 |
ময়মনসিংহ: নয়া উদ্যমে ১৮ দলীয় জোট বিশেষ করে ময়মনসিংহ দক্ষিণ ও উত্তর জেলা বিএনপি নেতা-কর্মীদের জাগিয়ে তুলতে বৃহস্পতিবারের গণমিছিল টনিক হিসেবে কাজ করবে মনে করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।
ক্ষমতাসীন সরকারের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে এ গণমিছিল আয়োজন করা হলেও দক্ষিণ ও উত্তর জেলা বিএনপি নেতা-কর্মীদের মতে, এ গণমিছিল হচ্ছে বিএনপিকে জাগিয়ে তোলার মিছিল। যে কারণেই অনেকেই এ গণমিছিলের নাম দিয়েছেন ‘জাগরণের গণমিছিল’।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ গণমিছিলকে জনারণ্যে পরিণত করে ক্ষমতাসীনদের বড় ধরনের ধাক্কার বার্তাও দিতে চান দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
দক্ষিণ ও উত্তর জেলা বিএনপি’র মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী বাংলানিউজকে বলেন, “২৭ অক্টোবর ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে খালেদা জিয়ার জনসভার পর ময়মনসিংহে বিএনপি’র বড় ধরণের কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই।”
ওই জনসভার প্রায় ৯ মাস পর ২০ সেপ্টেম্বরের এ গণমিছিলের মাধ্যমে বিএনপি নেতারা দারুণভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠবেন। সামনে রাজপথে সরকার বিরোধী আন্দোলনে এ গণমিছিল প্রভাবকের ভূমিকা নিতে পারে।”
ত্রিশাল বিএনপি’র কর্মী রতন, আবুল হোসেন ও শাকিল আহমেদ মনে করেন, “বড় ধরনের কোন কর্মসূচি না হলে দলীয় নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা হয়ে ওঠেন না। ৬ মাস অন্তর অন্তর এ ধরনের কর্মসূচি থাকলে বাড়তি উদ্দীপনা কাজ করে দলের কর্মীদের মাঝে। ঝিমিয়ে পড়া সরকার বিরোধী আন্দোলনে গতি আনতে এ ধরনের কর্মসূচির কোন বিকল্প নেই।”
কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি শাহাবুল আলম জানান, ময়মনসিংহের মাটি হচ্ছে বিএনপি’র ঘাঁটি। জাগরণের এ গণমিছিল জনসমুদ্রে পরিণত হবে। এতে সরকারের হৃদকম্পন থেমে যাবে।”
এ ছাত্রনেতার ভাষ্য মতে, “সরকার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সমাজের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে দলীয় নেতা-কর্মীরা ফুরফুরে মেজাজ ফিরে পাবেন। যা সামনের আন্দোলন সফলে রীতিমতো টনিক হিসেবে কাজ করবে।”
ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল করিম বলেন, “সরকার ক্রমশ দুর্বল হয়ে গেছে। ময়মনসিংহে বিশাল গণমিছিলের পর সরকার পালানোর পথ খুঁজে পাবে না। কারণ, এ গণমিছিলে রেকর্ড পরিমাণ গণজমায়েত ঘটবে। যা সরকারকে পালানোর সংকেত দেবে।”
ময়মনসিংহ জেলা ইসলামী ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মওলানা আবু তাহের খান বলেন, “এ গণমিছিলের পর শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক বহাল করতে বাধ্য হবেন। এ ইস্যুতে ১৮ দলীয় জোটের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করবে তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া এ দেশে কোন জাতীয় নির্বাচন হবে না।”
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ মনে করেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এ জাগরণ ধরে রাখতে এ গণমিছিল গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
বাংলাদেশ সময়: ২০৫৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১২
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর