 |
ঢাকা: ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় শনিবার এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী রাষ্ট্র সুদান ও দক্ষিণ সুদানের প্রেসিডেন্ট। গত এপ্রিলে উভয় দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত শুরুর পর এই প্রথমবারের মত মুখোমুখি হলেন পরস্পর বৈরী রাষ্ট্রদু’টির শীর্ষ নেতারা।
আফ্রিকান ইউনিয়ন সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অবস্থান করছেন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা। সেখানেই সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির এবং দক্ষিণ সুদানের প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
দীর্ঘ সংঘাত শেষে ২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে দক্ষিণ সুদান। তবে বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে অনেক বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যার মধ্যে উভয় দেশের সীমান্তে অবস্থিত মূল্যবান তেলখনিগুলোর কর্তৃত্ব অন্যতম।
চলতি বছরের শুরুতে সীমান্ত নিয়ে উভয় দেশের বিবাদ শেষ পর্যন্ত সামরিক সংঘাতে গড়ায়, যার ফলশ্রুতিতে প্রায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলো দেশদু’টি।
সীমান্ত নিয়ে দ্বন্দ্ব ছাড়াও সুদানের ভেতর দিয়ে রপ্তানি হওয়া দক্ষিণ সুদানের তেলের রাজস্ব এবং বিভক্ত হওয়ার আগে অখ- সুদানের জাতীয় ঋণের দায়ভারের অংশীদারিত্বসহ আরও অন্যান্য বিষয়ে বিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার উভয় নেতার বৈঠকের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। তবে সাংবাদিকদের সামনে তারা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলান বলে জানা গেছে।
আফ্রিকান ইউনিয়ন সম্মেলনের সময় গত জানুয়ারি মাসে উভয় নেতার মধ্যে সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
চলতি সম্মেলনে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের ঘোষিত সময় সীমার আগেই অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য খার্তুম ও জুবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
গত এপ্রিলের সংঘাতের প্রেক্ষিতে আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে তিন মাসের সময়সীমা নিধার্রণ করে দেয় জাতিসংঘ।
এদিকে উভয় নেতার বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সর্বশেষ বৈঠকে কোনো তাৎক্ষনিক ফলাফল আশা করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তারা।
সর্বশেষ বৈঠকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, সমস্যা সমাধানে উভয় দেশই বর্তমানে আন্তর্জাতিক চাপের সম্মুখীন।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১২
সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর