ঢাকা: এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার দিন হরতাল না দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পাশাপাশি ক্ষতিকর যেকোন রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
রোববার সকালে ১০টায় রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস হাইস্কুলে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী নরুল ইসলাম নাহিদ এ আহবান জানান।
এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, এখন যারা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এরাই একসময় জাতির ভবিষ্যৎ। এরা আমাদেরই সন্তান। আমাদের সন্তানরা যেন সঠিকভাবে তাদের জীবন গড়তে পারে সে ব্যাপারে আমাদেরকেই খেয়াল রাখতে হবে।
তাই পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্যে কোন ধরনের ক্ষতিকর ও হয়রানিমূলক রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেওয়ার জন্যে আহবান জানাই।
বিশেষ করে পরীক্ষার দিনগুলোতে হরতাল না দেওয়ার জন্যে বিশেষ আহবান জানান তিনি।
সারাদেশে নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা চলছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা। ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, একটি মাদ্রাসা বোর্ড এবং একটি কারিগরি বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৭৫৮টি কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ২০৩ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত।
পরীক্ষায় প্রতিবন্ধীরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২০ মিনিট বেশি পাবে বলেও মন্ত্রী জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৬৮ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯৩৫ জন ছাত্রী। এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এক লাখ ১৬ হাজার ৪৬৫ জন কম।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৩টি। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এসএসসিতে ৯ লাখ ৮৯ হাজার, দাখিল পরীক্ষায় ২ লাখ ২৫ হাজার ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় ৮৮ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
পরীক্ষা চলবে আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে ৬ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত। বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, গণিত ও উচ্চতর গণিত ছাড়া এবার অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের বাইরে জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপলী, দোহা, আবুধাবি, দুবাই ও বাহরাইনেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯৩, যা গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১১২০ঘণ্টা; ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৩
এমএন/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর