। আমার এই দীর্ঘ পথচলায় নিজে যা বুঝেছি বা ভাবছি, সেগুলোই গানের কথার মধ্য দিয়ে আমি বলতে চেয়েছি।
‘রাই’ অ্যালবামটির মোট ১১টি মধ্যে ৯টিই আনুশেহর নিজের লেখা। বাকি ২টি লিখেছিলেন অকাল প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ। এই গুণী চলচ্চিত্রকারের লেখা গান গেয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আনুশেহ।
অনলাইনে অ্যালবামটি রিলিজ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আনুশেহ বললেন সোজাসাপটা কথা, আমি মানুষের জন্য গান করি। সবসময় চেয়েছি মানুষ যেন গানের মধ্যে নিজেকে খুজে পায়। আমাদের চারপাশে সবকিছুতেই এখন কর্পোরেট পুঁজি, বড় বড় কোম্পানির লোগো দেখা যায় সবকিছুতেই। আমাদের মুখ বিজ্ঞাপনের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, এসব আমার ভালো লাগে না। তাই কোন প্রতিষ্ঠানের ব্যনারে না গিয়ে গানগুলো প্রথম ইন্টারনেটে ছেড়েছি। যেখানে মানুষ বিনেপয়সায় গানগুলো শুনতে পাবে। কেউ চাইলেই বিনে পয়সায় ডাউনলোড করতে পারবেন আমার অ্যালবাম। তবে কেউ যদি খুশি হয়ে টাকা দিতে চান তার সুযোগও রাখা হয়েছে।
আনন্দের সঙ্গে আনুশেহ জানালেন, ‘রাই’ নিয়ে তার এই এক্সপেরিমেন্ট অনেকটাই সফল হয়েছে। কারণ ফ্রি ডাউনলোডের সুযোগ থাকার পরও কেউ যে স্বতস্ফুর্তভাবে পয়সা দেবেন, তা ছিল তার ধারণার বাইরে। কিন্তু ‘রাই’ অনলাইনে ছাড়ার একমাসের মধ্যে জমা হয়েছে এক হাজার ডলার। শ্রোতাদের এই অভাবনীয় সাড়ায় আনুশেহ অভিভূত।
অনলাইনে রিলিজ দেওয়ার তিনমাস পর আনুশেহ আনাদিলের প্রথম একক অ্যালবাম ‘রাই’ সিডি আকারে বাজারে আসছে চলতি মাসেই। সিডিতে অ্যালবামটি শ্রোতারা কীভাবে নেন, তা দেখার জন্য উন্মুখ আছেন আনুশেহ।
‘রাই’ অ্যালবামের গানগুলো শুনতে শ্রোতারা ভিজিট করতে পারেন - www.anushehanadil.com
বাংলানিউজ : আপনার সবচেয়ে প্রিয় মুখ ? আনুশেহ : আমার দুই সন্তান আরাশ ও রাহা।
বাংলানিউজ : বদলে দেওয়ার সুযোগ পেলে সবার আগে কী বদলাতেন? আনুশেহ : বাংলাদেশের রাজনীতির ধরন।
বাংলানিউজ : আগামীতে কী কী কাজ করছেন ? আনুশেহ : আমার কাজগুলো গোপনই রাখতে চাই। কারণ প্রকাশ হয়ে গেলে আর কাজটা করা হয়ে উঠে না।
বাংলাদেশ সময় ০০৪৫, জুন ১২, ২০১২
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।