১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, রবিবার মে ২৬, ২০১৩ ১২:০১ এএম BDST banglanew24
25 Jan 2013   07:30:28 PM   Friday BdST
E-mail this

বগুড়ায় স্কুলছাত্র হত্যা

১১ মাসেও বিচার হয়নি, পরিবার নিরাপত্তাহীন


টি. এম. মামুন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
১১ মাসেও বিচার হয়নি, পরিবার নিরাপত্তাহীন বগুড়ায় স্কুলছাত্র হত্যা

বগুড়া: ১১ মাসেও গ্রেফতার হয়নি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় স্কুলছাত্র পারভেজের হত্যাকারীরা। বরং পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেও হত্যাকারীদের হুমকির মুখে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে স্কুল ছাত্রের পরিবার।

তবে আসামি গ্রেফতার না হওয়ার জন্য যমুনা নদীর ভাOনকেই দায়ী করেছে পুলিশ। তাদের মতে, নদী না ভাঙ্গলে আসামিরা যথাস্থানে কোনো না কোনো সময় ফিরে আসতো, আর তখনই পুলিশের হাতে ধরা পড়তো।

এদিকে, স্থানীয়রা বাংলানিউজকে জানান, পুলিশ ইচ্ছে করলে নদী ভাঙ্গনের আগে ৭/৮ মাসের মধ্যেই আসাwgদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে পারতো। কিন্তু বিশেষ উদ্দেশ্যে তা করা হয়নি। এর ফলে নিরাপরাধ এক মেধাবী সন্তানকে হারিয়েও বিচার পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।  

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহতের বাবা লাল মাহমুদ ঢাকায় গার্মেন্টেসের ঝুট কাপড়ের ব্যবসায়ী। মোশারফ হোসেন পারভেজ উপজেলার চন্দবাইশা ডাকবাংলা এলাকায় দাদীর বাড়িতে থেকে চন্দনবাইশা নওখিলা পি.এন. উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীতে পড়ালেখা করতো। ছাত্র হিসেবে সে ছিল মেধাবী।

টাকা ধার ও ফেরত চাওয়া সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০১২ সালের ৬ ফেব্রyয়ারি এলাকার উজ্জল, আলম, ওয়াসিমসহ অন্যরা হত্যার উদ্দেশ্যে পারভেজকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী কামালপুর ইউনিয়নের রহদহ বাজারের পাশে যমুনা নদীর তীরে ছুরিকাঘাত করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।

এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ ফেব্রয়ারি রাতে পারভেজ মারা যায়।

এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি নিহতের বাবা লালমিয়া বাদী হয়ে একই ইউনিয়নের ৬ জনের নাম উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা (নম্বরঃ ৫/তারিখঃ ০৯-০২-২০১২) দায়ের করেন। তবে পারভেজের মৃত্যুর পর পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগের মামলার সঙ্গে হত্যা মামলার ধারাটি সংযোজন করা হয়।    

পারভেজের বাবা লাল মাহমুদ বাংলানিউজকে জানান, হত্যাকারীদের হুমকির মুখে তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই বাড়িঘরের জায়গা নদীতে ভেঙ্গে গেলেও পাশ্ববর্তী কোথাও আর বসতি স্থাপনের সাহস করেননি। কারণ মামলা করার পর থেকেই আসামিরা তাদের মেরে ফেলার একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তারপরও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট চন্দনবাইশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিহাদুল ইসলাম জিহাদ বাংলানিউজকে জানান, পুলিশের উচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করা। কিন্তু সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো কালক্ষেপণ করায় বিচারকাজ বিঘিœত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সারিয়াকান্দি থানার এসআই আব্দুল মজিদ বাংলানিউজকে জানান, পারভেজ মূলত ভাল ছাত্র হলেও কিছুটা অসৎ সঙ্গে যাওয়ায় তার এ পরিণতি হয়েছে। মৃত্যুর আগে আসাwgদের কাছে ধার দেওয়া টাকা চাইতে গেলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির আপোষ-মীমাংসা করা হলেও এ ঘটনার জের ধরেই পারভেজকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারYv করেন তারা।

তিনি আরও জানান, সবকিছুই হতো যদি যমুনা নদীতে ভাঙন না হতো। কেননা ভাঙ্গনের ফলে ঘটনাস্থলসহ আসাwg ও বাদীর বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাই ইচ্ছে থাকলেও আসামীদের সহজেই গ্রেফতার করা যাচ্ছেনা। তবে খুব শিগগিরই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৭ ঘণ্টা, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৩
সম্পাদনা: হাসান শাহরিয়ার হৃদয় I রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান