 |
ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের আগামী ৬ মাসের মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের তারল্য স্থিতিশীল থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘ঘোষিত মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ এতে ব্যাংক ব্যবস্থায় তারল্য প্রবাহ খুব বেশি বাড়বে না। ফলে এ মুদ্রানীতির প্রভাবে সুদের হার কমবে বলে মনে হচ্ছে না।’
তাই ঘোষিত মুদ্রানীতির ফলে পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বেও না, আবার কমবেও না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিতে হলে রাষ্ট্রয়ত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) থোক বরাদ্দ দিতে হবে।
মুদ্রানীতির বিষয়ে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আক্তার হোসেন সান্নামাত বাংলানিউজকে বলেন, যেহেতু ডিপোজিট রেট ১৬-১৭ শতাংশে রয়েছে। এটি কমে ১২ শতাংশে কমে আসলে পুঁজিবাজার উপকৃত হত। আর মুদ্রানীতিতে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। সুতরাং ডিপোজিট রেট কমবে বলে মনে হয় না।
এছাড়া ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) কমালে পুঁজিবাজার উপকৃত হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতিতে সিআরআর ভূমিকা পালন করে এ বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক না। কারণ যখন ব্যাংকের কাছে তারল্য বাড়ে তখন ব্যাংক কম সুদে ঋণ প্রদান করে। আর এতে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমে যায়। ফলে ভোক্তারাও কমমূল্যে পণ্য ক্রয় করতে পারবে।
এদিকে এ মুদ্রানীতি আগে যেমন ছিল এখনও তেমনি রয়েছে বলে মনে করছেন এ ২ বিশেষজ্ঞ।
প্রঙ্গত, বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ছয় মাসের জন্য সংযত মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। এদিকে গেল ২০১১-১২ অর্থবছরের শেষ ছয় মাসের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিও সংকোচনশীল বা সংযত ছিল। মূলত মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতেই এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি অর্জনে চাহিদা বাড়ানোর পাশাপাশি যোগান প্রসারের দিকেও আমাদের মুদ্রানীতির চ্যালেঞ্জ। এজন্য অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি নিরুৎসাহিত করা হবে। তবে উৎপাদনশীল খাতে মুদ্রা ও ঋণনীতি অব্যাহত থাকবে।’
ওই সময় তিনি আরো বলেন, ‘অর্থবছর ২০১২-১৩-এর মুদ্রানীতি অনুযায়ী আর্থিক খাত সংহত করতে নতুন ঋণ শ্রেণিবিন্যাস এবং প্রভিশনিং অনুশাসন প্রবর্তিত হয়েছে। এই পদক্ষেপ ব্যাংক মুনাফায় সাময়িক প্রভাব ফেললেও তা সামগ্রিক তারল্য ও ঋণ যোগানে বিরূপ কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
বাংলাদেশ সময়: ১২৫৪ ঘণ্টা, ১৯ জুলাই, ২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা: নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর