 |
| ছবি: হারুন/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: সাইদুর রহমান পেশায় একজন টোকাই। তবে অন্য টোকাইদের সঙ্গে তার একটু পার্থক্য রয়েছে। তিনি রাতে ভ্যান নিয়ে ঘুরে ঘুরে রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজ ও বোতল সংগ্রহ করেন। আর দিনের বেলায় তা বিক্রি করেন রায়ের বাজারের ভাঙারির দোকানে।
রাত ৩টায় আসাদগেট এলাকায় সাইদুর রহমান একটি ভ্যানে করে একটি বস্তা নিয়ে যাচ্ছিলেন।
বস্তায় কি আছে, জানতে চাইলে খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেন, “কাগজ ও পেলাষ্টিকের বোতল। রাইতে ঢাকার রাস্তায় ঘুইরা এইগুলা টুকাইছি। দিনে রায়ের বাজারের ভাঙারির দোকানে বেচুম।”
এগুলো বিক্রি করে কত টাকা পাওয়া যাবে, তিনি বলেন, “কুনোদিন ৩০০ আবার কুনোদিন ৩৫০ ট্যাহাও অয়।”
এর বাইরে কিছু করেন না? জবাবে জানালেন, “আগে রিস্কা চালাইতাম ভাইজান। কিন্তু, গরমের মদ্যে খুব কষ্ট অয়। তাই অহন রাইতে শুধু এই কাম করি। আর দিনে কিছুই করি না।”
সংসারে সদস্য সংখ্যা কয়জন, জানতে চাইলে বলেন, “৩ পোলা। বড়ডার বয়স ৫, মাইজ্জাডার বয়স ৩ আর কুট্টিডার এক বচ্ছর। আর আমার বউসহ মোটের মধ্যে ৫ জনের সংসার ভাইজান।”
এ আয়ে সংসার ঠিকমতো চলে? এমন প্রশ্নের জবাবে সাইদুর রহমান বলেন, “চলতে কষ্ট অয়, হের লাইগা বউ সকালতোন দুফর পর্যন্ত কাগজ ও পেলাষ্টিকের বোতল টোহায়। হেইয়া বেইচ্চা ১০০-১৫০ ট্যাহা আয় অয়। এইয়া দিয়া খাওন খরচ চলে। কিন্তু, ঘর ভাড়া ঠিকমতো দিতে পারি না। গত মাসের ভাড়া এহনও দেওন হয় নাই।”
এভাবেই সাইদুর রহমান তার জীবনযাপন সম্পর্কে বলছিলেন।
তবে সাইদুর রহমানের দৈনন্দিন আয় হিসেব করলে দেখা যায়, প্রতি মাসে তার আয় অন্তত ৯ হাজার টাকা। এর পরেও তাকে বাড়ি ভাড়া দিতে হিমশিম খেতে হয়।
কিন্তু, বর্তমানে আমাদের দেশের একজন পোশাক শ্রমিকের প্রতি মাসের বেতন ৩ হাজার টাকা। আর এ অর্থ দিয়ে সংসার চালাতে শ্রমিকদের কতটা হিমশিম খেতে হয় তা সাইদুর রহমানের সঙ্গে তুলনা করলেই সহজে অনুমান করা যায়।
এ অসহনীয় কষ্ট থেকে রক্ষা পেতেই শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার টাকা করার দাবি করেছেন। কিন্তু, হাজার হাজার কোটি ডলারের পোশাক শিল্প মালিকদের পক্ষে তা খুবই কষ্টসাধ্য হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
নানা দোহাই ও অজুহাত দেখিয়ে বলছেন, পোশাক শিল্প বিশ্বমন্দার ফলে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।
কিন্তু এই শিল্প মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ২১.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় শতকরা ৭ শতাংশ বেশি।
এভাবেই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে পোশাক শিল্প। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এটাই প্রত্যাশা সকলের।
কিন্তু, যারা এ শিল্পের চাকাকে সচল রাখছেন তারা কি সাইদুর রহমানের মতো সমান আর্থিক সুবিধাও পেতে পারেন না? শ্রমিকদের ঘামের বিনিময়ে শীততপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল গাড়িতে ছুটে চলা মালিকরা কি এর উত্তর দেবেন?
বাংলাদেশ সময়: ০৩৫৫ ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা : আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর