 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
সিলেট: ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষের জের ধরে শত বছরের ঐতিহ্যের স্মারক প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেট। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩ টি মামলা হয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আসামি করে। আর ছাত্রলীগ একটি মামলা দিয়েছে শিবির নেতাকর্মীদের আসামি করে।
ঘটনার এক সপ্তাহে সিলেটসহ সারাদেশে এ পর্যন্ত ২১টি মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। অন্তত ৫ টি নতুন সংগঠন গঠন করা হয়েছে ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায়।
এদিকে এমসি কলেজের প্রাক্তন ৩৮ জন দেশবরেণ্য ছাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এ ছাত্রাবাসটিতে থেকে অনেক দেশবরণ্যে মানুষ লেখাপড়া করেছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক বিখ্যাত মনীষীর পদধূলি পড়েছে এখানে।”
তারা বলেন, “স্মৃতিময় ছাত্রাবাস পুড়ে অঙ্গার হওয়ার দৃশ্য আমাদের বুকে বড় বাঁধছে। যারা এমসি কলেজের ছাত্র ছিলাম, সবাই এ ঘটনায় মর্মাহত। এ ঘটনা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। এতে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যারা এ অপরাধ সংঘটিত করেছে তাদের গ্রেফতার, দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবির পাশাপাশি সেই পুরনো স্থাপত্যশৈলীতে ছাত্রাবাসটি পুনর্নির্মাণের দাবি সরকারের কাছে জানাচ্ছি। ”
এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে মূল্যবোধের যে অবক্ষয় হয়েছে তা নিন্দনীয় উল্লেখ করে এসব বিশিষ্টজন আরও বলেন, “জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সে মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য দেশের ছাত্রসমাজ এবং সুধীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহবান জানাই।”
বিবৃতিদাতা সিলেট এমসি কলেজের প্রাক্তন আবাসিক ও অনাবাসিক ছাত্ররা হলেন- এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ছাত্রাবাসের সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট এমবি চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সি এম শফি সামি, অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির এ চৌধুরী, স্পার্সোর সাবেক চেয়ারম্যান বিজ্ঞানী ড. এ মোসাব্বির চৌধুরী, সাবেক সচিব ও জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. এ কে আবদুল মুবিন, সাবেক সচিব সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, সাবেক রাষ্ট্রদূত জিয়াউস শাসম চৌধুরী, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এ বি চৌধুরী, সাবেক আইন সচিব ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী, বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বীরউত্তম, ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক আতাউর রহমান, সাবেক তথ্য সচিব এম আই চৌধুরী, সিলেট রত্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সি এম তোফায়েল সামি, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সৈয়দ এ মুক্তাদীর, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আহমেদ মাহমুদুর রেজা চৌধুরী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম চৌধুরী, সিটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির চৌধুরী, আল বারাকাহ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার আহমেদ, শিল্পপতি এম তাহের চৌধুরী, সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক চৌধুরী, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান, কৃষিবিজ্ঞানী সোহেল আহমেদ চৌধুরী, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ফুয়াদ আহমেদ চৌধুরী, ফিজিশিয়ান ডা. দেওয়ান বদরুল জলিল চৌধুরী, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের সাবেক অধ্যাপক ওয়াহাবুজ্জামান আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত আজিজুল হক চৌধুরী, শিল্পপতি এনামুজ্জামান চৌধুরী, ব্যবসায়ী ওয়ালিউজ্জামান চৌধুরী, জয় এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ, ব্যবসায়ী সৈয়দ রফিকুল হক, এনআরবি (ইউকে) জালাল আহমেদ, এনআরবি (ইউএসএ) সি এম হায়াৎ সামি, এনআরবি (কানাডা) ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী, এনআরবি (কানাডা) হাসনাত মুর্তুজা এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তবারক হোসাইন।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগ ও শিবিরের সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ শেষে শিবির কর্মীরা পালিয়ে গেলে ছাত্রলীগ ছাত্রাবাসের ৩টি ব্লকে অগ্নিসংযোগ করে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে সম্পূর্ণ ভষ্মীভূত হয়ে যায় দু’শতাধিক কক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ২টি ব্লক। এরপর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এমসি কলেজ ও ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার পরদিন এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজের উপাধ্যক্ষকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। এর পরদিন সিলেট জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্ট্রেটকে প্রধান করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৭ ঘণ্টা, জুলাই ১৬ , ২০১২
এসএ/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর