 |
(লুনা রুশদীর প্রতি...)
অস্ট্রেলিয়া
গভীর রাতের জন্য অপেক্ষা— কখন হবে তোমার সকাল? চারঘণ্টা এমন দূর যা কখনও অতিক্রান্ত হবে না অপেক্ষায়। সুর হারিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে বিভ্রান্ত স্যাক্সোফোন, অবুঝ বেলুনবাঁশির ঘ্রাণ। জেগে আছে মানচিত্র, জলের বাঁধ— লবণের পথ থাকে বাকি। আমিও জেগেই থাকি— ইচ্ছাঘুম পোষে এক ইনসমনিয়া পাখি; অত্যন্ত অসুখ নাকি। এক বায়বীয় চোরাদ্বীপ— অজ্ঞাতবাসে আজ গড়েছে জনপদ, তোমার বিছানাও অজ্ঞাত, চরাচরে পাতা আছে অন্তর্জাল, উপজগত্, অনন্ত তালিকা। সংখ্যাসভ্যতা আর রাতের আকাশে পার্থক্য নয়, লুকিয়ে থাকে ধাঁধা, ক্যাঙারুর বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে জিজ্ঞাসা, স্বপ্নে তার উড়ালচিহ্ন— দুর্বোধ্য উঁকি। গভীর রাতে স্বপ্ন আমি পাজলে মেলাই অথবা নিজের ছায়ার সাথে সাপলুডু খেলি— তোমার সকাল থাকে অপেক্ষায়।
আইটেম গার্ল
ক্যাথরিনকে মনে হলে অন্য সবার মতো নপুংসকের ভেতরেও জেগে ওঠে গোপন হারেম— কামনার অজস্র ভাষা ওড়ে হেমরঙ পাখা নিয়ে শীতাতপ গুমোটে। শিরাপথে স্ট্যালিয়ন গতি— মেক্সিকান বুনোবাতাস। তবু সেই অভেদ্য দূরপথ, রুপালী আলোকবর্ষ আকাশে একক উজ্জ্বলতা নিয়ে থাকে— ক্যাথরিন। রেফ্রিজারেটরে বাড়ছে এলকোহলিক দাবি, অগনিত দরজায় তালার বদলে ঝুলছে সুইসাইড নোট, প্রান্তর ভরে যাচ্ছে জিরাফের স্বমেহন শীত্কারে, ক্রমশ নিঃশ্বাসে বাড়ছে ম্যানিলার শাসন, পালকের গোলাপি জুতোর ফিতে খোলার অবদমন, বিচ্ছিন্ন ঘটনার সেলুলয়েড স্রোত— অবলোহিত অন্ধকার দৃঢ় হয়ে আসে। দেয়ালে তেমনই থাকে— পোস্টারে রচিত উপদেয়াল, মেঝেগামী সরীসৃপের চিরবিস্ফারিত চোখে রচিত হয় নপুংসকের অন্তিম গ্লানির পোর্ট্রেট। হারেম রচিত হয় ফ্যাশন বাজারের দুর্দান্ত আসবাবে— প্রতিবার নিহত হবার পর লুকোনো আলো নামে ক্যাথরিনের সুদৃশ্য বাথটাবে।
যাত্রাবিরাম
এইবার আমার চেহারা তুমি হিমাঙ্ক সারণিতে তুলে দিতে পারো ক্যাথরিন। জলের দেশে এতো জল, তবু পিপাসায় মরুমরণ পায় লোকে— এত হাহাকার! পৃথিবীর সমস্ত ভাঙা থার্মোমিটারের অন্তিম পারদ চিত্কার যতই তোমার উত্তাপ বন্দনা করে চলুক, জেনে রেখো, এপিটাফের পাথর সর্বদাই হিমাঙ্কবিদ্যায় সুশীতল।
উত্তাপের দেবী হে ক্যাথরিন, সন্ধ্যার কফির কাপে তোমার বেগুনি চুম্বন অথবা এক একটি জাগতিক ফুঁ— সবাই আসলে সমাধির হিমফলকের নির্মাণকর্মী।
বাংলাদেশ সময় : ১৬৩০ ঘণ্টা, ১১ অক্টোবর, ২০১২