বাজেটে সৃজনশীল বইয়ের প্রকাশনায় বরাদ্দের দাবিতে শুক্রবার, বিকাল ৫টায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রকাশকদের মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে দেশের প্রতিনিধিত্বশীল বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশকগণ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও গোষ্ঠী সরকারের কাছে বাজেট-পূর্ববর্তী বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পেশ করে থাকেন। পোশাক শিল্প-গার্মেন্ট শিল্প, চামড়া শিল্প, ইলেকট্রনিক, হস্তশিল্প, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যসহ সব রকম ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে নিজেদের শিল্পকে আরো বিকাশমান করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্নভাবে তাদের বাণিজ্যিক সহযোগিতা দেয়া হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রায় প্রতিটি বাজেটেই দেশের প্রায় প্রতিটি সেক্টর সরকারের দৃষ্টিগোচর হলে অবহেলায় দৃষ্টিসীমার বাইরে থেকে যায় আমাদের সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্প।
অথচ কোন বিষয়টি নেই আমাদের প্রকাশনায়? রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, রাষ্ট্রনীতি, ধর্ম, ইতিহাস, ভূগোল, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, আইন, খেলাধূলা, স্বাস্থ্য-পরিবেশ, বিজ্ঞান ঘুরে-ফিরে বিষয় হিসেবে এসেছে এ প্রকাশনায়। জ্ঞানভিত্তিক কিংবা মেধাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাই বইয়ের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
বর্তমান সরকারের ‘ভিশন টোয়েন্টি টোয়েন্টি’ বাস্তবায়ন, কিংবা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান সহায়ক শক্তি হলো দেশে একটি মেধাভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলা। আর এ মেধাভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রধান সহায়ক প্রথম পদক্ষেপই হলো পাঠ্যাভ্যাস তৈরি করা, সমাজে রিডিং সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করা। আর এ রিডিং সোসাইটি প্রতিষ্ঠায় প্রকাশকদের সরকারের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।
বই প্রকাশনা ও বিপণন সমবায় সমিতি আয়োজিত প্রকাশকদের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জনাব মেসবাহউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ রহমতউল্লাহ রাজন, সাঈদ বারী, ফয়সল আরেফিন দীপন, রবীন আহসান, খন্দকার সোহেল, অস্ট্রিক আর্যু, মাহাবুবুর রহমান, সুশোভন ইফতেখার, শওকত হোসেন লিটু, রামশংকর দেবনাথ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ সময় ১৪৪২, জুন ৯, ২০১২
সম্পাদনা : ফেরদৌস মাহমুদ, শিল্প-সাহিত্য সম্পাদক