 |
| ছবি: রুবেল/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে। সকাল ৯টার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়।
রঙ-বেরঙের মুখোশ-ফানুস ও বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত হাজার হাজার মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের অসংখ্য মানুষকেও শোভাযাত্রায় অংশ নিতে দেখা যায়। শোভাযাত্রায় সমুদ্র জয়ের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।
মঙ্গল শোভাযাত্রা রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে থেকে ঘুরে টিএসটি হয়ে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে। প্রতিবছরের মতো এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার সমন্বয়ের কাজ করেছে চারুকলার ১১তম ব্যাচের এমএসএর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বাংলাদেশের সব শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী এর জন্য কাজ করেছেন।
নববর্ষ উপলক্ষে শুক্রবার থেকেই রাজধানী হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। রাস্তায় রাস্তায় বসে বৈশাখী মেলার অঙ্গিকে দোকান। এছাড়া চৈত্রসংক্রান্তির অনুষ্ঠান উপলক্ষেও এদিন রাজধানী ছিল সুর সংগীতে সরগরম।
এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল থিম বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়।
তবে আয়োজকদের একজন অসীম হালদার সাগর বাংলানিউজকে বলেন, ‘এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল থিম (ভাব) অনেক। তবে এই থিমগুলোকে আমরা দুভাগে ভাগ করেছি। এর একটি পজিটিভ (ইতিবাচক) অন্যটি নেগেটিভ (নেতিবাচক)। পজিটিভ দিকে আছে তিনটি পাখি, যা ঐক্যের প্রতীক। সঙ্গে থাকবে সমুদ্র জয়ের প্রতীক হিসেবে একটি সাম্পান। এর সামনে এবং পেছনে ঘোড়া ও হাতির পিঠে মানুষ থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘এটা একটি ট্রাডিশনাল (ঐতিহ্যবাহী) বিষয়। বাঙালির ঔতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আগের দিনে গোড়া এবং হাতিতে চড়ে মানুষ যুদ্ধ করে দেশ বিজয় করে ফিরে আসত। এবারের সমুদ্র জয় সেই ঐতিহ্যের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দির প্রেক্ষাপটে ফুটিয়ে তোলা হবে। এর পাশাপাশি একটি বড় বাঘ থাকছে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে। আর এর সব কিছুই করা হচ্ছে ফোক মোটিভে (লোকজ দৃষ্টিকোণ থেকে)।’
তিনি বলেন, ‘নেগেটিভ বিষয় হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেরএকটি কার্যক্রম চলছে। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীক হিসেবে কালো রঙের ভয়ংকর কিছু ফিগার (মুর্তি) তৈরি করছি, যা দেখে সাধারণ মানুষ ভয় পাবে এবং যুদ্ধারাপরাধীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি করবে। ভয়ংকর এই মানুষগুলোকে ঘৃণা দেখানোর জন্যই এই ফিগারগুলো তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া বাঘ, পেঁচা, খরগোশের মুখোশ এবং পেপার ম্যাসেজ হিসেবে রঙিন কাগজে মানুষের জন্য কিছু মেসেজ (বার্তা) থাকবে।’
তিনি জানান, নিসার হোসেন, শিশির ভট্টাচার্য, আবুল বারাকাত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করছেন। মঙ্গল শোভাযাত্রো উপলক্ষে মুখোশ বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৬০০০ টাকা, টি শার্ট ৩০০ টাকা, সরা ৩০০ ও ৫০০ টাকা এবং ছবি ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা।
বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৪, ২০১২
সম্পাদনা: রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর