 |
| ঈদের কোলাকুলি/ ছবি: মোশাররফ/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: ঈদ অনন্য উৎসবের, অফুরন্ত আনন্দের। ধনি-গরিব এক কাতারে নেমে আসার দিন। একে অপরকে জড়িয়ে ভ্রাতৃত্বকে সুদৃঢ় করার ক্ষণ। এমনটিই হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। ঈদের অপার আনন্দে মেতে উঠছে সবাই, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দ বর্ণনা করার মতো নয়! আত্মশুদ্ধি ও সংযমের পুরষ্কার হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য এই ঈদ উৎসব দেওয়া হয়েছে। আর ‘ঈদ’ শব্দটির অর্থও বার বার ফিরে আসা। উৎসবের আনন্দ বার বার ফিরে আসে বলে আরবিতে ‘ঈদ’ বলা হয়েছে। একইভাবে ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ হচ্ছে, ভেঙে ফেলা। যেহেতু, ঈদুল ফিতরের মধ্য দিয়ে একমাসের রোজার সমাপ্তি ঘটে, রোজাকে ভাঙা হয়, তাই এই দিনটিকে ‘ঈদুল ফিতর’ বলা হয়।
কেমন করে এলো ঈদুল ফিতর, এ বিষয়ে জানতে হলে হাদিসেই পাওয়া যাবে স্পষ্ট ধারণা। তবে এ উৎসব রাসুল সা. মদিনায় হিজরতের পরে চালু হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। হিজরতের আগে মুসলমানদের মধ্যে ঈদ-উৎসব সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না।
সে সময়ে মদিনার বাসিন্দারা দু’টি বড় উৎসব পালন করতেন। বসন্ত পূর্ণিমায় মিহিরজান ও শরৎ পূর্ণিমায় নওরোজ নামের বৃহৎ এ দু’টি উৎসব মদিনাবাসীকে আনন্দে ভাসাতো। তবে, এই উৎসব কেবল উৎসবের সীমাবদ্ধ ছিল না, এটা ঘিরে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো বলেও ইতিহাসে পাওয়া যায়।
রাসুল সা. মদিনায় হিজরতের প্রথম বছরেও রোজা পালনের নির্দেশ ছিল না। দ্বিতীয় বছর রমজান মাস থেকেই মুসলমানদের ওপর ৩০ দিন রোজা ফরজ হয়। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে সংযম ও আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্যই মূলত রমজানের পুরো একটি মাস রোজার বিধান ইসলামে বিন্যাস করা হয়। এ বিষয়ে কোরআনেও বলা হয়, “তোমাদের মাঝে যে এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা পালন করে।”
হিজরি দ্বিতীয় বছরেই সংঘটিত হয় বদর যুদ্ধ। এ বছর ১৭ রমজানের এ যুদ্ধে মুসলমানরা মাত্র ৩১৩ জন সেনা নিয়ে হাজার সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। সে যুদ্ধে আল্লাহর বিশেষ সাহায্যে জয় আসে মুসলমানদের ভাগ্যে। একদিকে একমাসের রোজা আবার রোজার মাসে সীমাহীন রহমত লাভ এবং একই মাসে অভূতপূর্ব বিজয়, এই দুই আনন্দ একসঙ্গে যোগ হলো মুসলমানদের জন্য। দু’টি আনন্দ উদযাপনের জন্য সে বছরই রাসুল সা. ‘ঈদুল ফিতর’ উদযাপনের ঘোষণা দেন। সেই থেকে শাওয়ালের প্রথম দিন নির্ধারিত হয়ে ‘ঈদুল ফিতরের’ জন্য।
তবে কেবলই আনন্দের জন্য নয়, ঈদুল ফিতরে মুসলমানদের জন্য রাখা হয়েছে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার শিক্ষা। এ দিন ছোট-বড়, ধনি-গরিব, মালিক-শ্রমিক সবাইকে এক কাতারে শামিল হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেন পুরো জাতির মধ্যে স্থাপিত হয় অনন্য ভ্রাতৃত্ব, উদার আন্তরিকতা।
পারস্পরিক সৌহার্দ্যবোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টির জন্য ঈদের বিকল্প নেই। ঈদ যে বিভেদের প্রাচীর ভাঙার আহ্বান নিয়ে আসে, সেই অনুশীলন সবার মধ্যে সারাবছর ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ইসলামে। এ এক অন্যরকম চেতনার শিক্ষা; যেখানে বৈষম্যের সব প্রাচীর চূর্ণ করে ভালোবাসার উদ্যান নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাই তো, ঈদ এলেই সবাই আনন্দে মেতে ওঠে একই সুরে, সম্মিলিতভাবে। উঁচু-নিচুর পার্থক্য পায়ে দলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গড়ে তোলা হয় আন্তরিক এক বন্ধন। কোলাকুলি আর জড়িয়ে ধরার মাধ্যমে মনের কালিমা যেমন দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, তেমনি জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ভালোবাসার উজ্জ্বল আলো।
বাংলাদেশ সময়: ০৬২৮, আগস্ট ২০, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর